লাল বাড়ির রহস্য
ষষ্ঠ পর্ব
লেখক: নিবিড় আহমেদ
রেকর্ডিং শুনে আরিয়ান বুঝল, চেয়ারম্যান একা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত নন। তৃতীয় ব্যক্তির কণ্ঠটি চিনতে তার বেশি সময় লাগল না—এটি ছিল সাদমানের কাকা, আইনজীবী ফারুকের।
ফারুক বহু বছর ধরে চৌধুরী পরিবারের সম্পত্তির কাগজপত্র দেখাশোনা করতেন। আরিয়ান সিদ্ধান্ত নিল, তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
পরদিন সে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেল। চেয়ারম্যান প্রথমে সব অস্বীকার করলেন। কিন্তু আরিয়ান রেকর্ডিংয়ের কথা বলতেই তাঁর মুখের রং বদলে গেল।
“তুমি বুঝতে পারছ না, আরিয়ান,” চেয়ারম্যান বললেন। “আমি শুধু নিজের পরিবারকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। মাহবুবের মৃত্যুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।”
“তাহলে ফারুকের সম্পর্ক কী?”
চেয়ারম্যান চুপ করে রইলেন।
ঠিক তখনই সাদমান এসে জানাল, তার জ্ঞান ফিরেছে। হাসপাতালে সে একজন লোককে দেখেছে, যে তাকে গুলি করার আগে বলেছিল, “ফারুক সাহেবের আদেশ।”
আরিয়ান পুলিশের সাহায্যে ফারুকের অফিসে গেল। কিন্তু অফিস খালি। টেবিলের ওপর পড়ে ছিল লাল বাড়ির মূল দলিল এবং একটি চিরকুট—
“সত্য জানতে চাইলে আজ মধ্যরাতে বাড়িতে এসো। একা।”
আরিয়ান বুঝল, ফারুক পালানোর আগে শেষ চাল দিতে চাইছেন। সে গোপনে পুলিশকে খবর দিয়ে লাল বাড়ির দিকে রওনা দিল।
মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে সে দেখল, ফারুক একটি পুরোনো আলমারি খুলছেন। আরিয়ানের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন।
“অবশেষে এসেছ,” ফারুক বললেন। “তোমার বাবার জীবন বাঁচাতে চাইলে ডায়েরি আর রেকর্ডিং আমাকে দাও।”
“আপনি রাশেদকে খুন করেছেন?”
ফারুক হেসে বললেন, “রাশেদকে আমি খুন করিনি। তবে খুনিকে আমি চিনি।”
তিনি দেয়ালের একটি গোপন সুইচ চাপতেই মেঝের নিচে দরজা খুলে গেল।
সিঁড়ির নিচে অন্ধকারে একজন মানুষ বসে ছিলেন। আরিয়ান আলো ফেলতেই তাঁর বুক কেঁপে উঠল।
সেখানে বসে ছিলেন দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া মাহবুব চৌধুরী—যাঁকে সবাই মৃত বলে জানত!
