Worked for 10s
🖤 অনিচ্ছায় তুমি, অনুভবে তুমি 🖤
লেখিকা: হুমাইরা জান্নাত
পর্ব: ০২
সকালের আলো ধীরে ধীরে চৌধুরী বাড়ির প্রতিটি জানালায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বাড়ির সবাই একে একে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে নাশতা তৈরির শব্দ। কাজের লোকেরা ব্যস্ত, আর বসার ঘরে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন মাহির চৌধুরী।
তিন বছর পর বাড়ির বড় ছেলে ফিরে এসেছে। তাই আজ সবার মনেই আলাদা আনন্দ।
অন্যদিকে, নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিল মাহিরা।
গত রাতে অনেকক্ষণ পর্যন্ত তার ঘুম আসেনি। তিন বছর পর আরহামকে সামনে থেকে দেখেছে সে। অথচ মানুষটার মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই। সেই একই গম্ভীর মুখ, একই অবহেলা।
মাহিরা বালিশের পাশে রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখল।
সকাল আটটা!
সে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে বসে বলল,
— আল্লাহ! আজকে তো আমার ক্লাস আছে!
দ্রুত বিছানা ছেড়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ল সে।
কিছুক্ষণ পর গোসল সেরে বেরিয়ে এসে আলমারি খুলল। একটা সুন্দর সালোয়ার-কামিজ বের করে পরে নিল। তারপর চুলগুলো আঁচড়ে ব্যাগ গোছাতে শুরু করল।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বলল,
— আজকে কিন্তু কোনোভাবেই মেজাজ খারাপ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তানিয়ার সঙ্গে একটু আড্ডা দেব। তারপর বাসায় ফিরে শান্তিতে থাকব।
কথাটা বলেই নিজেকে একটা হাসি উপহার দিল।
কিন্তু নিচে যে তার জন্য অন্য রকম একটা সকাল অপেক্ষা করছে, সেটা সে জানত না।
অন্যদিকে, আরহামের ঘর।
আরহাম ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিন বছর পর নিজের বাড়িতে ফিরলেও তার প্রতিদিনের অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
— আসব বাবা?
আরহাম দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,
— আসো, মা।
মেহেরিমা বেগম ঘরে ঢুকে ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
— ঘুম ভালো হয়েছে তো?
— হ্যাঁ, মা।
— চল, নিচে চল। সবাই নাশতার টেবিলে তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
আরহাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
— তোমরা খেয়ে নিলেই পারতে। আমার জন্য অপেক্ষা করার কী আছে?
মেহেরিমা বেগম ছেলের কাছে এসে তার কাঁধে হাত রাখলেন।
— তিন বছর পর ছেলে বাড়ি ফিরেছে। তার সঙ্গে একসঙ্গে নাশতা করব না, তা কি হয়?
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
— আচ্ছা, চলো।
দুজন একসঙ্গে নিচে নেমে এল।
নাশতার টেবিলে তখন জাহানারা বেগম, মাহির চৌধুরীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বসে ছিলেন।
আরহামকে দেখে দাদি বললেন,
— আয়, বাবা। আমার পাশে এসে বস।
আরহাম দাদির পাশে বসে বলল,
— কেমন আছেন, দাদি?
— আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস, সেটাই বল।
— ভালো আছি।
জাহানারা বেগম নাতির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
— এবার আর কোথাও যাওয়ার কথা ভাববি না। অনেক দিন তো বিদেশে থাকলি।
আরহাম মৃদু হেসে বলল,
— আপাতত কোথাও যাচ্ছি না, দাদি।
— এই তো আমার ভালো ছেলে!
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মাহিরা বলে উঠল,
— সুপ্রভাত সবাইকে!
সবাই তার দিকে তাকাল।
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— এই তো আমাদের ঘুমকুমারী এসে গেছে!
মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— মা, আমি কিন্তু ঘুমকুমারী না। আমার ঘুমের খুব শখ, এই যা!
দাদি হেসে বললেন,
— আয় মা, এখানে বস।
মাহিরা দাদির পাশে বসতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার চোখ পড়ল আরহামের দিকে।
গত রাতের মতো আজও মানুষটা নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে।
মাহিরা মনে মনে বলল,
'বাহ! দেশে ফিরে প্রথম সকালেই ফোনের সঙ্গে প্রেম শুরু হয়ে গেছে!'
নিজের মনেই হেসে ফেলল সে।
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— কী হয়েছে, মা? একা একা হাসছিস কেন?
মাহিরা দ্রুত মাথা নেড়ে বলল,
— কিছু না, মা। এমনিই।
জাহানারা বেগম মাহিরাকে খাবার দিতে দিতে বললেন,
— নে মা, নাশতা কর।
মাহিরা প্লেটে খাবার নিয়ে খেতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর মেহেরিমা বেগম বললেন,
— মাহিরা, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবি?
— হ্যাঁ, মা। আজকে ক্লাস আছে।
— আরহামও আজ অফিসে যাবে। চাইলে ওর সঙ্গে চলে যেতে পারিস।
কথাটা শুনে মাহিরার হাত থেমে গেল।
সে একবার আরহামের দিকে তাকিয়ে আবার মায়ের দিকে তাকাল।
— না মা, আমার গাড়ি আছে। আমি নিজেই চলে যাব।
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— আরে, একই পথে গেলে একসঙ্গে যেতে সমস্যা কী?
মাহিরা কিছু বলার আগেই আরহাম গম্ভীর গলায় বলল,
— আমার অফিসে যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট। ওর ক্লাসের সময়ের সঙ্গে মিলবে কি না জানি না।
মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— চিন্তা করবেন না। আপনাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
আরহাম এবার ফোন থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকাল।
— আমি তো অপেক্ষা করার কথাও বলিনি।
মাহিরা মুচকি হেসে বলল,
— আমিও তো বলিনি যে আপনি অপেক্ষা করবেন।
দুজনের কথার মাঝখানে জাহানারা বেগম বলে উঠলেন,
— তোরা দুজন নাশতা করবি, নাকি সকাল সকাল ঝগড়া শুরু করবি?
মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে দাদির গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
— দাদি, আমি তো কিছুই বলিনি। উনিই আমাকে কথা শোনাচ্ছেন।
আরহাম বিরক্ত হয়ে বলল,
— আমি তোমাকে কিছু বলিনি।
— আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি কিছু বলেননি। আমি নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলছিলাম।
মাহিরার কথা শুনে দাদি হেসে ফেললেন।
আরহাম আর কোনো উত্তর না দিয়ে আবার নিজের খাবারে মনোযোগ দিল।
মাহিরা মনে মনে বলল,
'উফ! কী অসহ্য মানুষ!'
নাশতা শেষ করে মাহিরা ব্যাগ হাতে উঠে দাঁড়াল।
— মা, আমি যাচ্ছি।
রোকেয়া বেগম বললেন,
— সাবধানে যাস। আর দুপুরে সময়মতো খেয়ে নিবি।
— ঠিক আছে, মা।
দাদির কাছে গিয়ে সালাম করে বেরিয়ে গেল সে।
আরহামও কিছুক্ষণ পর অফিসে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল।
জাহানারা বেগম নাতির হাত ধরে বললেন,
— বাবা, মাহিরার সঙ্গে একটু ভালোভাবে কথা বলিস। মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে।
আরহাম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— দাদি, আমি এখন অফিসে যাচ্ছি। পরে কথা হবে।
কথাটা বলে সে বেরিয়ে গেল।
জাহানারা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তিনি মনে মনে শুধু একটাই প্রার্থনা করলেন, একদিন যেন এই দুজন মানুষ একে অপরকে বুঝতে শেখে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গাড়ি থেকে নেমে মাহিরা তানিয়াকে ফোন করল।
— হ্যালো, তানিয়া! কোথায় তুই?
ওপাশ থেকে তানিয়া বলল,
— গেটের সামনে। তুই কোথায়?
— আমিও চলে এসেছি। দাঁড়া, আসছি।
ফোন রেখে মাহিরা দ্রুত গেটের দিকে এগিয়ে গেল।
তানিয়া তাকে দেখেই বলল,
— এই যে ম্যাডাম! আজ এত দেরি কেন?
মাহিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— আর বলিস না। সকালে বাসায় এমন একটা বিরক্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলাম!
তানিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কী হয়েছে আবার?
মাহিরা চারদিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
— আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিরক্তিটা আবার বাসায় ফিরে এসেছে।
তানিয়া কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলল।
— আরহাম ভাইয়া?
মাহিরা চোখ বড় বড় করে বলল,
— আস্তে! এত জোরে বলছিস কেন?
— তাহলে ঠিকই ধরেছি!
— হ্যাঁ। মানুষটা দেশে ফিরে এসেছে, আর আমার শান্তিটাও মনে হয় সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।
তানিয়া হাসতে হাসতে বলল,
— আচ্ছা, আচ্ছা। এবার বল, কাল রাতে তোদের কথা হয়েছে?
মাহিরা মুখ গম্ভীর করে বলল,
— কথা হয়েছে মানে? দুটো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তাও এক শব্দে!
— বাহ! তিন বছর পর দেখা, আর কথাবার্তা মাত্র দুই শব্দে?
— হ্যাঁ। মনে হয় শব্দেরও অভাব পড়েছে!
দুজনেই হেসে উঠল।
তানিয়া মাহিরার হাত ধরে বলল,
— বাদ দে। আজ সারাদিন শুধু পড়াশোনা আর আড্ডা। কোনো মন খারাপ চলবে না।
মাহিরা হাসিমুখে বলল,
— একদম ঠিক বলেছিস। আমি আর কারও জন্য নিজের মেজাজ নষ্ট করব না।
এরপর দুজন ক্লাসরুমের দিকে এগিয়ে গেল।
অন্যদিকে, চৌধুরী গ্রুপের অফিস।
আরহাম নিজের কেবিনে বসে কাজ করছিল। তিন বছর বিদেশে থাকার পরও ব্যবসার প্রতিটি বিষয় তার নখদর্পণে।
তার ব্যক্তিগত সহকারী রায়ান কিছু ফাইল নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করল।
— স্যার, আপনার আজকের মিটিংয়ের ফাইলগুলো।
আরহাম ফাইলগুলো হাতে নিয়ে বলল,
— টেবিলে রেখে যাও।
— জি, স্যার।
রায়ান ফাইল রেখে চলে যেতে উদ্যত হলে আরহাম বলল,
— এক মিনিট।
রায়ান থেমে গেল।
— জি, স্যার?
— আগামী কয়েক দিনের মিটিংগুলো একটু গুছিয়ে দাও। পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাই।
রায়ান অবাক হলেও কিছু প্রকাশ করল না।
— ঠিক আছে, স্যার।
আরহাম আবার কাজে মনোযোগ দিল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার ফোনে একটি কল এল।
ফোনের স্ক্রিনে মায়ের নাম দেখে কল রিসিভ করল।
— হ্যাঁ, মা।
ওপাশ থেকে মেহেরিমা বেগম বললেন,
— বাবা, আজ কি সময়মতো বাসায় ফিরতে পারবি?
— কেন, মা?
— তোর দাদি সবাইকে নিয়ে সন্ধ্যায় একসঙ্গে বসতে চায়। তুই থাকলে ভালো হয়।
আরহাম কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— ঠিক আছে। চেষ্টা করব।
— চেষ্টা না, সময়মতো আসবি কিন্তু।
আরহাম মৃদু হেসে বলল,
— আচ্ছা, মা।
কল শেষ করে সে আবার কাজে মন দিল।
বিকেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে মাহিরা বাড়ি ফিরল।
বাড়িতে ঢুকেই সে বুঝতে পারল, সবাই বসার ঘরে বসে আছে।
তানিয়ার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে তার মনটাও বেশ ভালো হয়ে গেছে।
সে হাসিমুখে বলল,
— আসসালামু আলাইকুম! আমার অনুপস্থিতিতে কী কী আলোচনা হচ্ছে?
জাহানারা বেগম হেসে বললেন,
— আয় মা, তোর কথাই বলছিলাম।
মাহিরা অবাক হয়ে বলল,
— আমার কথা? আবার কী করলাম আমি?
মাহির চৌধুরী হেসে বললেন,
— তুই নাকি আজকাল পড়াশোনার চেয়ে আড্ডা বেশি দিস?
মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে তানিয়ার নাম না নিয়ে বলল,
— বাবা, এগুলো সব মিথ্যা অপবাদ! আমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করি।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল,
— সেটা তো তোর রেজাল্ট দেখলেই বোঝা যাবে।
মাহিরা ঘুরে তাকাল।
আরহাম!
সে কখন যে বাড়িতে এসেছে, মাহিরা খেয়ালই করেনি।
মাহিরা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— আমার রেজাল্ট নিয়ে আপনাকে এত চিন্তা করতে হবে না।
আরহাম স্বাভাবিক গলায় বলল,
— আমি চিন্তা করছি না। শুধু বললাম।
মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— তাহলে না বললেও পারতেন।
আরহাম কোনো উত্তর দিল না।
সে সোফায় বসে পড়ল।
জাহানারা বেগম দুজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
— তোরা দুজন একটু শান্তিতে থাকতে পারিস না?
মাহিরা দাদির পাশে গিয়ে বসে বলল,
— দাদি, আমি কিন্তু শান্তিতেই থাকি। কেউ কেউ আমাকে শান্তিতে থাকতে দেয় না।
আরহাম এবার তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— সব দোষ আমার?
মাহিরা মিষ্টি হেসে বলল,
— আপনি চাইলে নিজের দোষ নিজেই বুঝতে পারেন।
কথাটা শুনে মাহির চৌধুরী হেসে ফেললেন।
আরহাম শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
তবে আজ প্রথমবার তার মনে হলো, মাহিরা আগের মতো নেই।
আগে সে আরহামের সামনে এলেই নানা অজুহাতে কথা বলার চেষ্টা করত। আর এখন সুযোগ পেলেই তার সঙ্গে তর্ক করছে।
কিন্তু কেন?
এই প্রশ্নটা এক মুহূর্তের জন্য তার মনে এলেও সে গুরুত্ব দিল না।
অন্যদিকে, মাহিরাও মনে মনে ঠিক করে নিল, আরহামের সঙ্গে যতটা সম্ভব কম কথা বলবে।
কিন্তু একই বাড়িতে থাকলে কি আর এত সহজে সেটা সম্ভব?
সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।
সন্ধ্যার আড্ডা, পরিবারের হাসি-আনন্দ আর দুজনের ছোট ছোট খুনসুটির মধ্য দিয়ে চৌধুরী বাড়ির দিনটা শেষ হতে চলল।
কিন্তু তাদের সম্পর্কের বরফ এখনো গলেনি।
বরং তিন বছর পর শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়—যেখানে অভিমান আছে, বিরক্তি আছে, তর্ক আছে; আর আছে একে অপরকে নতুন করে চেনার অপেক্ষা।
চলবে… 🖤
পর্বটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে কমেন্টে জানিয়ো।
***উপন্যাস টির পর্ব তাড়াতাড়ি পেতে হলে আমার ফেসবুক পেজ (হুমাইরা জান্নাত//Humaira Jannat) পেজটি ফলো করে রাখো ওখানে ___ অনিচ্ছায় তুমি, অনুভবে তুমি উপন্যাস এর পর্ব তাড়াতাড়ি দেওয়া হবে। তাই পেজটি ফলো করে রাখো 🌸
