রাত তখন ১২টা ১৭ মিনিট। চারদিকে নিস্তব্ধতা, আকাশে কালো মেঘ। গ্রামের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা লাল বাড়িটির ভেতর থেকে হঠাৎ ভেসে এল একটি গুলির শব্দ!
পরদিন সকালে বাড়িটির সামনে জড়ো হলো পুরো গ্রামের মানুষ। বাড়ির মালিক জমিদার রাশেদ চৌধুরীকে তাঁর নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালাগুলোও আটকানো। অথচ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল রক্তমাখা একটি ছুরি আর দেয়ালে লেখা তিনটি শব্দ—
“খুনি এখনো এখানে!”
পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করল। কিন্তু কোনো দরজা ভাঙার চিহ্ন নেই, কোনো পায়ের ছাপ নেই। যেন খুনিটি বাতাসে মিলিয়ে গেছে!
এই রহস্যের সমাধানের দায়িত্ব পেল ঢাকার তরুণ গোয়েন্দা আরিয়ান রহমান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সে প্রথমেই লক্ষ করল, ঘরের দেয়ালে ঝোলানো একটি পুরোনো ঘড়ি বন্ধ হয়ে আছে ঠিক ১২টা ১৭ মিনিটে।
আরিয়ান ঘড়িটি নামিয়ে পেছনে হাত দিতেই বেরিয়ে এল একটি ছোট চাবি। চাবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কাগজে লেখা—
“যদি সত্য জানতে চাও, বাড়ির নিচতলার বন্ধ ঘরটি খোলো।”
রাত নামতেই আরিয়ান একা নিচতলায় গেল। বহু বছরের পুরোনো দরজাটি খুলতেই ভেতর থেকে ভেসে এল পচা কাঠের গন্ধ। ঘরের মাঝখানে পড়ে ছিল একটি পুরোনো ছবি।
ছবিতে জমিদার রাশেদ চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে দেখে আরিয়ান থমকে গেল।
লোকটি আর কেউ নয়—আরিয়ানের নিজের বাবা, যিনি দশ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন!
ঠিক তখনই পেছন থেকে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ এল।
অন্ধকারের ভেতর কেউ একজন ফিসফিস করে বলল—
“অবশেষে তুমি এসেছ, গোয়েন্দা সাহেব। এবার তোমার বাবার মতো তুমিও হারিয়ে যাবে!”
