#Murderer_in_the_dark_of_night
#writer_SumaiyaSultana
❌কপি করা নিষেধ ❌
লোকটা চেয়ারে বসতেই মন্ত্রনালয়ের হেড লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলে~
:- Mr. AS যে জন্য আপনাকে ডাকা। সবাই জানে আপনি ততক্ষন পর্যন্ত কোনো কেসে involved হননা যতক্ষন না সেই কেসে অন্য সব ফোর্স হার মানে, আশা করি বুঝতে পারছেন আপনাকে কেনো ডাকা হয়েছে। আপনি নিশ্চয় এই নিউজ পেয়েছেন শহরে এমন এক হত্যা কারি এসেছে যে রাতের অন্ধকারে হত্যা করে লাশের মাথা শহরের মাঝখানে ঝুলিয়ে রেখে যাই।
হেড এর কথায় AS ( AS লেকটার ছন্দ নাম) বল্লো~
:- আমি দেখেছি নিউজে এই হত্যা কান্ডের কথা আর এটাও দেখেছি আপনারা কিভাবে এই কেস হ্যান্ডেল করছেন। আমার নজর সবার উপরেই থাকে। যেহেতু আপনার এই রহস্যের সমাধান করতে পারেনি সেহেতু আমাকেই করতে হবে।
এখন আপনাদের একটাই কাজ আমাকে এই হত্যা কান্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ডিটেইল আমার এসিস্ট্যান্ট এর কাছে জমা দেওয়া। আর সবাইকে আমার কথা মতো চলতে হবে।
AS এর কথায় সবাই একমত পোষণ করে। এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাদের কাছে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর মিটিং শেষ হয় তাদের।
______&________
পড়ন্ত বিকেলে "সূর্য, পশ্চিম আকাশে ঢেলে পড়তেই চারদিকে অন্ধকার নেমে এলো। সন্ধ্যার আকাশ পুরো শূন্য আজ কোথায় চাঁদের দেখা নেই অথচ অন্য দিন সূর্য না ডুবতেই চাঁদ দেখা যেতো। আজ কী? তবে অমাবস্যা।
নেহা আজ নিজে বাড়িতে উঠেছে একে বারের জন্য। এই বাড়ি আরো অনেক বার আসা হয়েছে কাজের করনে এখন থেকে সে এখানে থাকবে। এই বাড়ির কথা নাজমুল হোসেন জানে তবে এটা যানতোনা এটা নেহার নামে। তিনি খুব অবাক হলেন। বাড়িতে এসেছে প্রায় তিন ঘন্টা হয়েছে। বাড়িতে ভিতরে সব কিছু সুন্দর ভাবে পরিপাটি করে সাজানো দেখা মনে হবেনা কেউ থাকেনা।
কয়েক জন মহিলা, এখন এসে সব পরিষ্কার করে দেয় বলতে গেলে সব কাজাই করে দিয়ে যাই যখন নেহা এখানে আসে কিছু সময়ের জন্যে। আজ থেকে তারা এখানেই থাকবে যেহেতু নেহা এখানে থাকবে। একজন এসে চা দিয়ে গিয়েছে নাজমুল হোসেন কে। নেহা বাড়ি থেকে এসেই সেই যে তার রুমে গিয়েছে এখনো বের হয়নি। নাজমুল হোসেন চলে যাবেন ভেবে যেই বের হতে যাবে।
নেহা তাকে পিছন থেকে ডাকলো নেহা কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে তিনি আবার নিজের জায়গায় বসে পড়লেন। নেহা তার সামনে সোফায় বসতে বসতে বল্লো ~
:- আপনি কি বলবেন বলেছিলেন.? না বলেই চলে যাচ্ছেন;
নাজমুল হোসেন কিছু বল্লেন না, তিনি পাঞ্জাবির পকেটে থেকে একটা খাম বের করে নেহার হাতে দিয়ে বল্লেন ~
:- আরিয়া তোমাকে এটা দিতে বলেছে।
নেহা খাম টা হতে নিয়ে বল্লো ~
:- ঠিক আছে আপনি এবার আস্তে পারেন। আরেকটা কথা আপনার বোন কে যেটুকু বলেছেন তাতেই যথেষ্ট। আর কেনো কথা বলার দরকার নেই। অবশ্য আজকে আপার বোনের হাব ভাব ভালো বলে মনে হয়নি। ওনার Reaction আমার কাছে একটু সন্দেহ জনক মনে হলো। আচ্ছা শুনেন, যে সব কাজ বাকি আছে আপনি সামলে নিতে পারবেনতো।
নেহার কথায় নাজমুল হোসেন ঠিক আছে বলেই চলে গেলো।
নেহার কথার ধরনে নাজমুল হোসেন ভালোই বুঝতে পেরেছে নেহা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।তার থেকে কিছু লুকানো হয়েছে। মেয়েটা বড় দ্ররতো সব কিছু আন্দাজ করে ফেলে।
নেহা তার হাতের খাম খুলে দেখলো। একটা কাগজে কিছু নাম আর ঠিকানা লেখা ছিলো আর একটা পাসপোর্ট। নেহা কাগজ আর পাসপোর্ট নিয়ে সিঁড়ির বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে রাহিকে ডেকে তার জন্য কফি দিতে বলে।
রাত সাড়ে বারোটা আয়ান নিজের রুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসে কিছু type করছে। নেহার সাথে কথা বলার পর বাসায় এসে আলিফা রহমান এর কাছ থেকে বকা শুনতে হয়েছে তাকে। তারপর খাওয়া দাওয়া করে সেই যে রুমে ঢুকেছে আর বের হয়নি এর মধ্যে আলিফা রহমান কয়েকবার ডেকেছে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। আয়ান খিদে নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
অনু, রেওয়ান শপিং এ গিয়ে ছিলো বিকালে একটু আগে ফিরেছে। এতো দেরি হওয়ায় তাদের ও বাকা শুনতে হয়েছে আলিফা রহমান এর কাছ থেকে।
অনু আয়ানের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আয়ান কে ডাকে
~ ভাইয়া, আসবো?
~ আই, দরজা খোলা আছে।
আয়ানের উওর পেয়ে অনু রুমে প্রবেশ করে। আয়ানকে সোফায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে তার পাশে বসে। আয়না তাকালো না তার চোখে ল্যাপটপের স্ক্রিনে। তবে type কারা হাত থেমে গেছে।
~ ভাইয়া
আয়ান ল্যাপটপ এর স্ক্রিনে তাকিয়ে জবাব দেয়
~ হুম
~ অনু শুকনো ঢোঁক গিলে বলে।একটা প্রশ্ন করি ?
~ হুম
ভাইয়ের সম্মতি পেয়েও কেনো জানি নি তার বলতে ভয় করছে।
অনুকে আমতা আমতা করতে দেখে
~ কী বলবি? তাড়াতাড়ি বল। আমরা কাজ আছে।
~ ভাই আপুর সাথে তোমার দেখা হয়েছে?
চোখ বুজে অনু এক নিঃশ্বাসে বল্লো কথাটা।
অনুর কথায় আয়ান তাকায় তার বোনের দিকে। অনুর চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে হাসে। সে শান্ত সরে উওর দেয়।
~ হুমম,
আয়ান রাগ করেনি দেখে অনু চোখ খুলে। অনু ভেবে ছিলো আয়ান রেগে যাবে নেহার কথা শুনে। আগে নেহার কথা আয়ান কে জিজ্ঞাসা করলে আয়ান রেগে যেতো। কিন্তু হঠাৎ করে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসার কারন অনু বুঝতে পারেনি। অনু আজ সাহস করে আবার নেহার কথা জিজ্ঞাসা করলো। আয়ান কে শান্ত ভাবে উত্তর দিতে দেখে অনু অবাক হলো। তাই আবার প্রশ্ন করলো,
~ আপু কেমন আছে, আর কোথায় দেখা হয়েছে তোমাদের?
আয়ান আর চোখে অনুর দিকে তাকিয়ে একি ভাবে উত্তর দিলো
~ ভালো আছে কিনা জানিনা তবে,
~ কী হয়েছে ভাইয়া?
অনু জিজ্ঞাসা সুলভ দৃষ্টি তে তাকায় আয়ানের দিকে। অনুকে এমন করতে দেখে আয়ানের খুব হাসি পাচ্ছে। কিন্তু তা বুঝতে দিলো না অনুকে। তার ছোট বোনটা কতটা না ভালোবাসে নেহাকে।তার কথা শুনতে কত আগ্রহী। এই কয়েক বছর কত বার জিজ্ঞাসা করেছ কিন্তু আয়ান কিছুই বলেনি কাউকে, কেনো সে নেহার কাছ থেকে দূরে সরে এসেছিলো। আয়ান নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে।
~ কিছু না।
অনুর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
~ ভাই মজা না করে আমাকে বলোনা তোমাদের কোথায় দেখা হয়ছে?
অনু কিছুটা আহ্লাদী সুরে বলে কাথাটা।
~ কেনো! তুই দেখা করবি?
অনু জল, জল চোখে তাকায়। আর মনে মনে বলে ভাইয়া এতোক্ষণে তুমি আমার মনের কথা বুঝতে পারলে। কত দিন হলো দেখিনা,
~ হু আমি দেখা করবো, নিয়ে যাবে আমায়?
~ যাবো তবে এখন না সময় হলে দেখা করাতে নিয়ে যাবো।
~ সেই সময় কখন আসবে?
আয়ান মনে মনে বলে আগে তাকে সেই আগের মতো আমার করেনি তার পর। অবশ্যয় সে এখনো আমারই আছে তবে সে তা সিকার করেনা ।
~ কি হলো ভাই বলোনা?
~ বলেছি না সময় হলে দেখতে পারবি এখন যা।
~ ভাইয়া!
~ যা।
অনু মন খারাপ করে বেরিয়ে যায় রুম থেকে। নিজের রুমে না গিয়ে রেওয়ান এর রুমে যাই।
রেওয়ান তার শার্ট প্যান্ট আলমারিতে রাখ ছিলো। অনু কে মন খারাপ করে তার রুমে ঢুকতে দেখে তার মন খারাপ এর কারন জানতে চাই। অনু রেওয়ান কে সব কিছু বলে।
~ দেখ ভাইয়া যেহেতু বলেছে সময় হলে দেখা করতে নিয়ে যাবে তো নিয়ে যাবে। অপেক্ষা কর। তোর কি মনে হয় আমার ইচ্ছে করেনা বুঝি আপুর সাথে দেখা করতে।
অনু রেওয়ান এর দিকে তাকায়।
~ আচ্ছা রেওয়ান আপুর কি আমাদের কথা একবার ও মনে পড়েনি ?
~ হয়তো হ্যাঁ। আমরা যতটা না তাকে ভালোবাসি তার থেকেও বেশি আমাদের ভালোবাসে আপু। হতে পারে আপুর সাথে এমন কিছু হয়েছে যার কারনে আপু আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেনা।
~ হতে পারে।
~~~&~~~~~~~
সকাল সাড়ে সাতটা এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গে নেহার। জানালা সাদা পর্দা ভেদ করে সূর্যে হালকা কিরন রুমের প্রবেশ করে পুরো রুম আলোকিত করে তুলেছে। নেহা অলস ভঙ্গিতে উঠে বসলো। হাত বাড়িয়ে বিছানা পাশে ছোট টেবিলের উপর বাজতে থাকা এলার্মটা বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়লো। যেনো তার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ এটাই। কিন্তু তা আর হলোনা, রিংটোন এর আওয়াজে তার মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট দেখা গেলো।
মনে মনে একশো একটা গালি দিলো তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য। কানে বালিশ চেপে ঘুমানোর চেষ্টা করলে কিন্তু পারেনি। একাধারে মোবাইল বেজেই চলেছে।
পরিশেষে আর না পেরে মোবাইল হাতে নিলো, মোবাইলের স্ক্রিনে এসিস্ট্যান্ট নামটা বেশে উঠলো। এই নামটা কয়েক দিন ধরে তাকে বড্ড ডিস্টার্ব করছে। বিরক্তি নিয়ে নেহা কল রিসিভ করতে ওপাশ থেকে পুরুষালি কন্ঠে শান্ত তবে কিছুটা গম্ভীর শোনা গেলো।
~ Good morning mam.
এপাশ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে আবার শোধরালো
~ mam শুনছেন?
~ হুম, তোমার যা বলার আছে বলে তাড়াতাড়ি বিদায় হও।
নেহার কথায় স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। তা বুঝতে পেরে মুন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে না বলে সোজাসুজি বল্লো।
~ ৩০ তারিখে অফিসে মিটিং, স্যার জিজ্ঞাসা করেছিলো আপনি কবে আসবেন?
~ তোমার স্যার কে বলে দাও আমি আসতে পারবোনা।
~ ম্যাম তাহলে মিটিং এর কি হবে এই প্রজেক্ট তো আপনি হ্যান্ডেল করছেন আপনি না এলে শেয়ার হোল্ডাররা ঝামেলা করবে।
~ করলে করুক।
সামাদ আজাদ চৌধুরী মুনের পাশে এজি চেয়ারে বসে নেহার সব কথা শুনছিলো। নেহার এমন হেয়ালি তার পছন্দ হয়নি। তিনি মুনের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নেহার উদ্দেশ্যে বল্লো।
~ করলে করুক মানে কী? শুনো তুমি প্রজেক্ট কমপ্লিট হওয়ার পর যা ইচ্ছে করো। তবে আমার কম্পানির কোনো ক্ষতি যেনো না হয়। এই প্রজেক্ট তুমি শুরু করেছো। আমাকে জিজ্ঞাসা ও করোনি। তোমার এমন হেয়ালি আমার পছন্দ হয়েছে না।
এই প্রজেক্ট এর ৩০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে। যদি প্রজেক্ট ফেল হয়। তহলে আমার এতো বছরের গড়ে তোলা কম্পানি কতটা ক্ষতি হবে বুঝতে পেরেছো তুমি। আমার মেয়ে হয়ছে তুমি যদি ভাবো তুমি বেঁচে যাবে তাহলে এটা তোমার ভুল ধারনা।
আমি চাই না আমরা কম্পানির কোনো ক্ষতি তোমার জন্য হক। তোমাকে যেনো ২৯ তারিখে বাড়িতে দেখতে পাই বুঝতে পেয়েছো কি বলেছি আমি।
আজাদ চৌধুরী মুনেকে মোবাইল দিয়ে চলে গেলেন নেহার কোনো কথা শোনার প্রয়োজন মনে করেনি।
নেহা এতোক্ষণ হজম করা রাগ মুনের উপর ছাড়লো। বেচারা দোষ না কেরোউ দোষী হলো। তার মনে হলো এই বাপ আর মেয়ের মধ্যে থেকে কেউ যদি তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতো তাহলে তাকে মাথায় করে রাখতো।
আজ সোমবার তাই নেহা কলেজে যাবে না। তার রুটিন টা ছিলো এমন রবি- বৃহস্পতিবার কলেজে যাবে আর বাকি চার দিন পার্টটাইম জব। কিন্তু আজ কাজে যেতে তার ইচ্ছে করছেনা। তাই নাস্তা করে তার গিটার নিয়ে বারান্দায় এসে বেতের সোফায় পা উঠিয়ে বসে। গিটারে সুর তুলে গাইতে লাগলো~
"ভাবতে ভাবতে তারে দেখি।
চোখ মেলিলেই স্বপ্ন জানি,
তবুও আমি তারে খুঁজি।"
"তার দহনে পুড়াই মরি,
তবুও যে ভাবি আমি
কতটা না ভালোবাসি।"
( নিজের কিছু অনুভূতি)
নেহার মানে যা আসছে গিটারের সুরের সাথে তাল মিলিয়ে গাইতে লাগলো। বাড়ির পিছনে কিছুটা দূরে একটা ভলিবল এর কোড আছে। নেহার
বারান্দা বরাবর বড় গাছের কারনে কিছুটা অস্পষ্ট দেখা যায় নিচ থেকে বারান্দাটা।
কোড এর পাশে একটা বেঞ্চ এ বসে পানি পান করছে সুঠাম দেহের অধিকারী এক যুবক গায়ে জগিং সুট পায়ে স্যু গায়ের রং ফর্সা জগিং করায় পুরো মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
পানি পান শেষে বাকি পানি মাথায় ডালার কারনে চুল গুলো কপালে লেপটে আছে। লোকটার শুনলো গিটারের তালে গাওয়া গান। গানের আওয়াজ অনুসরণ করে খুঁজে কোথায় থেকে আসছে । আওয়াজ অনুসরণ করে বুঝতে পারে সামনের বাড়ি থেকে আসছে। তাকায় সেদিকে অস্পষ্ট দেখতে পাই একটা মেয়ে গিটার নিয়ে বসে আছে। তবে মেয়েটিকে
ঠিক মতো দেখতে না পাওয়ায় মুখ কুঁচকে নেয় । তার দেখতে ইচ্ছে করছে কে সে যে এতো সুন্দর সুর তুলে গান গাইছে ।
পিছন থেকে রাহি ডাকার কারণে নেহা থামে। বারান্দা থেকে রুমে চলে যাই।
লোকটা গান থেমে যাওয়া কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভেবেছিলো আবার গাইবে। ১০ মিনিট পার হওয়ার পরোও যখন দেখলো গানের সুর শুনতে পাই না তখন হতাশ হয়ে তার গন্তব্যে রওনা দিলো।
_____________________________________________________________
আয়ান কলেজে এসে নেহাকে খুঁজে ক্লাসেও পাইনা। কাকে জিজ্ঞাসা করবে একজন শিক্ষক হিসেবে তাও নতুন এভাবে একজন শিক্ষার্থীর খোঁজ নেওয়া ভালো দেখায় না। আয়ান বুঝতে পারেনা কেনো নেহা কলেজে আসেনি। নেহার নাম্বার যেটা ছিলো সেটা কল করে বুঝতে পারে নেহা নম্বর চেঞ্জ করছে। আয়ানের রাগ হয় খুব নেহার নাম্বার কোথায় পাবে ভাবতে মনে পড়লো কলেজের ওয়েবসাইটে তো সব ডিটেইল সাথে নাম্বার আছে কিন্তু কিভাবে নিবে। আয়ান ক্লাস শেষ করে কম্পিউটার রুমে ঢুকে, তার দরকারি কিছু কাজ আছে বলে। নাম আর রোলদিয়ে নেহার আইডি টা দেখে সেখানে নাম্বার পেয়েও যাই।
আয়ান নাম্বার ডায়েল করে কল দেয় একবার দুবার তিনবার চতুর্থবার কল রিসিভ হয়। আয়ান কেনো কথা বলা না আগবাড়িয়ে।
মুনের কল ধরার পরে নেহা মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখে। একটু আগে নিচ থেকে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছে তিনবার আবার কল আসায় নেহা রিসিভ করে।
~ হ্যালো! কে বলছেন?
আয়ান এখনো চুপ
~ আরে আজব তো, হ্যালো কে আপনি এভাবে কল দিয়ে চুপ করে আছেন কেনো?
আয়ান এবার উওর দিলো
~ তোমার কন্ঠ শুনবো বলে।
নেহার চিনতে কষ্ট হলোনা কে ।
আয়ান আর কিছু বলবে তার আগে কল কেটে দিলো নেহা।
আয়ান জানতো নেহা তার কন্ঠ শুনলেই কল কেটে দিবে তাইতো প্রথমে কথা বলেনি। আয়ান আরেকবার কল দিলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা। তাই আয়ান ও আর কল দিলোনা, নাম্বার সেভ করে নিলো।
নেহা ভাবতে পারেনি এতো তাড়াতাড়ি আয়ান তার নাম্বার পেয়ে যাবে। নেহা তাকালো মেবাইলের দিকে ব্লক করবে নাকি করবেনা চিন্তায় পড়ে গেলো।
________________________________________________________
নাহিদুল ইসলাম আজ কাজে যাননি। আজ তার বোনের বাসায় যাবেন তাই। তার বড় ভাগ্নের আজ বিয়ের কথাবার্তা পাক করবেন। নাহিদুল ইসলাম নাজমা বেগম কে ডাকলেন। নাজমা বেগম আসতেই তিনি নেহার কাথা জিজ্ঞাসা করেন~
~ নেহা কোথায় নাজমা? ওকে ডাকো আমার কথা আছে তার সাথে।
নাজমা বেগম কি বলবেন কিছু বুঝতে পারছেনা।
~ কি হলো উওর দাও, রাতে ও দেখলাম না এখন এতো বেলা হলো, নেহা কি কলেজে গিয়েছে।
নাহিদুল ইসলাম একটু রাগি স্বভাবের মানুষ তিনি শান্তশিষ্ট থাকলেও তার একবারের কথা দুবার বলা পছন্দ না। নাজমা বেগম কে কথা বলতে না দেখে তিনি রেগে গেলেন।
~ কী হলো? তোমার আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করছি নাজমা।
নাহিদুল ইসলাম কে রেগে যেতে দেখে , নাজমা বেগম মুখ খুললেন।
~ ও নেই এখানে, চলে গেছে বাড়ি থেকে।
~ কী! বলছো তুমি চলে গেছে মানে, কোথায় গেছে।
~ ও ওর আসল বাড়িতে গেছে।
~ কি বলছো!
~ ঠিকই বলছি, নেহা আমাদের মেয়ে নয়, আমি তাকে জন্ম দেয়নি, তাই এই বাড়িতোও তার জায়গা নেই। তুমি জানো ওই মেয়ে যাওয়ার সময় কি করেছে, আমার হাতে বিশ লাখ টাকার চেক দিয়ে চলে গেছে।
বলেই তিনি রুম থেকে চেক টা নিয়ে এসে নাহিদুল ইসলাম এর হাতে ধরিয়ে দিলেন।
নাহিদুল ইসলাম নিরবাক হয়ে গেলেন, সব কিছু তার মাথা উপর দিয়ে গেলো।
তিনি হাতে চেক এর দিকে তাকালেন আবার নাজমা বেগম এর দিকে তাকালেন। নাজমা বেগম কে বল্লেন~
~ অসম্ভব! এটা হতে পারেনা যেই মেয়েকে ছোট থেকে এতটা বড় করেছি সেই মেয়ে আমার না, আমি বিশ্বাস করিনা তুমি মিথ্যা বলছো।
~ আমি কেনো মিথ্যা বলবো। আরেকটা কথা তুমি তো কোনো সময় তার কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে না তাহলে হঠাৎ এতো ভালোবাসা কোথায় থেকে আসছে। আগে তো দেখেনি এই ভালোবাসা।
~ কে বলেছে আমি তাকে ভালোবাসি না আদর করিনা তার জন্য আমার কোনো চিন্তা নেই। শুধু দেখাতে পারিনা বলে।
নাহিদুল ইসলাম কান্না করছে। তাদের বিয়ের ২১ বছরে নাজমা বেগম নাহিদুল ইসলাম কে কখনো কান্না করতে দেখেনি। এমনি তার শশুর মরা যাওর সময় ও কান্না করেনি। কিন্তু আজ নেহার তার মেয়ে নয় শুনে তাকে কান্না করতে দেখে তিনি খুব অবাক হলেন।
তাদের কথার মাঝে নাহিদুল ইসলাম এর মোবাইল বেজে উঠলো। তিনি চোখের পানি মুছে সোফায় পড়ে থাকা মোবাইল হাতে নিলেন। জান্নাত তার বোন কল দিয়েছে নাহিদুল ইসলাম কল রিসিভ করতে ওপাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে জান্নাত বেগম জানতে চাইলেন তাদের আস্তে এতো দেরি হচ্ছে কেনো।
নাহিদুল ইসলাম কী বলবেন বুঝতে পারছেন না। একদিকে মেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে অন্যদিকে ভাগ্নের বিয়ের কথাবার্তা। নাহিদুল ইসলাম কে চুপ করে থাকতে দেখে নাজমা বেগম মোবাইল নিয়ে তার ননদ কে তারার বেরিয়েছে বলে কল কেটে দেয়। নাহিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই।
নাইমুল, রিহা,ফাতিহা নাজমা বেগম এর কাছে এসে নেহার কথা জিজ্ঞাসা করে
~ মা আপু কোই আপু যাবেনা আমাদের সাথে?
নাজমা বেগম ধমকের সুরে বলে
~ তোদের কোনো আপু নেই। আর আজকে পরে ওর কথা মুখেও আনবিনা। যা বাইরে যা আমি আসছি।
মায়ের এমন কথায় তাদের মন খারাপ বাইরে চলে যাই।
#চলবে
