🔴 লাল বাড়ির রহস্য
লেখক: নিবিড় আহমেদ
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে আরিয়ান ঘুরে দাঁড়াল। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। পকেট থেকে টর্চ বের করে সে আলো ফেলতেই দেখতে পেল, দরজার সামনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে।
“কে আপনি? সামনে আসুন!” আরিয়ান চিৎকার করল।
কিন্তু লোকটি কোনো উত্তর দিল না। কয়েক সেকেন্ড পর তার পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
আরিয়ান দরজা খোলার চেষ্টা করল। দরজাটি বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতরে আটকে পড়ে সে আবার ছবিটির দিকে তাকাল। ছবির পেছনে আগে চোখে না পড়া কয়েকটি শব্দ লেখা ছিল—
“রাশেদকে যে মেরেছে, সে তার সবচেয়ে কাছের মানুষ।”
হঠাৎ ঘরের এক কোণে মৃদু শব্দ হলো। আরিয়ান টর্চের আলো ফেলতেই দেখতে পেল, দেয়ালের পাশে একটি কাঠের বাক্স। বাক্সটি খুলে পাওয়া গেল কিছু পুরোনো চিঠি, একটি রক্তমাখা রুমাল আর একটি ডায়েরি।
ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা— “আমার মৃত্যুর পর এই ডায়েরি যে পড়বে, সে যেন কাউকে বিশ্বাস না করে।”
আরিয়ান দ্রুত পাতা উল্টাতে লাগল। এক জায়গায় এসে তার চোখ আটকে গেল। সেখানে লেখা ছিল, দশ বছর আগে এই বাড়িতে একটি খুন হয়েছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আরিয়ানের বাবা, জমিদার রাশেদ এবং গ্রামের আরও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে দরজা খোলার শব্দ হলো।
একজন বৃদ্ধ ঘরে ঢুকে কাঁপা গলায় বললেন, “বাবা, তুমি এখানে কী করছ? এই ঘরে কেউ ঢুকলে সে আর জীবিত বের হয় না!”
আরিয়ান বৃদ্ধকে চিনতে পারল। তিনি এই বাড়ির পুরোনো দারোয়ান, করিম চাচা।
“আমার বাবাকে আপনি চিনতেন?” আরিয়ান প্রশ্ন করল।
বৃদ্ধের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “শুধু চিনতাম না, বাবার শেষ রাতেও আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম।”
“তাহলে তিনি কোথায়?”
করিম চাচা উত্তর দেওয়ার আগেই বাড়ির ওপরতলা থেকে আরেকটি গুলির শব্দ ভেসে এল!
দুজনেই দৌড়ে ওপরে গেল। সেখানে পড়ে ছিল গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে সাদমান। তার পাশে পড়ে থাকা কাগজে লেখা—
“প্রথম খুন ছিল সতর্কবার্তা। এবার পালা গোয়েন্দার!”
আরিয়ান কাগজটি হাতে নিয়ে বুঝতে পারল, খুনি শুধু এই বাড়ির ভেতরেই নেই—সে আরিয়ানের প্রতিটি পদক্ষেপের খবর জানে।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি তখনও তার অজানা ছিল।
করিম চাচা আড়ালে গিয়ে ফোন বের করলেন। ওপাশ থেকে কেউ কথা বলতেই তিনি ফিসফিস করে বললেন—
“স্যার, আরিয়ান সব জেনে যাচ্ছে। এবার কি ওকেও সরিয়ে দেব?”
ফোনের ওপাশ থেকে উত্তর এল—
“না। ওকে বাঁচতে দাও। কারণ ওর বাবার আসল পরিচয় ও এখনো জানে না!”
