লাল বাড়ির রহস্য
পঞ্চম পর্ব
লেখক: নিবিড় আহমেদ
বাবার বার্তাটি বারবার পড়ছিল আরিয়ান। দশ বছর ধরে যাঁকে মৃত অথবা নিখোঁজ ভেবে এসেছে, তিনি কীভাবে এখনো বেঁচে আছেন?
সে পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্র খুঁজতে বাড়িতে গেল। মায়ের আলমারির নিচে একটি লোহার বাক্স পেল। বাক্সে ছিল কিছু ছবি, জন্মনিবন্ধনের পুরোনো কাগজ এবং একটি চিঠি।
চিঠিতে তার বাবা লিখেছিলেন, “আমি যদি কোনো দিন ফিরে না আসি, আরিয়ান যেন জানতে পারে—আমি অপরাধী নই। মাহবুবের হত্যার সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে আমাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।”
চিঠির সঙ্গে একটি ঠিকানা ছিল। আরিয়ান সেখানে পৌঁছে দেখল, ছোট্ট একটি বাড়িতে একজন অসুস্থ বৃদ্ধ থাকেন। বৃদ্ধ তাকে দেখে কেঁদে ফেললেন।
“বাবা, তুমি বড় হয়ে গেছ!”
আরিয়ান অবিশ্বাসে তাকিয়ে রইল। “আপনি আমার বাবা?”
বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। তিনি জানালেন, তাঁর নাম আবদুল কাদের। একসময় তিনি লাল বাড়ির হিসাবরক্ষক ছিলেন। মাহবুবের হত্যার রাতে তিনি এমন একটি দলিল দেখেছিলেন, যা রাশেদের পরিবারের অপরাধ প্রকাশ করে দিতে পারত। সেই দলিলের জন্যই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালিয়ে যান।
“কিন্তু রাশেদকে কে খুন করল?” আরিয়ান প্রশ্ন করল।
বাবা উত্তর দিলেন, “আমি জানি না। তবে আমার কাছে খুনের রাতের একটি রেকর্ডিং আছে।”
তিনি পুরোনো একটি রেকর্ডার চালু করলেন। প্রথমে অস্পষ্ট শব্দ, তারপর রাশেদের কণ্ঠ শোনা গেল—
“আমি সব জানি! তুমি মাহবুবকে মেরেছিলে!”
এরপর আরেকটি কণ্ঠ উত্তর দিল, “তাহলে আজ তোমাকেও চুপ করাতে হবে।”
আরিয়ান কণ্ঠটি চিনতে পেরে স্তব্ধ হয়ে গেল।
সেটি ছিল গ্রামের চেয়ারম্যানের!
কিন্তু রেকর্ডিংয়ের শেষ অংশে আরেকটি শব্দ শোনা গেল—একটি দরজা খোলার শব্দ, তারপর তৃতীয় একজনের কণ্ঠ।
“চেয়ারম্যান, সরে দাঁড়ান। আসল কাজটা আমাকে করতে দিন।”
