লাল বাড়ির রহস্য
চতুর্থ পর্ব
লেখক: নিবিড় আহমেদ
পরদিন রাত সাড়ে দশটায় আরিয়ান পৌঁছাল গ্রামের পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে। বহু বছর ধরে এখানে কোনো ট্রেন থামে না। চারদিকে ঝোপঝাড় আর অন্ধকার।
প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে একজন লোক দাঁড়িয়ে ছিল। মুখে কালো কাপড়, হাতে একটি পুরোনো ব্যাগ।
“আপনি কি আমার বাবাকে চেনেন?” আরিয়ান জিজ্ঞেস করল।
লোকটি মাথা নাড়ল। “তোমার বাবা বেঁচে আছেন। কিন্তু তাঁকে খুঁজে পেতে হলে জানতে হবে, রাশেদ চৌধুরী কেন খুন হয়েছিল।”
“খুনি কে?”
লোকটি ব্যাগ থেকে একটি ছবি বের করল। ছবিতে রাশেদ, চেয়ারম্যানের বাবা এবং আরিয়ানের বাবা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে লেখা একটি তারিখ—বারো বছর আগের।
লোকটি বলল, “ওই রাতে তারা একটি জমির দলিল নিয়ে ঝগড়া করেছিল। দলিলটি প্রমাণ করত, লাল বাড়ি আর আশপাশের জমি আসলে মাহবুব চৌধুরীর।”
আরিয়ান ছবিটি হাতে নিতেই দূর থেকে গাড়ির আলো দেখা গেল। লোকটি তাড়াতাড়ি বলল, “ওরা চলে এসেছে! ছবিটা নিয়ে পালাও!”
হঠাৎ একটি গুলির শব্দ হলো। লোকটি মাটিতে পড়ে গেল। আরিয়ান তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেল, কিন্তু লোকটি তার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করল, “চেয়ারম্যানকে বিশ্বাস কোরো না। সে শুধু সহযোগী। আসল খুনি তোমার খুব কাছের মানুষ।”
এরপর লোকটির চোখ বন্ধ হয়ে গেল।
আরিয়ান দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ল। বাড়ি ফিরে ছবিটি পরীক্ষা করতে গিয়ে সে ছবির পেছনে আরেকটি লেখা দেখতে পেল—
“বিশ্বাসঘাতককে চিনতে হলে নিজের পরিবারের ইতিহাস পড়ো।”
ঠিক তখনই তার ফোনে একটি বার্তা এল। প্রেরকের নাম দেখে সে স্তব্ধ হয়ে গেল।
বার্তাটি পাঠিয়েছে তার নিখোঁজ বাবা!
বার্তায় লেখা, “আরিয়ান, আমাকে খুঁজো না। তোমার নিজের জীবন বিপদে।”
