লাল বাড়ির রহস্য
তৃতীয় পর্ব
লেখক: নিবিড় আহমেদ
চেয়ারম্যানের ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানোর পর আরিয়ান আবার সেই গোপন ঘরে ফিরে এল। তার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন—দশ বছর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এই বাড়িতে?
করিম চাচাকে সামনে বসিয়ে সে বলল, “আপনি সব জানেন। এবার সত্যিটা বলুন।”
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “দশ বছর আগে এই বাড়ির মালিক ছিলেন রাশেদ চৌধুরীর বড় ভাই, মাহবুব চৌধুরী। এক রাতে তিনি নিখোঁজ হন। সবাই বলেছিল, তিনি বিদেশে পালিয়েছেন। কিন্তু আমি জানতাম, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে খুনের রহস্য রয়েছে।”
“আমার বাবা কোথায় জড়িত ছিলেন?”
করিম চাচা উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। জানালা দিয়ে আরিয়ান দেখল, কালো পোশাক পরা দুজন লোক বাড়িতে ঢুকছে।
সে দ্রুত ডায়েরিটি নিজের ব্যাগে রাখল। দুজন লোক ঘরে ঢুকেই করিম চাচাকে ধরে ফেলল। একজন পিস্তল দেখিয়ে বলল, “ডায়েরিটা কোথায়?”
আরিয়ান বুঝল, ডায়েরির ভেতরেই এমন প্রমাণ আছে, যা খুনিকে বিপদে ফেলতে পারে। সে পেছনের গোপন দরজা দিয়ে বেরিয়ে গ্রামের পুরোনো মসজিদের কাছে পৌঁছাল।
নিরাপদ জায়গায় গিয়ে ডায়েরি খুলতেই একটি ভাঁজ করা চিঠি বেরিয়ে এল। চিঠিতে লেখা—
“আরিয়ান, যদি তুমি এই চিঠি পড়ো, তবে জেনে রেখো, তোমার বাবা বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল।”
নিচে স্বাক্ষর—মাহবুব চৌধুরী!
আরিয়ান অবাক হয়ে গেল। মাহবুব যদি সত্যিই বেঁচে থাকেন, তবে তিনি কোথায়?
ঠিক তখনই অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল।
ওপাশের কণ্ঠ বলল, “তোমার বাবাকে খুঁজতে চাইলে আগামীকাল পুরোনো রেলস্টেশনে এসো। কিন্তু পুলিশ নিয়ে এলে আর কোনো সত্য জানতে পারবে না।”
ফোন কেটে গেল।
আরিয়ান জানত, এটি ফাঁদও হতে পারে। তবু সে সিদ্ধান্ত নিল, রহস্যের শেষ পর্যন্ত যেতেই হবে।
