#Murderer_in_the_dark_of_night
#Writer #sumaiyasultana
❌কপি করা নিষেধ ❌
নেহা কলেজ থেকে ফিরেছে অনেকক্ষন এসে সোজা ওশরুমে ঢুকে শাওয়ার ছেড়ে তিন ঘণ্টা যাবত বসে ছিলো। সময় কখন পেরিয়েছে বুঝতেই পারেনি মায়ের ডাক না শুনলে হতো আরো কয়েক ঘণ্টা পার করে দিতো । নিজের অতীত আজ আবার তার পিছু নিয়েছে। সে তো ভুলেনি তার অতীত শুধু মনে করতে চাইনি নিজেকে সব কিছুর মধ্যে ব্যাস্ত রেখেছে। চুল পানি মুছে বিছানায় পা ঝুলিয়ে শুয়ে কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনার মনে করতে থাকে আজকে আয়ানের সাথে দেখা হওয়া থেকে। তাকে রাস্তার ঘটনা,,
কলেজ ছুটি পর আজকে আর আড্ডা দেওয়া হয়নি তাদের। নেহার আর জিহু কলেজে ভবন থেকে বেরিয়ে মাঠে এসে দাড়ায় দুপুর পেরিয়ে বিকল হচ্ছে তবুও গরম যেনো কমছেনা মাঝে মধ্যে হালকা ঠান্ডা হাওয়া বয়েছে,,,
এতো কিছু হচ্ছে না দুজনে গায়ের কলেজ ড্রেস আর মাথায় হেজাব মুখের মাস্ক নামিয়ে মুখের ঘাম মুছে নিলো রুমাল দিয়ে। দুজনে কলেজে গেট পেরিয়ে মেন রোড়ের দিকে হাঁটতে শুরু করে। এখানে অনেকটা পথ হাঁটতে হবে রাস্তার পাশে বাস গুলো দাঁড়িয়ে আছে এক সারিতে সাথে অন্য সব গাড়ি তো আছে। হাঁটার জায়গা ও পাওয়া যায় না কোন দিক থেকে কোন সময় এসে কি দুর্ঘটনায় ঘটে যায় আল্লাহ ভালো জানেন। নেহা খুব রাগ হয় এমন কিছু দেখলে এই গাড়ি গুলো কি কারো কাছে থেকে কারো আপনজন কেড়ে না নেওয়া অব্দি শান্তি পায়না।
জিহু কে গাড়ি উঠিয়ে হাঁটতে শুরু করে এটা নেহার নিত্যদিনের রুটিন বল্লেই চলে সপ্তাহে যে দুই দিন কলেজে আসা হয়। সেই দুই দিন কলেজ শেষ আগে জিহু কে গাড়ি তে উঠিয়ে দিবে তার পর নিজে বাড়ির দিকে রওনা দিবে আজও তার ব্যতিক্রম নয়। নেহা অনেকক্ষন যাবত লক্ষ করেছে কলেজ থেকে বের হওয়ার পর থেকে কেউ তাদের ফলো করছে কে করছে সেটা বুঝতে পারছেনা তাই জিহু কে গাড়িতে উঠিয়ে দেওর পর। নেহা যখন রাস্তার এক পাশে এসে দাঁড়ালো গাড়ির জন্য। সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এটার চারদিকে চারটা রাস্তা এই খানে আসলে জিহু আর নেহার আলাদা হতে হয় করন দুইজনে বাড়ির রাস্তা দুই দিকে।
আয়ান কলেজ থেকে নেহাকে বেরিয়ে যেতে দেখে তার পিছু নেয়। আজ কত গুলো মাস কথা বলতে পারেনি তার মনের মধ্যে কি? চলছে সেটা সে নিজেও জানেনা।
নেহার পিছু করতে করতে, নেহাকে দাঁড়াতে দেখে কাছে এসে তার কাঁদে হাত দিতেই দেরি হলেও তার গালে থাপ্পর পড়তে দেরি হলোনা।
নেহা তার কাদে কাউকে হাত দিতে দেখে পিছন ঘুরে না দেখেই থাপ্পর দিলো। দেখলে হয়তো মারতোনা । আয়ান গালে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে নেহার বিরক্ত মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ।
আয়ানের ভাগ্য ভালো কেউ দেখেনি নাহলে তার ইজ্জতে বারোটা বেজে যেতো। নেহার আয়ানের দিকে চোখ পড়তেই তার চোখে ছোট করে তাকিয়ে আছে আয়ানের ফর্সা গাল হাতের চাপ বসে গেছে।
আয়ান নিজের গালে হাত বুলাতে বুলাতে নেহার উদ্দেশ্যে বললো ,,
— বাহ এতো ফাস্ট। খুব ভালো তোমার থেকে এটাই আশা করেছিলাম তবে এতো জোরে হবে ভাবতে পারিনি রক্ ,
আয়ানকে তার কথা শেষ করতে না দিয়ে নেহা হাতের ইশারায় তাকে থামিয়ে দিলো।
— ব্যাস! অনেক হয়েছে।যেই খানেছিলে ওইখানে থামুন। আমি চাই না আপনি আমাকে ওই নামে ডাকুন।
নেহার কথায় আয়ান বললো~
—এখানে তোমার চাওয়া বা না চাওয়া কিছুই যায় আসে না আমার।
অতীতে যা কিছু হয়েছে তাতে তোমার আমার কেনো হাত ছিলোনা।
আয়ানের কথায় নেহা বললো,
—তো মিস্টার আরহাম আয়ান চৌধুরী আপনি কান খুলে একটা কথা শুনে রাখুন। অনিচ্ছাকৃত ভাবে যে হাজার ও ভিড়ের মাঝে যে এক বার হারিয়ে যায় তাকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু যে নিজের ইচ্ছায় হারিয়ে যায় তাকে হাজার চেষ্টা করেও খুঁজে পাওয়া যায়না।
নেহার কথার উত্তরে আয়ান বল্লো,
—হাজার কেনো কোটি মানুষের ভিড়ে ও খুঁজে বের কর বে এই আয়ান চৌধুরী। এবার সে ইচ্ছাকৃত হক বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে হারিয়ে যাকনা কেনো আরহাম আয়ান চৌধুরী তার রক্ত কাঞ্চন কে খুঁজে বের করবে দরকার হলে নিজের জীবন দিয়ে দিবে তবুও তার রক্ত কাঞ্চন কে সে একে বারে হারিয়ে যেতে দিবে না।
আয়ানের কথায় নেহা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো! আর বললো
~ কিন্তু আরহাম আয়ান চৌধুরী কি জানে সে যাকে একেবারে হারিয়ে যেতে দিবে না বলে জীবন দিবে বলেছে সে তো তার জীবন থেকে অনেক আগেই হারিয়ে গেছে।
নেহা এমন কথায় আয়না কিছু বলতে পারলো না। সে যেনো কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। নেহার মুখে সেই আগের মতো অনুভূতির প্রতিরছবি দেখতে পারছেনা। মুখটা মলিন যাতে কেনো অনুভূতির নেই। বিষাদে ভরে আছে।
নেহা আর কিছু না বলে একটা রিকশা ডেকে উঠে বসলো । আয়ান নেহার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললো। হারিয়ে গেছে বল্লে তো হারিয়ে যাওয়া যায়না।
রক্তকাঞ্চন তুমি যতই যাই বলো না কেনো তোমাকে আবার ফিরে আসতে হবে। "তুমি বাহির থেকে যতটা না উজ্জ্বল ভিতরে তার থেকেও বেশি অন্ধার।"
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস নিলো,
নেহা যতই আয়ানে সামনে নিজের অনুভূতি গুলো লুকিয়ে রাখুক না কেনো পরিশেষে নিজের ই কষ্ট পোহাতে হয়।কি বা করবে আয়ান তো ভুল কিছু বলেনি অতীতে যা কিছু হয়েছে তাতে আমাদের কারো হাত ছিলো যারা ছিলো তার শান্তি তে চলাফেরা করছে।
তাহলে তারা কেনো নয়। কিন্তু নেহা মন যে সেটা মানতে চাইছে না। নেহার ভাবনার মাঝে এবার নাজমা বেগম এর চিল্লাচিল্লি আওয়াজ ভেসে আসলো নিচ থেকে,
— নবাব এর বেটি শখ কি সকালে ঘুম থেকে উঠবে দশটাই আর উঠে চলে যাবো লোক দেখানো নাটক করতে । বলি এভাবে আর কতদিন ঘাড়ে উপর বসে থাকবি। ঘরের কাজ তো কিছু করেনা খাই আর ঘুমাই । আমার হয়েছে এক ঝালে এই মেয়েকে জম্ম না দিয়ে গরু ছাগল পালতাম তাতে ভালো হতো। এমন বে*শ্য মেয়ে থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।
নেহার তার মায়ের মুখ থেকে এইসব কথা শুনেও কিছু বলেনা চুপ করে রইলো। প্রতিদিন এমন কথা শুনতে সে অবস্থা হয়েগেছে যাকে বলে বেহায়া।
বিছানা থেকে উঠে নিচে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিলো নেহাদের বাড়ি দোতলা হলেও দোতলা নয় একতালা বল্লেই চলে।
উপরের ঘরে যেটাতে নেহা থাকে এটা চিলেকোঠার নিচে তিনটা রুম আর একটা ড্রাইনিং রুমে মোট চারটা রুমে ছাদ জুরে রয়েছে চিলেকোঠা হওয়ায় একটু বড় যার কারনে এটা দোতলা বাড়ি মন হয়। নিচের তিনটি রুমের এক রুমে নেহার ছোট দুই বোন।
আরেক টায় তার ভাই,অন্য রুমে তার মা- বাবা। চিলেকোঠায় নেহা একা থাকে। চিলেকোঠায় একটা ছোট্ট ওয়াশ রুম আর একটা খোলা বারান্দায় আছে। নেহা সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতে তার মায়ের কাছে থেকে আরো বেশি কথা শুনতে হয় । নেহাকে নিচে আসতে দেখে নাজমা বেগম বলে উঠলো~
—আসছে নবাবের বেটা। বলি আর কত দিন এমন করবি তুই । তোর জন্য কোথায় মুখ দেখাতে পারিনা আমি। বাইরে গেলেই লোকের কটুক্তি শুনতে হয়। এই বয়সে এসে তোর মত দামড়ি মেয়ের জন্য শান্তিতে থাকতে পারিনা। বলি মরতে পারিসনা বুঝি। হয় নিজে মরবি নয়তো বিষ খাইয়ে আমাকে মেরে ফেল তোর মত কুলাংগার মে জন্ম দিতে আমার মরন হলোনা কেনো। বে*শ্যা বিয়ে তো করবি না আবার তোরো বেডার সাথে ঘুরে বেড়াবি।
এতোক্ষণ বলা কথা গুলো সয্য করে নিতে পারলেও এবার আর পারলো তার মায়ের বলা শেষ কথা গুলো।
নেহা নাজমা বেগম এর কথায় এবার মুখ খুললো ~
—অনেক সয্য করেছি আর না। নিজেকে কী ভাবে একজন ভালো মা ছ্যা, তোমার মত মা আর কারো যেনো না হয়। যে নিজের মেয়েকে বেশ্যা বলে। আর বেশ্যা কাকে বলে তুমি যানের। যারা পতিতালয় নিজেদের দেহ বিক্রি করে তাদের কে বলে বে*শ্যা ।
আমাকে যে তুমি বে*শ্যা বলেন কোনো দিন দেখেছেন দেহ বিক্রি করতে , তোমার মত নারি কখনো একজন ভালো মা হতে পারে না যে নারী হয়েও অন্য নারীকে নিয়ে এমন কথা বলে ,
আর আমার মায়ের কথা বলছো তো শুনে রাখো তুমি আমার মা নয়া এমন কি আমার মায়ের নোখের যোগ্য ও নায় ।
নেহা আর কিছু বলতে পারেনি নাজমা বেগম নেহার গালে সজোরে একটা থাপ্পর দিলো।
নেহার ছোট মামা আজকে নেহাদের বাসায় আসে কাউকে কিছু না বলে। নেহার সাথে তার কিছু কথা ছিলো কিন্তু এখানে এসে নেহার আর তার বোন নাজমা বেগম এর কথা শুনে। আর তার বোনকে নেহাকে থাপ্পর মারতে দেখে তাড়াতাড়ি এসে তার বোনকে থামায়। নেহার মামার নাম নাজমুল হোসেন । নাজমুল হোসেন তার বোনকে উদ্দেশ্য করে বল্লো
—কি করছো আপু তুমি নেহাকে মারছো কেনো।
নাজমা বেগম কিছু বলবে তার আগেই নেহা বললো
—দেখো মামা তোমার বোনকে সামলাও। তার কোনো অধিকার নেই আমার গায়ে হাত দেওয়ার।
এবার নাজমা বেগম বল্লেন,
— দেখেছিস নাজমুল এই মেয়ে কিভাবে কথা বলে দিন দিন বেয়াদব হচ্ছে এই মেয়ে।
বোনের কথায় কী বলবে বুঝতে পারছেনা। তিনি নেহার দিকে একবার তাকালেন নেহার পুরো গাল লাল হয়ে আছে ঠোঁট কেটে রক্ত বের হয়েছে। তবুও কিভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেনো কিছুই হয়নি।
নেহা নাজমুল হোসেন কে উদ্দেশ্য করে বলো~
—মামা অনেক হয়ছে এই নাটক আর নয়। অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত আমি তোমার বোনকে তুমি সামলাও তার দুটো মেয়ে একটা ছেলে আছে বড় হয়েছে আমার কাজ শেষ এখানে আর আমার প্রয়োজন নেই। তোমার কথা রাখতে এতো দিন এই সব সয্য করেছি আর না ।
নেহার এমন কথায় নাজমা বেগম কিছু বুঝলেন না তিনি তার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন ~
— নাজমুল নেহা এসব কি বলছে কিসের কথা আর কিসেরই বা নাটক এর কথা বলছে।
বোনের প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল হোসেন বল্লো ~
— আপু তুমি শান্ত হয়। দেখো আমার মনে হয় এখন তোমাকে সব সত্যি বলার সময় হয়ে গেছে। শান্ত ভাবে শুনো ~
— আপা তোমার মনে আছে যে দিন তুই জানতে পেরেছো তুই অন্তঃসত্ত্বা। সেই দিন তুমি অনেক খুশি হয়েছিলেন আর যখন জানতে পেরেছো তোমার মেয়ে হবে সেই দিন তুমি আমাকে বলেছিলে তোমার স্বপ্ন আল্লাহ পুরন করছে। তুমি যেটা চেয়েছো পেয়েছো। তোমার খুশি দেখে তখন আল্লাহ কাছে একটাই দোয়া করেছি তোমার এই খুব সারা জীবন যেন থাকে।
নাজমুল হোসেন একটু থেমে বললোন
— তুমি সাবধানে চলাফেরা করতে ঠিক মত খাবার খেতে নামাজে আল্লাহর কাছে চাইতে যাতে তোমরা সন্তানের কোনো সমস্যা নাই । জানি এটা সব মায়েরাই চাই কিন্তু তোমার মাঝে আমি অন্য কিছু দেখেছিলাম তোমার মেয়ের প্রতি আলাদা একটা আসক্ত। যার জন্য তুমি কাউকে বিশ্বাস করতে না তোমার সব কাজ তুমি নিজেই করতে কাউকে ধরতে দিতে না যখন তুমি পা পিছলে পড়ে ব্যাথা পাও আর তোমাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশি আঘাত পাওয়ার কারণে তোমার মেয়েটা মারা যায়।
ছোট ভাইয়ের মুখে এমন কথা শুনে নাজমা বেগম চিৎকার করে বললো
—কি বলছিস এসব তোর মাথা ঠিক আছে তো ।
— হ্যাঁ আপু আমার মাথা একদম ঠিক আছে। আমি সত্যি বলছি ওইদিন তোমার মেয়ের মার যাই।
নাজমা বেগম বলে উঠলেন
—আমার মেয়ে যদি মারা যায় তাহলে এ কে।
নেহার দিকে আঙুল তুলে বললো।
নাজমুল হোসেন আবার বলতে শুরু করলেন
—তোমার ডেলিভারি পরে যখন জ্ঞান ফিরে আসতে তোমার মেয়েকে পাগলের মতো খুঁজে থাকো। তখন নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হলো কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না । তখন দেখা নেহার আসল বাবা মায়ের সাথে তারা তাদের মেয়েকে বাঁচাতে। তারা তোমার মৃত মেয়েকে রেখে তাদের মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেয়ে । সাথে সেই নাম লেখে লকেট তুমি আমাকে প্রশ্ন? করেছিলে আমি নেহার নামের সাথে চৌধুরী কেনো যুক্ত করেছি এই কারণে যোগ করেছি লকেটটা আমি বানায়নি নেহার গলায় আগে থেকেই ছিলো আমি খুলে রেখে ছিলাম নেহার নাম করনের দিন দিয়েছিলাম।
নাজমা বেগম সব কিছু শুনে সোফার উপর থাব করে বসে পড়লেন তিনি মুখ দিয়ে কোনো কথা বলছে না। কি বলবেন তিনি । নাজমুল হোসেন বোন কে বসে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে বোনের দু হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে
— আপু! তোমাকে এভাবে কষ্ট পেতে আমি দেখতে পারবেন তাই এমনটা করলাম ।তোমার সন্তান মৃত এটা কোউ জানতো না আমি ছাড়া। আমাকে মাফ করে দাও আমি তোমার সন্তান কে রক্ষা করতে পারিনি।
বলে কান্না করতে থাকে ।
নেহা নাজমুল হোসেন কে উদ্দেশ্য করে বলো~
—আমি তোমার কথা রেখেছে কিন্তু এখন তোমার বোন আমার তার চোখের সামনে দেখতে চাইনা। তুমি বলেছো তোমার বোন তার প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায়। অনেক খুশি কিন্তু আমি তো তার কিছুই দেখিনি।
নেহা একটু থেমে নাজমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
—তোমার বোন আমাকে সবসময় এটা বলে এসেছে। তার মেয়ে না হয়ে ছেলে হতো ভালো হতো । আমি তোমার বোনের জন্য যেটাই করিনা কেনো তোমার বোনের সেট দেখে না। তোমার বোনের আমার থেকে ও বড় বাইরের মানুষ হয়েগেছে আজ যদি আমি সত্যি তার নিজের পেটের মেয়ে হতাম তাহলে কি করত তোমার বোন।
নেহা একটু থেমে নিঃশ্বাস নিলো। তারপর আবার বললো
— এতো দিন তো আমি তার মেয়ে এটা যেনে এতো খারাপ ব্যবহার করেছে। এখনতো যেনে গেছে আমি তার মেয়ে নয়। এখন তো আরো বেশি খারাপ ব্যবহার করবে। আমি তো তার বোঝা হয়ে থাকি নি যেদিন থেকে জেনেছি আমি তার মেয়ে নয় কোনো খারাপ ব্যবহার ও করিনি এমনকি আমার খরচ তাদের চালাতে হয়নি । মেয়ে হয়েও কাজ করেছি ছেলেদের মতো যাতে তার আগে ছেলে হয়নি বলে আমাকে গালি না দেয় কিন্তু না তাতেও তার হয়না।
তাই সময় হয়েছে আমার এই বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়া ।
নাজমা বেগম এবার মুখ খুললেন
—নাজমুল এই মেয়ে কে এখান থেকে নিয়ে যা এই মেয়ের মুখ দেখতে চাইনা আমি।
নাজমা বেগম এর কথা নেহা বললো ~
—আপনি মুখ দেখতে না চাইলে আর চাইলেই বা কী।কি ভেবেছেন আমি দেখবো আপনার মুখ। কখনো না ।
নাজমুল হোসেন বোন কে স্তব্ধ হয়ে থাকতে দেখে ভেবেছেন হয়তো তার বোন কষ্ট পেয়েছে কিন্তু এখন কথা দেখে বোঝা যাচ্ছে না।
নেহা দ্রুত পায়ে চিলেকোঠায় গিয়ে একটা কাগজে কিছু দেখলো এবং তার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে নিচে নেমে এলো তার পরে হাতের কাগজটি নাজমা বেগম এর দিকে এগিয়ে এসে তার হাতে দিয়ে বল্লো ~
—এটা ২০ লক্ষ টাকা চেক আমার যাবতীয় খরচ বহন করেছে সেই টাকা ।
নেহা নাজমা বেগম কে কিছু বলতে দিলো না । নাজমুল হোসেন কে তার সাথে আসতে বলে নিজের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।
নাজমুল হোসেন বোনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে নেহার পিছু বেরিয়ে পড়লো ।
পিছনে ফেলে গেলো নাজমা বেগম কে। নাজমা বেগম অবাক হয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখছে আর নিজের হাতে থাকা চেকের দিকে । কি হলো তিনি কিছু বুঝতে পারছেনা।
_____&______
আজকাল আর শহরের মাঝখানে সেই কটা মাথা দেখা যায়নি। সকল ফোর্স একসাথে করা হয়েছে। একটা রুমে ১২ জন লোক যারা একেক ফোর্সের হেড একটা সিক্রেট মিটিং এ বসেছে।
এই দুই দিন কেনো হত্যা না হওয়া তার খুশি হবে নাকি দুঃখ পাবে বুঝতে পারছেনা সত্যি যদি সত্য কান্ড বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এটা খুশি সংবাদ আর যদি হত্যা কান্ড বন্ধ না হয় তাহলে দুঃখের বিষয়। এই মিটিং এর মুখ্য বিষয় হলে এটা যে এতো দিন যাবত হত্যা কান্ড হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
কোনো রকম প্রমাণ ছাড়া কোনো সংকেত বিহীন যেমন চালু হয়েছে তেমন বন্ধ হয়েছে। সবার একটাই মত একটা কোনো বড় ধরনের সংকেত। যার কারনে তারা কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা।
মিটিং রুমে সবার নিস্তব্ধতা ভাঙ্গে দরজা খোলার শব্দে। মিটিং রুমে চারিদিকে অন্ধকার শুধু রুমে মাঝখানে একটা ঝুলন্ত লাইট। দরজা খোলার শব্দে সবাই পিছনে তাকায়।
দরজা খুলে একটা অবয়ব হেটে আসছে নিঃশব্দে যেনো একটা ছায়া। ছায়া অন্ধকার পেরিয়ে আলো স্পর্শে আসতেই উদয় হয় একটা সুঠাম দেহের অধিকারী এক যুবক হাতে গ্লাভস পরনে লং কোট যার পুরোটাই কাদেরের আবৃত মুখে মাস্ক শুধু এক জোড়া বাদামী চোখ যেটা লম্বা কালো চুলে ডাকা।
লোকটা কাছে আসতে একজন অফিস তাকে উদ্দেশ্য করে সিকিউরিটি গার্ড দের বলে যারা সেই লেকটার পিছনে ছিলো
—গার্ড এই লোকটাকে ভিতরে আস্তে কেনো দিলে?
অফিসারকে থামিয়ে দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের হেড অফিসার কে বলে ।একে আমি আসতে বলেছি তুমি তোমার চেয়ারে বসে। হেডের কথায় অফিস নিজের জায়গায় বসে পড়ে। সেই লেকটার হেডের সামনে বরাবর চেয়ারটিতে বসে পড়ে ~
#চলবে
