#Murderer_in_the_dark_of_night
#writer_SumaiyaSultana
Tongass National Forest, Alaskaআমেরিকার সবচেয়ে বড় জাতীয় বন, ঘন গাছপালা কুয়াশায় আচ্ছন্ন ও বন্যপ্রাণীতে ভরা।
সকাল ৬.০০। সমুদ্রের ঢেউ পাথরে আছড়ে পড়ছে। জঙ্গলের ভেতর কুয়াশা নেমে এসেছে। দূর থেকে একটি পুরোনো ভাঙ্গা বাড়ির অংশ দেখা যায়। সবাই জানে জায়গাটা বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যিটা অন্য।
গভীর এই অরণ্যের মাঝে, এই ছোট্ট বাড়ির ভাঙ্গা অংশের মাঝে কিছু লুকিয়ে থাকবে। সেটা সবার কল্পনার বাইরে,
ছোট সেই অংশ বিশেষ এর মেঝের নিচে লুকানো একটি গোপন লিফট রয়েছে। লিফট বেয়ে নিচে নামলে দেখা যায় বিশাল এক ভূগর্ভস্থ বেসমেন্ট। সারি সারি কক্ষ, অফিস, নিরাপত্তা কক্ষ আর গোপন টানেল।
ভারী লোহার দরজা, সারাক্ষণ জ্বলতে থাকা ম্লান আলো, আর সশস্ত্র প্রহরীদের পাহারায় সেখানে মাফিয়া চক্র তাদের অবৈধ ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করে। সমুদ্রপথে আসা পণ্য রাতে ছোট নৌকায় এনে গোপনে নামানো হয়, তারপর বেসমেন্টে সংরক্ষণ করা হয়।
জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর সমুদ্রের গর্জন তাদের কর্মকাণ্ডকে বাইরের পৃথিবী থেকে আড়াল করে রাখে।
বাইরে থেকে জায়গাটা যতটা নির্জন, ভেতরে ততটাই ব্যস্ত।
হঠাৎ করেই বেসমেন্টের অ্যালার্ম বেজে ওঠে। নিরাপত্তা প্রধান দৌড়ে এসে খবর দেয়—“Someone has entered our area through the forest.
—Warn everyone,
—Okay boss.
বলে লেকটা হাতে থাকা হকিটকি তে একটা কোড বলে, যা মূহুর্তের মধ্যে উপরে থাকা সকল গার্ড দের সর্তক করে দেয়। তারা নিজ নিজ স্থানে লুকিয়ে পড়ে।
কয়েক জন ফরেস্ট অফিসার অস্ত্র হাতে এই দিকেই এগিয়ে আসছে। সকাল হলেও কুয়াশার কারণে অন্ধকার হয়ে আছে। সকলের মাথায় লাইট যুক্ত হেলমেট, লাইটের আলো জঙ্গলে কে আলোকিত করতে না পারলেও, চলাচল করার মতো আলোকিত হয়েছে।
JDনিজের রুমে বসে সিসিটিভি ক্যামেরা মধ্যেমে তাদের দেখছে। অফিসাররা কেনো এসেছে বুঝার চেষ্টা করছে। আফিসারা কিছুটা দূর এসে থামে কিছুক্ষন,
তার পর আবার পিছন ফিরে হাঁটতে শুরু করে, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তারা যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে যাই।
JD বুঝতে পারে তারা এমনিয় জঙ্গল পরিদর্শন করতে এসেছে। তবে এতো সকালে আসাটা সন্দেহে জনক মনে হলো লোকটার।
বৃহস্পতিবার সকাল দশটা বাজে
কলেজ মাঠে সোরগোল সবার মুখে এক কথা তারা কলেজ থেকে ট্যুরে যাবে।
কলেজে আসতেই জিহুর সাথে দেখা নেহার,
—রোযা, কেমন আছিস জানু, এই দুই দিন কোথায় ছিলি, তোকে এতো গুলো কল দিলাম দরলিনা কেনো। আর ভাইয়ার নিকা তে আসলিনা কেনো।
আমার বুঝি চিন্তা হয়না তোর জন্য।
এক নাগাড়ে বলে শ্বাস নিলো সে। নেহার মুখে মাস্ক থাকায় জাহিয়া বুঝলো না নেহার রিয়েকশন। তবে তার চোখের সেই সিতল চাহুনি। তাকে খুব করে ভাবাচ্ছে।
জাহিয়া আবার প্রশ্ন করলো,
—কীরে কিছু বলবি?
—হুমম। তবে পরে এখন চল ক্লাসে যাই।
শান্ত সরে উওর দেয় নেহা।
জাহিয়া ও আর কেনো কথা বললো না। সে ভালো ভাবে বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে। তার মামা মামী কে ও জিজ্ঞাসা করেছে রোযার কী হয়েছে, সে আসেনি কেনো তারা কিছু বলেনি তাকে। সে ও আর কথা বাড়ায়নি।
ক্লাসে আসতেই আমাইরা, আরুর ডাকলো নেহা আর জাহিয়া কে।
মাঝখানে সারির চতুর্থ বেঞ্চ এর বসে আছে তারা, নেহা আর জাহিয়া তাদের সাথে বসে।
আজ সবাই চুপ কারো মুখে কেনো কথা নেই। পুরোটা সময় কেউ একটা কথাও বলেনি।
3d period আয়ানের ক্লাস। আয়না ক্লাসে রুমে প্রবেশ করবে তার আগেই তার মোবাইল ভাইব্রেট করে উঠলো। প্যান্ট এর পকেট থেকে মোবাইল বের করে মোবাইল এর স্ক্রিনে Best enemy নামটা ভেসে উঠলো। আয়না কল রিসিভ করে করিডোরএর কর্ণারে এসে দাঁড়ায়, গম্ভীর কন্ঠে বলে~
— Why did you call?
—অশ্যার্য! মানুষ কল রিসিভ করে কেমন আছি জিজ্ঞাসা করে। আর তুই বলছিস কেনো কল দিলাম?
—Stupid! কী বলবি তাড়াতাড়ি বল? আমার ক্লাস আছে।
—এই আদবুড়ো বয়সে তুই কিসের ক্লাস করিসরে?
আয়না রাগে দাঁত চিবে বল্লো।
—ফাজলামি করার জায়গা পাসনা বুঝি।
—No, I can't. আমি এখনো সিঙ্গেল আছিতো তাই।
আয়ানের মুখে বিরক্তির নিয়ে বললো~
—এবার কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে দিলাম। তোর যদি কিছু বলার না থাকে শুধু শুধু কল দিলি কেনো, আমার হাত সময় নেই তোর ফাজিল মর্কা কথা শুনার জন্য রাখি,
— No, no, bro listen, I'm telling you.
—Tell me quickly.
—আমি এয়ার পোর্টে।
—So what should I do?
—আরে, আমি বাংলাদেশে এসেছি আমাকে নিতে আসবিনা।
— No.
আয়ানের সোজা সপটা জবাব।
—Why??
—তুই কী আমাকে বলে এসেছিলি?
—No.
—নিজে নিজে যেহেতু এতো দুর আসলি, বাকিটাও পারবি।
বলেই আয়ান কল কেটে দেয়।
নাহিয়ান স্তব্ধ হয়ে যাই আয়ানের কথায়। সে বাংলাদেশ এসেছে দু বছর পার হয়ে গেছে। বলতে গেলে এখন সব কিছু তার অচেনা। বেচারা আয়ান কে আবার কল দেয়। কিন্তু লাভ হয় না, আয়ান কল রিসিভ করছেনা।
আয়ান সময় দেখে পাঁচ মিনিট লেট, মোবাইল পকেট রেখে, ক্লাস রুমে প্রবেশ করে।
আয়ান রুমে প্রবেশ করতেই সবাই উঠে দাঁড়ালো, সামনের বেঞ্চে বসে তানিয়া আয়ান কে উদ্দেশ্য করে বললো
—স্যার কেমন আছেন?
আয়ান আর চোখে নেহার দিকে তাকায়, তারপর তানিয়ার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উওর দিলো,
—আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
আয়ানের এই উওরে সন্তুষ্ট হলোনা তানিয়া। সে আশা করেছে আয়ান তাকে ও জিজ্ঞাসা করবে সে কেমন আছে। আয়ান তার ভাবনায় এক বালতি জল ঢেলে দিয়ে বললো ।
—তানিয়া আপনি বসতে পারেন।
আয়ানের কথায় তানিয়া খেয়াল করলো সে একাই দাঁড়িয়ে ছিলো। সবাই আগেই বসে পড়েছে। কিছু টা লজ্জা পেলো সে।
আয়ান এই দুই দিন খেয়াল করেছে এই তানিয়া মেয়েটি অন্য সব মেয়ের থেকে বেশি বিরক্ত করে তাকে। তার পিছনে আটার মতো লেগে থাকে।
নেহা এতক্ষণ নীরবে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করছিল, তানিয়া মেয়েটির বাড়াবাড়ি তার ভালো লাগেনা। তানিয়ার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেহার দৃষ্টি গিয়ে থামল আয়ানের ওপর। আজ আয়ানের পরনে কালো শার্ট আর কালো প্যান্ট। পায়ে ছিল Gucci-এর Gucci Horsebit Black Loafers, হাতে Rolex-এর Rolex Submariner ঘড়ি। চোখে চিকন গোল্ড ফ্রেমের চশমা, আর চুলগুলো আগের মতোই কপাল ছুঁয়ে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। কালো পোশাকে তাকে আজ যেন আরও পরিণত, গম্ভীর ও আকর্ষণীয় লাগছিল। নেহা কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তার দিকেই তাকিয়ে রইল।
পরক্ষণেই নিজের মনকে ধমক দিল সে। ঠোঁট বাঁকিয়ে মনে মনে বলল,
— এই ব্যাটার হাবভাব তো একদম ভালো না! এত সাজগোজের কী আছে? পড়াতেই তো এসেছে কোনো আনুষ্ঠানে তো না!
এমনিতেই দোজখের সবচেয়ে সুদর্শন বিড়াল, তার ওপর আবার পুরো কালো আউটফিট! উফ, নিজেকে কী ভাবে কে জানে!
কথাগুলো ভেবে নেহা ভেংচি কাটল। কিন্তু যতই মুখে বিরক্তি দেখাক, চোখ দুটো বারবার অবাধ্য হয়ে আয়ানের দিকেই চলে যাচ্ছিল। আয়ান আর চোখে নেহার Black brown চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিলো। এই চোখ দুটো যে তাকে দেখছে। আয়ান বিরবির করে একটা লাইন
"Your eyes hold the silence of the cosmos, deep, endless, and impossible to forget."
ক্লাস শেষ চার বান্ধবী শহীদ মিনারের কাছে গিয়ে নেহাকে মাঝখানে রেখে বাকি তিন জন দুই পাশে বসে। দীর্ঘ নিরবতা ভেঙ্গে আমাইরা বললো~
—এই তোমাদের কী হয়েছে বলবে? মনলাম আমার আজ মুড অফ তাই কথা বলিনি কিন্তু তোমদেরটা তো বুঝলাম না?
আরু আমাইরা কে উদ্দেশ্য করে বললো~
—শুধু কী তোর, আমারও একই অবস্থা।
জাহিয়া বললো~
—দেখ আজ সবার মুড অফ। এবার তাড়াতাড়ি সবাই এক এক করে বলে ফেলো সবার মুড অফ কেনো? আমাইর তুই বল প্রথম।
— দোস্ত তোরা তো জানিস আমার আম্মু নেই। এখন বাবা আম্মু মারা যাওয়ার পর আরেক বিয়ে করেছে । কেউ জানেনা আব্বুর দ্বিতীয় বিয়ের কথা।
জাহিয়া বললো~
—তুই কীভাবে জানলি।
— মামা মামী আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। বলার পর আব্বু নিজে বলেছে আমাকে। আব্বু চাই আমি যেনো তার সাথে ঢাকা চলে যাই।
জাহিয়া, আরু, একসাথে বললো
এখন তুই কী করবি?
— আমি আব্বু কে বলেছি আমি জাবোনা এখানে থাকবো। আব্বু বলেছে আমার যাবতীয় খরচ তিনি প্রতি মাসে পাঠাবেন। আর কিছু বলেনি আব্বুর কাছে যেনো আমার কেনো মূল্য নেই।এখানে আমার আর থাকার জায়গা নেই। ভাবছি একটা বাসা ভাড়া নিবো। তোরা আমাকে ভালো দেখে একটা বাসা খুঁজতে সাহায্য করবি।
— তুই তোর সব জিনিস পত্র গুছিয়ে নিবি আমি তোকে নিতে যাবো।
নেহার কথা শুনে তিন মানবি অবাক চোখে তাকায় নেহার দিকে,
আমাইরা অবাক হয়ে বলে ~
— তুই আমাকে নিতে যাবি মনে। কোথায় নিয়ে যাবি।
—আমার বাড়িতে।
— তোর আব্বু আম্মু কিছু বলবে না।
— আমার বাড়িতে বাবা মা আসলে কোথায় থেকে।
— বুঝলাম না, কী বলছি তুই।
— এতো কিছু বুঝতে হবেনা তোর। যেটা বলেছি সে কর।
আমাইর আর কথা বাড়ালো না। সে চেনে নেহাকে এর থেকে বেশি বলবেনা মানে বলবেনা।
আরু, জাহিয়া চুপ করে দুজনের কথা শেনছিলো। আরু কিছু বলতে যাবে জাহিয়া তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
—আরু এবার তুই বল তোর কী হয়েছে?
— বাড়িতে বিয়ের জন্য জোর করছে, কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা। আব্বু আম্মু বলে দিয়েছে তাদের কথা না শুনলে আমি যে বাড়িতে আর ফিরে না যাই। আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা।
আরু কথা শেষ করেই কান্না করে দিলো। আমাইরা আর জাহিয়া তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
— এখন তের প্ল্যান কী?
নেহার কথা শুনে তিনজনে নেহার দিকে তাকায়। আরু বললো
— ভেবেছি কেনো আত্নীওর বাসায় গিয়ে ওঠবো। আমি সব কিছু নিয়ে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু বাবা সেই পথ ও বন্ধ করে দিয়েছে।
আরুর কথা শেষ জাহিয়া বললো
— রোযা তুই আরুকেও তোর সাথে নিয়ে যা।
— হুম।
— ঠিক আছে। আজকে আমিও যাবো তোদের সাথে। আম্মু কে কল দিয়ে বলতে হবে, চার বান্ধবী এক সাথে মজা করবো।
নেহা বলে উঠলো
— আরু তো সব কিছু নিয়ে এসেছে। এখন আমাইরার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে আসি।
তিনজনে একসাথে বললো~
—ওকে
আয়ান অফিস রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে চার বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে ছিল। তবে তার দৃষ্টি ছিল নেহার ওপর । কিছুক্ষণ পর তাদের চলে যেতে দেখে সে ঘুরে অফিস রুমে প্রবেশ করল।
নেহা হাঁটতে হাঁটতে একবার পিছন ফিরে তাকাল। আয়ান তখন অফিস রুমের দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। নেহার ঠোঁটের কোণে একটুকরো তিক্ত হাসি ফুটে উঠল।
এতক্ষণ সে মানুষটাকে লক্ষ্য করেছে, অথচ মানুষটা একবারও বুঝতে পারেনি।
নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল—
"তুমি আমি এক সমুদ্রের দুই তীর,
মাঝখানে অসীম জলরাশি, অথচ কত নিকট অনুভব।
একই আকাশের নিচে, একই সাগরের বুকে,
তবু আমাদের মিলন যেন অধরাই রয়ে যায়।
বিধাতার এ কেমন নিয়তি—
পাশাপাশি থেকেও আমরা দুজন দুই প্রান্তের গল্প।"
________________________&___________________
#চলবে
