লাল বাড়ির রহস্য
সপ্তম পর্ব
লেখক: নিবিড় আহমেদ
মাহবুব চৌধুরীকে দেখে আরিয়ান হতবাক হয়ে গেল। ফারুক এত বছর ধরে তাঁকে গোপন ঘরে আটকে রেখেছিলেন, যাতে সম্পত্তির আসল মালিকানা কখনো প্রকাশ না পায়।
আরিয়ান বলল, “তাহলে রাশেদকে কে খুন করেছে?”
ফারুক পালানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঠিক তখনই পুলিশ বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাঁকে ঘিরে ফেলল। আরিয়ানের দেওয়া আগাম খবরের কারণে বাড়িটি আগেই ঘিরে রাখা হয়েছিল।
প্রমাণের মুখে ফারুক ভেঙে পড়লেন। তিনি স্বীকার করলেন, বহু বছর আগে সম্পত্তি দখলের জন্য মাহবুবকে বন্দি করেছিলেন। রাশেদ সত্য প্রকাশ করতে চাইলে তাঁকেও খুন করেন। চেয়ারম্যান অপরাধটি জানতেন, কিন্তু নিজের ছেলেকে বিপদে পড়তে না দেওয়ার জন্য সত্য গোপন করেছিলেন।
পুলিশ ফারুক ও চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করল। মাহবুবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলো। আরিয়ানের বাবার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেল, ফলে তাঁর নাম পরিষ্কার হলো।
সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেছে ভেবে আরিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিল। তখন মাহবুব তাকে ডেকে বললেন, “তুমি সাহস করে সত্য খুঁজেছ। কিন্তু এই বাড়িতে আরও একটি গোপন কথা আছে।”
তিনি আরিয়ানকে একটি ছোট বাক্স দিলেন। বাক্সের ভেতরে ছিল তার মায়ের পুরোনো ছবি এবং একটি চিঠি।
চিঠিতে লেখা—
“আরিয়ান, তোমার বাবা তোমাকে বাঁচানোর জন্যই দূরে চলে গিয়েছিলেন। তোমার জন্মের আগেই তিনি জানতেন, এই বাড়ির লোভী মানুষগুলো একদিন তোমাদের পরিবারকে ধ্বংস করতে চাইবে।”
আরিয়ান চোখের পানি মুছে বাবার হাত ধরল। দশ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো।
কয়েক মাস পর লাল বাড়িটি আর পরিত্যক্ত রইল না। সেটিকে মাহবুব গ্রামের মানুষের জন্য একটি পাঠাগার বানিয়ে দিলেন।
তবে বাড়ির পুরোনো ঘড়িটি আর কখনো মেরামত করা হয়নি। সেটি এখনো থেমে আছে রাত ১২টা ১৭ মিনিটে—যে সময়ে শুরু হয়েছিল এক ভয়ংকর রহস্যের ইতিহাস।
সমাপ্ত।
