#Murderer_in_the_dark_of_night
#writer#sumaiyasultana
🚫 কপি করা নিষেধ
গ্রীষ্ম কালিন দিনের রোদের উত্তাপ কাটিয়ে সন্ধ্যা ছয়টা পঁচিশ মিনিট কালবৈশাখীর ঝড়ও হাওয়া বয়ছে চারপাশে । জানালার পাশে ছোট পড়ার টেবিলে বসে জিহুর সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলো নেহা।
আর কিছুক্ষণ পর পর বজ্র পাতের আওয়াজে কেঁপে উঠছিল ও। বৃষ্টি নেই আছে শুধু জোড়ো হাওয়া আর মাঝে মাঝে বজ্র পাত হচ্ছে এই ওয়েদার নেহার অনেক ভালো লাগে।
জিহুর সাথে কথা বলার একপর্যায়ে কলেজে সেই ঘটনা উল্লেখ করলো সে ,,,
নেহার তখন মনে পড়ে সকালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
ওই সময় ওদের থেকে চোখ সরিয়ে আবার ছেলে গুলোর দিকে তাকাতে দেখলো। একজনে হতে একটা ছোট চুরি হাতের মুঠোয় লুকিয়ে রেখেছে চার পাশে কেউ নেই তারা ছাড়া।
কিছু টা কপাল কুঁচকে আসে নেহার ছেলেটা তার দিকে কিছুটা এগিয়ে আসে নেহা ঠাই নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।
নেহার পাশে থাকা তিন মানবির সেই দিকে কোন হুঁশ নেই।
তারা অবাক হয়ে নেহাকে দেখছে। জিহু মাঝে কিছু টা আতংক বিরাজ করছে নিজের জন্য না ছেলে গুলোর জন্য নেহাকে শান্ত ভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে।
ছেলেটা চুরি দিয়ে আঘাত করার জন্য হাত তুলতে যাবে তার আগে পিছন থেকে কারো কন্ঠ শুনে থেমে যাই। পিছনে আওয়াজে অনুসরণ করে তাকাতে দেখলো কবির স্যার। তিনি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের শিক্ষক। কবির এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলে গুলোর উদ্দেশ্য করে বললেন
— কি করছো তোমরা?
তারপর এক নজর নেহা আরা তার বন্ধুবিদের দেখে নিলো।
ছেলে গুলোর কে কিছু বলতে না দিয়ে নেহা বলে উঠলো,
— স্যার দেখেন আমরা লাইব্রেরীতে যাচ্ছি তখন ওরা এসে আমাদের সামনে দাঁড়ালে।
নেহার কথা শুনে কবির ছেলে গুলোকে বললো,
—তোমরা ওদের পথ আটকে দাঁড়ালে কেনো? কি হয়েছে বলো?
তখন একটা ছেলে হাঁসি মুখে বলে উঠলো,
— আরে স্যার আজকে তো আমার ক্লাস করিনি সামনে তো পরিক্ষা। তাই ওদের কে এখানে দেখে ভাবলাম একবার জিজ্ঞাসা করি পরিক্ষার জন্য কিছু দিয়েছে কিনা।
তাদের কথা শুনে কবির বলে উঠলো
—তোমার ক্লাস করোনি কেনো?
তার কথা শুনে ছেলেটি বল্লো
— একটু সমস্যা ছিলো তাই।
— কালকে ক্লাসে গেলে দেখে নিয়ো এখন সবাই বাসায় যাও।
ছেলে গুলোর নেহার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাঁর পর চলে গেলো ,,
নেহা নিজের মনে বললো
—আজকে কবির স্যার না থাকলে হয়তো কিছু একটা হয়ে যেতে ।
নেহা কবির স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল আর লাইব্রেরীতে যাইনি।
ফোনের ওপাশ থেকে জিহু কথায় দেন ভাঙ্গলো নেহার
—কিরে কি এতো ভাবছিস!
—না কিছু না।
—জিহু এখন তাহলে রাখি কালকে কলেজে গেলে কথা বলবো।
—ঠিক আছে বাই।
--------------------------------------------------------
ঘন অন্ধকারে আমি চুপচাপ হাঁটি,
তবু মন বলে, "আলো পেছনেই থাকে সাথি।"
হাঁপ ধরা ক্লান্তি, কাঁধে কিছু ব্যথা,
তবুও পায়ের নিচে জমে যায় কথা।
যত কষ্ট আসে, বুকের গভীরে,
আমি জেনেছি—তাও বাঁচা হয় ধীরে ধীরে।
নিঃশ্বাস নিয়ে বলি, "আমি আছি তো,"
নিজেকে জড়িয়ে ধরি, শান্ত হই এক ফোঁটা আলোতে।
,,,,,,,,,
হাতে রক্ত মাখামাখি হওয়া মোবাইল এর মেসেজ টুং টুং শব্দে গান বন্ধ করে স্ক্রিনে তাকালো একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে "কাজ শেষ হলে গোরুস্তান এর সামনে চলে এসো ~ মেসেজ পরে একটা বিদঘুটে হাঁসি দিয়ে চলতে শুরু করলো মেসেজে বলা সেই জায়গার উদ্দেশ্যে,,,,,,
গোরস্থান এটা নোয়াখালী সরকারি কবর স্থান যেটা সোনাপুর আর দত্তের হাট এর মাঝ খানে রেললাইন এর পাশে অবস্থিত। একটা অনেক বড় জায়গা নিয়ে করা সারিবদ্ধ ভাবে কবর গুলো সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে গোরস্থান চার পাশে কয়েকটা বাড়ি ঘর আছে। তবে কিছু টা দুরে তোমন মানুষের আনাগোনা নেই দিনের বেলা ও এই জায়গার পাশ দিয়ে গেলে গা কাটা দিয়ে উঠে রাত আটটা থেকে দশটা নাগাদ মানুষের আনাগোনা থাকে বেশি না কম। যে যার বাড়ি পিরছে নিজেদের কাজ শেষ করে কিন্তু রাত ১২ টার পার এটা যেনো আরো ভয়ংকর হয়ে উঠে শুনশান নিস্তব্ধ জায়গা।
রাত তখন ১টা তিন জন লোক গোরস্থানের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে কারো কিছুক্ষণ পরে ওই লোকটা আসে তার নাম হাসান তার হাত এখনো রক্ত মাখা।
হাসান কে দেখে তিন জনের মধ্যে একজন যার নাম রেজাউল সে বলে উঠলো,
— আস্তে এতো দেরি হলো কেনো।
তার উওরে হাসান বললো,
— লাসটার ব্যবস্থা করেতে দেরি হয়ে গেছে।
ফখরুল নামে আরেক জন বললো
— সব ঠিক মতো হয়েছে তো কেউ তোমাকে দেখে নিতে আরে ওই পেনড্রাইভ টা পেয়েছো তো ,
— আরে দাঁড়ান দাঁড়ান এতো উত্তেজিত হবেনা দিরে সুস্থে বলেন।
আমি পেনড্রাইভ নিয়ে এসেছি কিন্তু আমার টাকা।
বলে হাত বাড়িয়ে দিলো।ফখরুল তার হাতের ব্যাগটা ওর হাতে দিয়ে দিলো। রোজাউল বললো,
— প্রেন্ডাইব দাও হাসান।
হাসান তার প্যান্টের পকেট থেকে রক্ত মাখা পেনড্রাইভ আর সাথে একটা কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথা দিয়ে তার টাকা নিয়ে চলে গেলো।
এতোক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা এগিয়ে এসে পলিথিন টা নিয়ে গোরোস্থান এর গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। কিছু দূর গিয়ে দাঁড়ালো লোকটার নাম করিম। রেজাউল, করিম এর দিকে একটা কোদাল এগিয়ে দিলো করিম একটা গর্ত খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো মাথা টা সেখানে পুঁতে দিলো আর বলতে লাগলো
—সা*লা এবার বুঝেছিস 'RK' এর সাথে পাঙ্গা নেওয়া মানে মৃত্যু
~~~~~~~~~
সকল সকল আয়ান তৈরি হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে। আলিফা রহমান এখনো উঠেনি। আয়ান তার রুমে গিয়ে চেক করে এসেছে পকেট থেকে মোবাইল বের করে কি যেনো লিখলো । তার পর আবার পকেটে রেখে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো গাড়ি উদ্দেশ্যে।
গাড়ির স্টেয়ারিং ঘেরাতে ঘোরাতে মেহন কাকা কে ডেকে বললো
— আমি একটু বেরিয়েছি কিছু দরকারি কাজ আছে তুমি মনিকে বলে দিও।
মোহন বাগানের গাছে পানি দিচ্ছিলো আয়ানের কথা শুনে বল্লো।
— ঠিক আছে বাবা বলবো। তুমি নাস্তা করোনি।
মোহনের কথা আয়ান বল্লো
—বাইরে করে নিবো।
বলেই মেনে গেট পেরিয়ে গেলো।
আয়না গাড়ির স্টায়ারিং ঘুরিয়ে গতি বাড়িয়ে বলতে লাগলো।
— "রক্তকাঞ্চন" আসছি আমি তোমাকে আবার নিজের করে নিতে।
~~~~~~~~
সকল সাড়ে দশটা পাখির কিচিরমিচির শব্দে কানে বাজতেই চোখ মেলে তাকাই নেহা। শোয়া থেকে উঠে বসতে কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে গিয়েও তাকাতে পারলো না চোখ আটকালো জানালার পাশে পড়ার টেবিলের উপর ঘড়ির দিকে সাথে সাথে মাথায় হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠলো।
—আল্লাহ আমি এতোক্ষণ কিভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারলাম হাই আল্লাহ দেরি হয়ে গেলো। কি করবো জিহু আমাকে আসতো রাখবেনা।
তাড়াতাড়ি করে বসা থেকে উঠে দোড় দিলো ওয়াস রুমে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে বিছানার পাশের টেবিলের উপর থেকে মোবাইল নিয়ে দেখে জিহুর আইড়ি থেকে 99+ মেসেজ দেখে বললো
— কাম সারছে।
মেসেজের রিপ্লাই না দিয়ে তৈরি হয়ে নিচে আসতে দেখলো সবাই ডাইনিং রুমে বসে আছে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তার মাকে ডেকে বললো
— আমাকে ডাকেনি কেনো।
নেহার কথা শুনে সবাই তারদিকে তাকলো।নেহার কথা শুনে নাজমা বেগম বলে উঠলেন।
—মাইক নেওয়া বাকি ছিলো।কয়বার ডেকেছি শুনেছিলি তুই তা এখন কোথায় যাওয়া হচ্ছে।
মায়ের কথার উত্তরে নেহা বললো।
—কোথায় আর যাবো কলেজে যাচ্ছি।
—এখন কলেজে গিয়ে কী করবি। এখন আর যাওয়া লাগবেনা। আমার কাজে সাহায্য করবি।
—যেতে হবে দেরি হয়ছে তো কী হয়ছে।
নাজমা বেগম আর কিছু বললো না। বলে লাভ হবেনা উল্টো ওনার নিজের সমস্যা বাড়বে তাই চুপ রয়লেন।
নেহা চুপচাপ নাস্তা করে বেরিয়ে পরে কলেজে উদ্দেশ্য। এর মধ্যে কয়েক বার মেসেজ এর আওয়াজ কানে এসেছে নেহার কিন্তু এখন উওর দিবে না। যা শোনার সামনাসামনি শুনবে।
------------------------------------------------------------*------------------------
আলিফা রহমান উঠেছে সকাল ৭টার দিকে কেনো জানি আজকে দেরি হলো ঘুম থেকে উঠে।
তিনি সকালের নাস্তা তৈরি করে জাবতিয় কাজ শেষ করে। আয়ানের জন্য ঠিক করে দেওয়া রুমের দিকে গেলেন। রাতে ঠিক মত কথা বলা হয়নি তাই এখন একটু বসো কথা বলবেন সেই উদ্দেশ্যে আসা রুমে সামনে এসে দরজার কড়া নাড়তেই দরজা খুলে গেলে রুমে ঢুকে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন কোথায় নেই।
ওয়াশরুম বারান্দায় দেখলে না কোথায় নেই মুহুর্তে চিন্তা মাথা চাপা দিলো কোথায় গেলো তড়িঘড়ি করে অনু আর রোওয়ান এর রুম গুলো দেখলে না দরজা লক করা। তাই তিনি বাড়ির বাইরে এলেন হয়তো বাগানে এসেছে এটা ভেবে নিচে আসতেই মোহন এর সাথে দেখা হলো আলিফা রহমান এর মোহন কে আয়ানের কথা বলতে মোহন বল্লো।
—আরে আপা মনি চিন্তা করবেনা আয়ান বাবা কে দেখলাম গাড়ি নিয়ে বের হতে মনে হলো কেনো দরকারে বেরিয়ে ছিলো। আমাকে বলেছে আপনাকে বলতে তাড়াতাড়ি চলে আসে বলেছে।
মোহন এর কথা আলিফা রহমান স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন তিনি ভেবেছিলেন আয়ান হয়তো আবার দেশে ছেড়ে চলে গেছে,,,,,,
আলিফা রহমান তার রুমে গিয়ে বসলেন এইতোটুকু সময়ে তার মাথা ধরেছে ভালো বিছানায়র পাশে টেবিল থেকে নিজে মোবাইল হতে নিয়ে বসলেন বিছানায়।
তার মোবাইল সাইলেন্ট করা জানেন না তিনি আনসাইলেন্ট করতে গিয়ে নোটিফিকেশন বারে চোখ পড়লো আয়ানের থেকে একটা মেসে ৬:০০ দিকে এসেছে মেসেজে ছিলো।
— মনি আমি একটু ঘুরতে বেরিয়েছি আর দরকারি কিছু কাজ ছিলো তাই তোমাকে না বলে বেরিছি আমার ফিরতে দেরি হবে তুমি চিন্তা করো না। মেসেজ পড়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন তিনি।
,,,,,,,,-------------------,,,,,,,,,,,,,
কলেজে পৌঁছাতে ১১:০০ টা বেজে গেছে জিহুর কাছ থেকে অনেক কথা শুনতে হয়ছে নেহার।
—দেখ রোজ তোর এই প্রতিদিন দেরি করা একদম ভালো লাগেনা তোকে মেসেজ দিলো পাইনা কি হয় তোর। তোর সাথে আর কথা বলবো না ,,,
—'সরি' জিহু। আসলে আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেরি হয়ছে আর রাস্তায়,
—রাস্তায় কী হয়ছে?
—রাস্তায় গাড়ি করে আসার সময় একটা কালো বিড়াল আমার রাস্তা কেটেছে নিশ্চিত আজ খারাপ কিছু হবে,,,
— গাঁদি এসব ভুয়া কথা বিশ্বাস করতে নেই চল তো এখান থেকে।
—কোথায় যাবি
— ক্লাসে যাবো আর কোথায়,,,আর শুন আজকে নাকি নতুন এক টিচার এসেছে কলেজে অনেক বড় লোক মনেহয়। black Mercedes নিয়ে এসেছে কলেজে মেয়েদের থেকে শুনেছি।আমাদের ক্লাস পাবে শুনলাম চল দেখে আসি
—ঠিক আছে,,
জিহু নেহার উপর যতই রাগ করে থাকুক না কেনো কিছুক্ষণ পর সেটা হাওয়া মিশে যাই । আজকে আরু আর আমাইরা আসেনি তাই ক্লাস করবে দুইজনে না হলে আজকে ও ক্লাস করতে না।
দুজনে কমন রুমে থেকে বেরিয়ে হাঁটা ধরলো ক্লাসের উদ্দেশ্য।
কমনরুম থেকে তাদের ক্লাসে যেতে হলে প্রধান শিক্ষক এর রুম পেরিয়ে যেতে হয় ।
প্রধান শিক্ষক এর রুম এর কাছে আস্তে কিছু কথা কানে এলো নেহার। এটা হয়তো নতুন টিচার এর সাথে কথা বলছে। নেহার পা থেমে গেলো তারা কি কথা বলছে তারা জন্য নয় বরং একটা কন্ঠ হ্যাঁ একটা পরিচিত কন্ঠ যার সাথে জরিতো আছে কিছু স্মৃতি।
নেহাকে দাঁড়িয়ে থাকাতে দেখে জিহু বললো
— কিরে দাঁড়িয়ে গেলি কেনো চল।
জিহুর কথার উত্তর না দিয়ে গার ঘুরি রুমের জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো নেহা। সত্যি কি সে নাকি তার মনের ভুল কিন্তু না কিছু দেখতে পারছেনা সে। প্রধান শিক্ষক এর রুমে বেশ কয়েকজন বসে আছে তারা তিন এক কাতারে সাজানো চেয়ারের সামনে সারিতে সবাই প্রধান শিক্ষক কে গিরে গোল হয়ে বসে আছে।
সবাইকে একবার পরখ করে নিলো নেহা
— না নেই সে পরিচয় কন্ঠের মানুষ ।
নেহার মানে হলো সে ভুল শুনেছিলো হ্যাঁ তাই হবে। এতোক্ষণ জিহু নেহার কর্মকাণ্ড দেখছিলো এখন বিরক্ত হয়ে নেহার হাত ধরে টেনে ভবন থেকে বাইরে নিয়ে এলো ,,
—এই তোর কি হয়েছে বলবি, এভাবে প্রধান শিক্ষক এর রুমে ভিতরে উঁকি কেনো দিলি স্যার দেখলে কি বলবে। কি হলো জবাব দে?
— আরে কিছু না। চল ক্লাসে যাবি না।
এই বলে কথা এরিয়ে গেলো সে।
—এই মেয়েকে কি দিন দুপুরে ভুতে ধরছে নাকি এমন করছে কেনো বিরবির করে বললো জিহু
~~~~~~~~
সোনাপুর কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ মোয়াজ্জেম হুসাইন এর সামনে বসে আছে আয়ান সাথে আছে কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং অন্য সকল স্যার মোঃ মোয়াজ্জেম হুসাইন আয়ানের উদ্দেশ্য করে বল্লেন,,,,,,
— মিস্টার আরহাম আয়ান চৌধুরী তুমি তো এই কলেজে কয়েক মাস গেস্ট টিচার হিসেবে ছিলেন আশা করি তোমাকে নতুন করে কিছু বলতে হবেনা ,,,
— না স্যার,
—আরেকটা কথা তুমি আমেরিকার ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন। সেখান থেকে আবার এই কলেজে গেস্ট টিচার হয়ে আসার কারন জানতে পারি?
— সরি স্যার কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিনা।
—ঠিক আছে আমি তোমাকে জোর করবো না বলার জন্যে তোমাকে সব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে তুমি আজকে থেকে ক্লাস শুরু করতে পারেন ,,,
আয়না সোনাপুর কলেজে গেস্ট টিচার হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো এসেছে সকালে কাউকে না বলে সেই জন্য এসেছে। এখনকার শিক্ষক প্রধান শিক্ষক এর সাথে তার ভালো সম্পর্ক,,,,,,,,,
~~~~&~~~~
সারে ১২ টার দিকে অধ্যক্ষ আর উপাধ্যক্ষ দুই জন শিক্ষকের সাথে আয়ান কে নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত হলো।
নেহা আর জিহু কথা বলায় মগ্ন ছিলো তাই খেয়াল করিনা কিন্তু স্যার আসাই সবার সাথে যখন উঠে দাঁড়িয়ে স্যার দের দিকে তাকাতেই এক মূহুর্তের জন্য পুরো পৃথিবী যেনো ঘুরে গেলো নেহার নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে এখান উত্তেজিত হলে চলবেনা এই মানুষটার সামনে দূরর্বল হলে চলবেনা ,,,,,,
নেহার পুরো শরীর কাঁপছে কোনো মতে নিজেকে ঠিক করে বসে পড়ে বেঞ্চে সবাই বসতে স্যার সবার সাথে আয়ানের এর পরিচয় করিয়ে দিলো,,,
মোঃ মোয়াজ্জেম হুসাইন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
— স্টুডেন্ট আজকে আমাদের কলেজে নতুন গেস্ট টিচার হিসেবে এসেছেন আরহাম আয়ান চৌধুরী,,, আজ থেকে আয়ান তোমাদের ইংরেজি ক্লাস নিবে ।
আয়ানের দিকে তাকিয়ে বল্লেন ,,,,আয়ান সবাই কে নিজের পরিচয় দিলো ,,,,
অনেক মেয়েরা তো তাকে দেখে ক্রাশ খেলে মনে হয় কেমন ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছে,,,,,
স্যাররা সবাই চলে গেছে নিজেদের গন্তব্যে আয়ান রয়ে গেছে এখন তার ক্লাস। আজকে সে কালো শার্ট আর ধূসর রঙের ফরমাল পেন্ট হাতে ঘড়ি সিল্কি চুল গুলো কপাল ছড়িয়ে এক পাশের ভ্রু ডেকে আছে আরেকটার অল্প একটু দেখা যাচ্ছে কুচকুচে কালো চোখের মনি , শার্ট এর উপর দিয়ে তার হাতের পেশি গুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে দেখতে কোনো সিনেমা হিরো থেকে কম না মেয়েরা হা করে তাকিয়ে থাকবে স্বাভাবিক,,,,,,,,
আয়না সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দৃষ্টি স্থির করে নেহার দিকে নেহার কাছে এসে দাঁড়াতে দুই জনের চোখাচোখি হতেই নিজের অস্থিরতা লুকাতে নেহা চোখ সরিয়ে নিলো আয়না কিছুক্ষণ তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো ,,,সবার উদ্দেশ্যে বল্লো
— আমি তো আমার পরিচয় দিয়েছি সবাই কে এবার তোমাদের পালা আজকে সবাই পরিচিত হয় কালকে থেকে পড়া শুরু করবো নাহয় ,,,
আয়না এর কথা সবাই একসাথে বলে উঠল জ্বি স্যার,,,
এক এক করে সবাইকে পরিচয় দিলো নেহা মাঝখানে সারির মধ্যে খানে বসেছিলাম জিহু নেহার আগে নিজের পরিচয় দিলো তার পর নেহা। নেহা বসে রয়লো দাঁড়ালো না পুরো ক্লাসের নেহার দিকে তাকিয়ে আছে জিহু নেহাকে উঠেতে বল্লো। সবার তাকানো দেখে নেহা উঠে নিজের নামে বলে যেই না বসতে যাবো তখন আয়ান বল্লেন
— Mis কি বলেছেন আপনি আবার বলেন শুনতে পাইনি।
বাকি সবার দিকে তাকিয়ে বল্লো
—তোমরা শুনতে পেয়েছো।
স্যারের সাথে তাল মিলিয়ে সবাই বল্লো
—না স্যার,,,
নেহার বিষন রাগ হলো তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে আবার বল্লো
— My Name is Afroza Chowdhury Neha.
এবার একটু জোরেই বল্লো আয়ান কানে হাত দিয়ে নেহার বেঞ্চ এর কাছে এসে বল্লো
— Mis Afroza Chowdhury আপনাকে আমি নাম বলতে বলেছি মাইকিং করতে বলিনি।
আয়ানের কথায় নেহার এতোক্ষণ দমিয়ে রাখা রাগে যেনো ঘি ঢালার কাজ করলো ,,, নেহা নিজেকে সংযত করতে না পেরে বল্লো ,,,
—সরি স্যার কিন্তু আপনার কথাতে মনে হচ্ছে আপনার কানে প্রচুর পরিমাণ ময়লা জমেছে। যার কারনে আমার বলা কথায় আপনার কানে ময়লা পরিষ্কার হওয়ায় আপনার মনে হচ্ছে আমি মাইকিং করছি চিন্তা করবে না এবার থেকে সব পরিষ্কার শুনতে পারবেন ,,,,
নেহার কথায় সবাই নেহার দিকে তাকিয়ে আছে তার হয়তো ভাবতে পারেনি নেহা এমন কিছু বলবো।
আয়না নেহাকে কিছু বলবে তার আগেই ঘন্টা বেজে উঠলো যার জন্য বেশি কিছু না বলেই একটাই কথা বল্লো
— মিস আফরোজা আজকে কিছু বল্লাম না তবে এটার জন্য আপনাকে পস্তাতে হবে।
নেহার কাছে দাঁড়িয়ে থাকায় আস্তে করে বলা কথা গুলো আর কেউ শুনতে পাইনি । কথা গুলো বলেই আয়ান নিজের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে বল্লো
—ওকে স্টুডেন্ট আজকে অনেক হাসি ঠাট্টা হলো কালকে আর এসব চলবেনা এখন যাও যাক।
আয়ানের কথা সবাই একসাথে বল্লো
— জ্বি স্যার।
_____________________________
রহস্যের আঁধার থেকে যখন সত্য উন্মুক্ত হয় তখন সেই সত্য হয়তো কারো প্রাণ নেয় নয়তো কারো প্রাণ দেয় ,,,,,,
আমেরিকার বিখ্যাত নাম করা ড্রাগ ডিলার JD যার কারনে বাংলাদেশর শতাধিক কিশোরেরা মাদকাসক্ত। বাংলাদেশের স্পেশাল ফোর্স কয়েক বছর যাবত এই ড্রাগ ডিলার এর দলের লেকদের খুঁজে চলছে যারা JD র হয়ে কাজ করে আর বাংলাদেশে মাদক দ্রব্য পাচার করে কিন্তু কোনো ভাবেই ধরতে পারছেনা।~~~~
তার সাথে রহস্যময় হত্যা কান্ডো যার কারনে এতো মানুষ মারা যাচ্ছে। কে করছে এই হত্যা কান্ড কয়েকদিন পর পর একটা করে কাটা মাথা শহরের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। যেনো এক অদৃশ্য মানব এর কাজ।
ক্যামেরার,স্পাই , পুলিশ, সেনাবাহিনী,cid কোনো কিছু করতে পারছেনা।
এই হত্যা কান্ড যারা মারা যাচ্ছে তারা কোনো না কোনো ক্রাইম এর সাথে জড়িত রয়েছে । সকল ফোর্স একসাথে এর রহস্য উদঘাটন করতে নেমেছে,,,,
#চলবে
