#অনিচ্ছায় তুমি, অনুভবে তুমি
#লেখিকা: হুমাইরা জান্নাত
#পর্ব: ০১
চৌধুরী পরিবারের বড় ছেলে আরহাম চৌধুরী। পরিবারের সবার আদরের ছেলে হলেও তার স্বভাব ছিল ভীষণ গম্ভীর, রাগী আর জেদি। নিজের সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কারও কথা শুনতে সে পছন্দ করত না। তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পরিবারের অনেকেরই হতো না। অথচ এই মানুষটিই একসময় পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি থাকত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার স্বভাব বদলেছে, বেড়েছে গম্ভীরতা, আর নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখার অভ্যাস হয়েছে আরও গভীর।
আজ দীর্ঘ তিন বছর পর লন্ডন থেকে নিজের দেশে ফিরছে আরহাম চৌধুরী।
তিন বছর আগে যে মানুষটা বিয়ের রাতেই নিজের স্ত্রীকে একা ফেলে বিদেশে চলে গিয়েছিল, আজ সে আবার ফিরে আসছে সেই বাড়িতে। যে বাড়িতে তার শৈশব কেটেছে, যে বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করে আছেন মা-বাবা, দাদি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। আর সেই বাড়িতেই রয়েছে তার স্ত্রী—মাহিরা চৌধুরী।
কিন্তু আরহাম কি কখনো মাহিরাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছে?
নাকি তিন বছর আগের মতো আজও তার মনে জমে আছে সেই একই অভিমান?
সেই উত্তর সময়ই দেবে।
অন্যদিকে, চৌধুরী বাড়িতে আজ সকাল থেকেই আনন্দের আমেজ।
বিশাল বাড়িটার প্রতিটি কোণে যেন খুশির ছোঁয়া লেগেছে। কাজের লোকেরা সকাল থেকেই ব্যস্ত। কেউ ঘর গোছাচ্ছে, কেউ রান্নাঘরে খাবার তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কেউ বসার ঘর সাজানোর কাজে লেগেছে। বাড়ির বড় ছেলের ফেরার খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
চৌধুরী পরিবারের গৃহকর্ত্রী মেহেরিমা বেগম সকাল থেকেই এক মুহূর্তের জন্যও বসতে পারছেন না।
কখনো রান্নাঘরে গিয়ে খাবারের খোঁজ নিচ্ছেন, কখনো আবার কাজের লোকদের নির্দেশ দিচ্ছেন।
— শোনো, আরহামের পছন্দের খাবারগুলো ঠিকমতো তৈরি করবে। ও এত দিন পর বাড়ি ফিরছে। কোনো কিছুতে যেন কমতি না থাকে।
রান্নাঘরের একজন কর্মী হেসে বলল,
— জি, বড় ম্যাডাম। আপনি চিন্তা করবেন না। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
মেহেরিমা বেগম মৃদু হেসে বললেন,
— আমার ছেলেটা তিন বছর পর বাড়ি ফিরছে। মা হয়ে একটু চিন্তা তো হবেই।
কথাটা বলতে বলতে তাঁর চোখেমুখে আনন্দ ফুটে উঠল।
তিন বছর ধরে ছেলেকে কাছে পাননি তিনি। ফোনে কথা হয়েছে, ভিডিও কলে মুখ দেখেছেন, কিন্তু নিজের হাতে ছেলেকে খাবার পরিবেশন করা কিংবা মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার যে আনন্দ, সেটা তো আর দূর থেকে পাওয়া যায় না।
আজ সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।
বসার ঘরে বসে ছিলেন চৌধুরী পরিবারের প্রবীণ সদস্য জাহানারা বেগম। বয়সের ভারে শরীরটা আগের মতো শক্ত নেই, কিন্তু নাতির দেশে ফেরার খবর শুনে তাঁর মুখে যে আনন্দ ফুটেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
তিনি পাশে বসা মাহির চৌধুরীকে বললেন,
— মাহির, তোর ছেলেটা আজ বাড়ি ফিরছে। কত দিন পর নিজের চোখে দেখব ওকে!
মাহির চৌধুরী মায়ের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন,
— হ্যাঁ, মা। আমিও তো অপেক্ষা করে আছি। ছেলেটা বাড়িতে থাকলে বাড়িটা অন্য রকম লাগে।
জাহানারা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— তা তো লাগবেই। আরহাম ছোটবেলায় কী দুষ্টুই না ছিল! সারাক্ষণ বাড়িময় ঘুরে বেড়াত। আর এখন ফোন করলেও কথার উত্তর দিতে চায় না।
মাহির চৌধুরী হেসে ফেললেন।
— মা, তোমার নাতি এখন বড় হয়েছে। ব্যবসা সামলায়, কাজের চাপ আছে।
— তাই বলে নিজের দাদির সঙ্গে একটু বেশি কথা বলা যায় না?
— এবার সামনে পেলে যত খুশি কথা বলে নিয়ো।
দাদিও মৃদু হেসে উঠলেন।
ঠিক তখনই পাশ থেকে মেহেরিমা বেগম বলে উঠলেন,
— তোমরা শুধু আরহামের কথাই বলছ! আমার ছেলেটা আসার পর ওকে নিয়ে একটু শান্তিতে বসতেও দেবে না দেখছি।
মাহির চৌধুরী হেসে বললেন,
— ভাবি, আপনার ছেলেকে তো আমরা তিন বছর পর দেখব। একটু আদর করার অধিকার আমাদেরও আছে।
— আদর করবে, তাতে আপত্তি কী? কিন্তু সবাই মিলে ওকে ঘিরে ধরলে আবার রেগে যাবে।
কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠলেন।
চৌধুরী বাড়িতে আজ সত্যিই উৎসবের পরিবেশ।
কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও একজনের অনুপস্থিতি যেন সবার চোখে পড়ছিল।
মাহিরা এখনো বাড়ি ফেরেনি।
আর এই মাহিরাই জানে না, তার জীবনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর মানুষটি আজ আবার তার সামনে এসে দাঁড়াতে চলেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে বান্ধবী তানিয়ার সঙ্গে বের হচ্ছিল মাহিরা চৌধুরী।
মাহিরা দেখতে মিষ্টি, স্বভাবে চঞ্চল, আর কথাবার্তায় ভীষণ প্রাণবন্ত। তার মুখে হাসি লেগেই থাকে। সে যেখানে যায়, সেখানে নিজের দুষ্টুমি আর মিষ্টি কথায় পরিবেশটা প্রাণবন্ত করে তোলে।
তবে তার হাসিখুশি স্বভাবের আড়ালেও কিছু কষ্ট লুকিয়ে আছে। এমন কিছু কষ্ট, যেগুলো সে কাউকে বুঝতে দিতে চায় না।
তানিয়া মাহিরার কাঁধে হাত রেখে বলল,
— এই যে ম্যাডাম, আজ ক্লাসে এত চুপচাপ ছিলে কেন? তোমার শরীর খারাপ নাকি?
মাহিরা চোখ বড় বড় করে তাকাল।
— আমি চুপচাপ ছিলাম? তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
— হ্যাঁ, তুই চুপচাপ ছিলি। সাধারণত তুই ক্লাসে যত কথা বলিস, আজ তার অর্ধেকও বলিসনি।
মাহিরা হেসে বলল,
— তাহলে বুঝে নে, আজ তোর ভাগ্য ভালো ছিল। আমার কথা কম শুনতে হয়েছে।
তানিয়া মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— বাহ! নিজের প্রশংসা নিজেই করছিস?
— অবশ্যই! নিজের প্রশংসা নিজে না করলে অন্য কেউ করবে নাকি?
দুজনেই হেসে উঠল।
কিছুক্ষণ পর তানিয়া বলল,
— আচ্ছা, আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি যাচ্ছিস কেন? কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা আছে নাকি?
মাহিরা ব্যাগের ফিতা ঠিক করতে করতে বলল,
— না রে। বাসায় যাব। মা নিশ্চয়ই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
— তাহলে ঠিক আছে। কাল দেখা হবে।
— হুম। আর শোন, কাল কিন্তু অ্যাসাইনমেন্টটা করে নিয়ে আসবি। পরে আবার আমার পেছনে পড়বি না!
— আচ্ছা, মা! এবার যা!
বান্ধবীকে বিদায় জানিয়ে মাহিরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল।
গাড়িতে বসে সে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। রাস্তার দুপাশের পরিচিত দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে কখন যে বাড়ির সামনে এসে পৌঁছেছে, বুঝতেই পারেনি।
গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই তার কানে এল হাসির শব্দ।
মাহিরা ভ্রু কুঁচকে চারদিকে তাকাল।
— বাহ! আজ বাড়িতে এত আনন্দ কিসের? কারও জন্মদিন নাকি? নাকি সবাই মিলে আমার বিয়ে ভেঙে দেওয়ার অনুষ্ঠান করছে?
নিজের কথায় নিজেই হেসে ফেলল সে।
ব্যাগটা হাতে নিয়ে বসার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল মাহিরা।
সেখানে ঢুকতেই দেখল, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে আছেন। মায়ের মুখে হাসি, বাবার মুখেও আনন্দ, আর দাদি তো যেন খুশিতে আত্মহারা।
মাহিরা অবাক হয়ে বলল,
— কী ব্যাপার? আমাকে বাদ দিয়ে এত আনন্দ কিসের? আমি কি এই বাড়ির কেউ না?
মেহেরিমা বেগম হেসে বললেন,
— আরে, তুই এসে গেছিস? আয়, এখানে বস।
মাহিরা ব্যাগটা সোফায় রেখে দাদির পাশে গিয়ে বসল।
— বলো তো দাদি, কী হয়েছে? সবাই এমন খুশি কেন?
জাহানারা বেগম স্নেহভরা চোখে নাতনির দিকে তাকালেন।
— মা, তোর জন্য একটা খবর আছে।
মাহিরা কৌতূহলী হয়ে উঠল।
— কী খবর? আমার জন্য আবার কী খবর?
মাহির চৌধুরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
— আরহাম দেশে ফিরেছে, মা।
কথাটা শুনেই মাহিরার মুখের হাসি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
মনে হলো, চারপাশের সব শব্দ হঠাৎ থেমে গেছে।
সে কয়েক মুহূর্ত বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল,
— ওহ্! কবে ফিরেছে?
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— আজই। তিন বছর পর বাড়ি ফিরল ছেলেটা।
মাহিরা নিজের আঙুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরল।
তিন বছর!
পুরো তিন বছর পর!
যে মানুষটা তার বিয়ের রাতেই তাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিল, সেই মানুষটা আবার দেশে ফিরেছে।
মাহিরা ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,
— ভালো তো। এত দিন পর বাড়ি ফিরেছে, সবাই নিশ্চয়ই খুব খুশি।
জাহানারা বেগম নাতনির হাত ধরে বললেন,
— তুই খুশি হোসনি, মা?
প্রশ্নটা শুনে মাহিরা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
তারপর হেসে বলল,
— আমি আবার কেন খুশি হব, দাদি? ও তো আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। দেশে ফিরেছে, ভালো কথা। এতে আমার কী?
কথাগুলো বলার সময় সে যথাসম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিল।
কিন্তু তার বুকের ভেতরে যে ঝড় উঠেছে, তা কেউ দেখতে পাচ্ছিল না।
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— আরে, এমন করে বলছিস কেন? আরহাম তোর স্বামী। ও বাড়ি ফিরেছে, তুই অন্তত ওর সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলিস।
মাহিরা এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
— মা, প্লিজ! এই মুহূর্তে এসব কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।
কথাটা বলেই সে উঠে দাঁড়াল।
— আমার মাথাটা একটু ধরেছে। আমি উপরে যাচ্ছি।
জাহানারা বেগম কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।
তিনি জানেন, মাহিরার মনে অনেক কষ্ট জমে আছে। কিন্তু সেই কষ্টের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলে না মেয়েটা।
মাহিরা দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
তারপর ব্যাগটা এক পাশে রেখে বিছানায় বসে পড়ল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর নিজের মনেই ফিসফিস করে বলল,
— আরহাম চৌধুরী দেশে ফিরেছে!
তার ঠোঁটে তিক্ত হাসি ফুটে উঠল।
— তিন বছর পর মনে পড়ল এই বাড়ির কথা? মনে পড়ল নিজের পরিবারের কথা? নাকি এবারও কিছুদিন থেকে আবার চলে যাবে?
কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখের কোণে পানি জমে উঠল।
মাহিরা দ্রুত চোখ মুছে ফেলল।
— না, মাহিরা। তুই আর কাঁদবি না। যে মানুষটা তোর চোখের পানির মূল্য দেয়নি, তার জন্য আর এক ফোঁটা পানিও ফেলবি না।
কিন্তু মন কি আর এত সহজে কথা শোনে?
মাহিরা বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল।
আর ঠিক তখনই তার মনে পড়ে গেল তিন বছর আগের সেই দিনটার কথা।
যে দিনটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ হওয়ার কথা ছিল।
অথচ সেই দিনটাই তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিতে পরিণত হয়েছিল।
তিন বছর আগে।
চৌধুরী বাড়িতে তখন বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। কেউ বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা করছে, আবার কেউ রান্নাঘরে খাবার তৈরির কাজে সাহায্য করছে।
বাড়ির সবাই খুব খুশি।
কারণ, পরিবারের বড় ছেলে আরহাম চৌধুরীর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
আর পাত্রী?
নিজের চাচাতো বোন মাহিরা চৌধুরী।
ছোটবেলা থেকেই মাহিরা আর আরহাম একই বাড়িতে বড় হয়েছে। মাহিরা সব সময় আরহামের পেছনে ঘুরত। কখনো তার ঘরে গিয়ে বিরক্ত করত, কখনো তার বই লুকিয়ে রাখত, আবার কখনো সামান্য কারণে তার সঙ্গে ঝগড়া করত।
আরহাম বেশির ভাগ সময় বিরক্ত হলেও মাহিরার দুষ্টুমিগুলো নীরবে সহ্য করত।
মাহিরার কাছে আরহাম ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।
সে কখনো মুখ ফুটে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেনি। কিন্তু পরিবারের অনেকেই বুঝতে পারতেন, মাহিরার মনে আরহামকে নিয়ে আলাদা একটা জায়গা রয়েছে।
অন্যদিকে, আরহাম ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
সে মাহিরাকে ছোট বোনের মতো দেখত কি না, নাকি তার অনুভূতিগুলো অন্য রকম ছিল, তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানত না। তবে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই সে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সে এই বিয়ে করতে চায় না।
সেদিন চৌধুরী পরিবারের সবাই বসার ঘরে একত্রিত হয়েছিলেন।
আরহাম গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে বলল,
— আমি আগেও বলেছি, এই বিয়েতে আমার মত নেই। আমি মাহিরাকে বিয়ে করব না।
মাহির চৌধুরী কঠিন গলায় বললেন,
— আরহাম, সব সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছামতো নেওয়া যায় না। পরিবারের কথাও ভাবতে হয়।
আরহাম সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
— নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি আমার নেই?
— অধিকার আছে। কিন্তু তোর পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব আছে।
আরহাম বিরক্ত হয়ে বলল,
— দায়িত্বের কথা বলে আমাকে এমন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে দেবেন না, যেটা আমি চাই না।
ঘরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠল।
পাশে বসে থাকা জাহানারা বেগম ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
— আরহাম, বাবা, আমার কাছে আয়।
আরহাম দাদির কাছে এগিয়ে গেল।
— বলুন, দাদি।
জাহানারা বেগম নাতির হাত ধরে বললেন,
— তোর দাদু বেঁচে থাকতে একটা ইচ্ছা করেছিল। সে চেয়েছিল, এই দুই পরিবারের সম্পর্ক আরও গভীর হোক। তোর আর মাহিরার বিয়ে দেখে যেতে চেয়েছিল সে।
আরহাম মুখ ফিরিয়ে নিল।
— দাদু এখন আর নেই, দাদি।
— জানি, বাবা। কিন্তু আমি তো আছি।
বৃদ্ধার চোখে পানি জমে উঠল।
— আমার বয়স হয়েছে। জীবনে আর কত দিন আছি জানি না। আমার শেষ ইচ্ছেটুকু কি তুই পূরণ করতে পারবি না?
আরহাম চুপ করে রইল।
জাহানারা বেগম আবার বললেন,
— আমি তোকে জোর করতে চাই না। শুধু চাই, তুই একবার ভেবে দেখিস। মাহিরা তোকে অনেক ভালোবাসে। তুই ওকে বিয়ে করলে হয়তো একদিন তোদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হবে।
আরহাম বিরক্ত গলায় বলল,
— ভালোবাসা কি জোর করে হয়, দাদি?
— না, বাবা। ভালোবাসা জোর করে হয় না। কিন্তু একটা সম্পর্ককে সময় দেওয়া যায়।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
দাদির চোখের পানি সে সহ্য করতে পারত না। ছোটবেলা থেকে এই মানুষটাই তাকে সবচেয়ে বেশি আদর করেছেন।
শেষ পর্যন্ত দাদির ইচ্ছার কাছে হার মেনে সে বলল,
— ঠিক আছে। আপনার ইচ্ছা পূরণ হবে। আমি বিয়ে করতে রাজি।
জাহানারা বেগমের মুখে আনন্দ ফুটে উঠল।
কিন্তু আরহাম সঙ্গে সঙ্গেই বলল,
— তবে একটা কথা মনে রাখবেন, আমি এই বিয়ে করছি শুধু আপনার জন্য। আমার কাছ থেকে ভালোবাসা আশা করবেন না।
কথাটা বলেই সে সেখান থেকে চলে গেল।
আর পাশের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিরা কথাগুলো শুনে ফেলেছিল।
তার চোখে পানি এলেও ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
সে নিজের মনকে বোঝাল,
— সমস্যা নেই। বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। একদিন না একদিন আরহাম আমাকে বুঝবে।
কিন্তু সে জানত না, ভালোবাসার স্বপ্ন দেখা যত সহজ, সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলে নিজেকে সামলানো ততটাই কঠিন।
বিয়ের দিনটি এসে গেল।
চারদিকে সাজসজ্জা, আত্মীয়স্বজনের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর শুভেচ্ছায় ভরে উঠল চৌধুরী বাড়ি।
মাহিরাকে লাল বেনারসি আর গয়নায় অপরূপ লাগছিল।
তার মুখে লাজুক হাসি, চোখে নতুন জীবনের স্বপ্ন।
বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো।
সবাই নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন। মাহিরার বান্ধবীরা তাকে নিয়ে মজা করল, হাসাহাসি করল।
কিন্তু আরহাম পুরো সময়টা গম্ভীর হয়ে বসে রইল।
মাহিরা কয়েকবার তার দিকে তাকিয়েছিল। প্রতিবারই মনে মনে ভেবেছিল, হয়তো আরহাম একটু হাসবে, হয়তো তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে।
কিন্তু আরহামের মুখে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না।
রাত বাড়ল।
অতিথিরা একে একে বিদায় নিলেন।
মাহিরাকে বাসরঘরে বসিয়ে দিয়ে পরিবারের নারীরা নানা রকম মজা করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
ঘরটা ফুল দিয়ে সাজানো। বিছানার ওপর গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো। চারদিকে মিষ্টি সুবাস।
মাহিরা বিছানার এক পাশে বসে অপেক্ষা করছিল।
তার বুকের ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছিল। লজ্জা, আনন্দ, ভয় আর অজানা প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে মনটা অস্থির হয়ে উঠেছিল।
সে ভাবছিল, আরহাম ঘরে এলে কী বলবে?
কীভাবে তার সঙ্গে কথা শুরু করবে?
হয়তো আরহাম তাকে বলবে, নতুন জীবনটা তারা একসঙ্গে শুরু করবে।
হয়তো বলবে, অতীতের সব অভিমান ভুলে যেতে।
মাহিরা নিজের মনেই হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই দরজা খোলার শব্দ হলো।
আরহাম ঘরে ঢুকল।
মাহিরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
— আপনি এসেছেন?
আরহাম কোনো উত্তর দিল না।
সে ঘরের এক পাশে রাখা আলমারির কাছে গিয়ে সেটি খুলল।
মাহিরা অবাক হয়ে তাকাল।
আরহাম আলমারি থেকে একটি ব্যাগ বের করল। তারপর নিজের পাসপোর্ট, ভিসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যাগে রাখতে শুরু করল।
মাহিরা এবার বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল।
— আপনি কী করছেন?
আরহাম শান্ত অথচ কঠিন গলায় বলল,
— তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
মাহিরা ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে গেল।
— কী কথা?
আরহাম ব্যাগটা পাশে রেখে তার দিকে তাকাল।
— প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে দিই। আমি এই বিয়ে মেনে নিতে পারিনি।
মাহিরার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
আরহাম আবার বলল,
— আমি এই বিয়ে করেছি শুধু দাদির ইচ্ছার জন্য। তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি আমি তোমাকে দিচ্ছি না।
মাহিরা অবিশ্বাসের চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— কিন্তু এখন তো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে!
— বিয়ে হয়েছে পরিবারের ইচ্ছায়। আমার ইচ্ছায় নয়।
— তাহলে আপনি বিয়েতে রাজি হলেন কেন?
আরহাম বিরক্ত হয়ে বলল,
— দাদির কথা ফেলতে পারিনি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমার অনুভূতিগুলো বদলে গেছে।
মাহিরার চোখ ভিজে উঠল।
তবু সে কাঁপা গলায় বলল,
— আমি আপনার কাছে কিছু চাইব না। আপনাকে ভালোবাসতে হবে, এমন কোনো শর্তও দেব না। শুধু আমাকে একটু সময় দিন। আমরা ধীরে ধীরে একে অপরকে বুঝতে পারি।
আরহাম মাথা নাড়ল।
— না, মাহিরা। তুমি আমার কাছ থেকে কোনো আশা রেখো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আর এই মুহূর্তে তোমাকে ভালোবাসার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই।
কথাগুলো মাহিরার বুকের ভেতরটা ভেঙে দিল।
সে চোখের পানি আটকে বলল,
— আমি কি এতটাই খারাপ?
আরহাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
মাহিরা আবার বলল,
— আমি কি এমন কিছু করেছি, যার জন্য আপনি আমাকে এতটা অপছন্দ করেন?
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— বিষয়টা তোমার ভালো-মন্দের নয়। আমি এই বিয়ে চাইনি। তুমি আমার কাছ থেকে ভালোবাসা আশা করবে না। আমার জন্য নিজের জীবন থামিয়ে রাখবে না।
মাহিরা এবার আর কোনো কথা খুঁজে পেল না।
আরহাম ব্যাগটা হাতে তুলে নিল।
মাহিরা অবাক হয়ে বলল,
— আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
— লন্ডনে।
— এখন?
— হ্যাঁ। আমার যাওয়ার ব্যবস্থা করা আছে।
মাহিরা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
— আজ আমাদের বিয়ে হয়েছে। আর আপনি আজ রাতেই চলে যাবেন?
আরহাম গম্ভীর গলায় বলল,
— আমি এখানে থাকলে কোনো কিছু বদলে যাবে না। তাই চলে যাওয়াই ভালো।
মাহিরা তার সামনে এসে দাঁড়াল।
— অন্তত আজ রাতটা থাকুন। সকালে চলে যাবেন। সবাই কী ভাববে?
আরহাম ঠান্ডা গলায় বলল,
— অন্যরা কী ভাববে, সেটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না।
মাহিরার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
— আর আমি? আমার কী হবে?
প্রশ্নটা শুনে আরহাম কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না।
শুধু বলল,
— সময়ের সঙ্গে সবকিছু মেনে নিতে শিখে যাবে।
কথাটা বলে সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
মাহিরা পেছন থেকে ডাকল,
— আরহাম!
সে থামল, কিন্তু পেছনে তাকাল না।
মাহিরা কাঁপা গলায় বলল,
— একটা কথা বলবেন? কোনো দিন কি আমার প্রতি আপনার একটু হলেও মায়া হবে?
আরহাম কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর বলল,
— আমাকে নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখো না, মাহিরা। তাহলে তোমার কষ্ট কম হবে।
এরপর দরজাটা খুলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে মাহিরা যেন বাস্তবে ফিরে এল।
সে ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল।
চারপাশে ফুলের সুবাস, সাজানো ঘর, বিয়ের পোশাক আর হাতে মেহেদি।
কিন্তু যার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই মানুষটাই তাকে একা ফেলে চলে গেল।
সেই রাতে মাহিরা অনেক কেঁদেছিল।
তবু ভোর হওয়ার আগেই নিজের চোখের পানি মুছে নিয়েছিল সে।
নিজের মনকে বলেছিল,
— তুমি চলে যান, আরহাম চৌধুরী। কিন্তু মনে রাখবেন, আমি আপনাকে ভালোবেসেছি বলে নিজের আত্মসম্মান হারাব না। আপনি আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলেও আমি নিজের জীবনটা নষ্ট করব না।
সেই রাতেই আরহাম বিদেশে চলে গেল।
আর মাহিরা থেকে গেল চৌধুরী বাড়িতে—একটি সম্পর্কের নাম নিয়ে, অথচ সেই সম্পর্কের ভালোবাসা ছাড়াই।
বর্তমান।
মাহিরা চোখ খুলতেই বুঝতে পারল, তার গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
সে দ্রুত চোখ মুছে উঠে বসল।
তিন বছর আগের সেই রাতটা আজও তার মনে স্পষ্ট। আর আজ সেই মানুষটাই আবার এই বাড়িতে ফিরে এসেছে।
মাহিরা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল,
— আর না, মাহিরা। অনেক হয়েছে। আর কত দিন পুরোনো কথা মনে করে কাঁদবি? সে তোকে ভালোবাসেনি, আজও হয়তো বাসে না। তাহলে তার ফিরে আসায় তোর এত অস্থির হওয়ার কী আছে?
কথাগুলো বলে সে গভীর শ্বাস নিল।
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
— মাহিরা, মা! দরজা খোল।
মায়ের কণ্ঠ শুনে মাহিরা চোখ মুছে দরজা খুলল।
রোকেয়া বেগম মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— তুই কাঁদছিলি?
মাহিরা জোর করে হেসে বলল,
— না তো, মা। চোখে একটু পানি এসেছিল।
মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
— আরহাম নিচে আছে। সবাই একসঙ্গে বসেছে। তুইও নিচে আয়।
মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— মা, ও কি আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়?
রোকেয়া বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— সেটা জানি না, মা। তবে তিন বছর পর ফিরেছে। তুই চাইলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলিস।
মাহিরা মৃদু হেসে বলল,
— ঠিক আছে, মা। আমি আসছি।
মা চলে যাওয়ার পর মাহিরা নিজের পোশাক ঠিক করে নিল।
তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল।
ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই তার চোখ পড়ল আরহামের ওপর।
সে সোফায় বসে ফোন দেখছিল।
মাহিরার উপস্থিতি টের পেয়ে আরহাম একবার মুখ তুলে তাকাল।
তাদের চোখাচোখি হলো।
তিন বছর পর আবার মুখোমুখি তারা।
মাহিরা কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
আরহামও কোনো কথা বলল না।
পরিবারের সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। জাহানারা বেগম মুচকি হেসে বললেন,
— আরহাম, দেখ তো কে এসেছে!
আরহাম ফোনটা পাশে রেখে স্বাভাবিক গলায় বলল,
— দেখেছি।
মাহিরা কথাটা শুনে মনে মনে তিক্ত হাসল।
তিন বছর পর ফিরে এসেও সেই একই ব্যবহার!
মেহেরিমা বেগম বললেন,
— মাহিরা, তুই বস। আরহাম এত দিন পর ফিরেছে। তোরা একটু কথা বল।
মাহিরা সোফার অন্য পাশে বসে পড়ল।
কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।
অবশেষে মাহিরা নিজেই বলল,
— কেমন আছেন?
আরহাম তার দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
— ভালো।
— লন্ডনে সব ঠিক ছিল?
— হ্যাঁ।
এরপর আবার নীরবতা।
মাহিরা আর কোনো প্রশ্ন করল না।
সে বুঝে গেল, তিন বছর আগে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা এখনো রয়ে গেছে।
কিন্তু এবার সে আর সেই দূরত্ব কমানোর জন্য নিজে থেকে চেষ্টা করবে না।
মাহিরা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, আরহাম তার জীবনে ফিরে এসেছে বলে সে নিজের স্বাভাবিক জীবন থামিয়ে রাখবে না।
সে হাসবে, নিজের পড়াশোনা করবে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাবে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করবে।
আরহাম তাকে ভালোবাসুক বা না বাসুক, নিজের আত্মসম্মান নিয়ে সে বাঁচবে।
অন্যদিকে, আরহামও বুঝতে পারল, মাহিরা আর আগের মতো তার পেছনে ঘুরে বেড়ায় না। তার চোখে সেই পুরোনো উচ্ছ্বাস নেই, কথায় নেই আগের মতো আবদার।
কিন্তু এই পরিবর্তন নিয়ে সে বিশেষ কিছু ভাবল না।
অন্তত নিজেকে সেটাই বোঝাল।
সে জানত না, এই বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকে তাদের দুজনের জীবনে ধীরে ধীরে কত পরিবর্তন আসতে চলেছে।
যে মেয়েটিকে সে তিন বছর আগে নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই মেয়েটির সঙ্গেই একদিন তার জীবনের সবচেয়ে গভীর অনুভূতিগুলো জড়িয়ে যাবে।
কিন্তু সেই দিন আসতে এখনো অনেক দেরি।
আপাতত একই বাড়িতে ফিরে এসেছে দুজন মানুষ—একজন নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে অভ্যস্ত, অন্যজন নিজের কষ্টকে হাসির আড়ালে ঢেকে রাখতে শিখেছে।
তাদের সম্পর্কের নাম স্বামী-স্ত্রী।
কিন্তু তাদের মধ্যে এখনো ভালোবাসার শুরু হয়নি।
চলবে… 🖤
পর্বটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে কমেন্টে জানিয়ো, পরের পর্বে আরহাম ও মাহিরার সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা জানতে চাও কি না।
