~ তোমার অন্ধকারে আমার বসন্ত ~
Writer : Noor Islam.
পর্ব – ৭ : অতীতের ছায়া
সকাল থেকেই আরিশার মনটা ভীষণ খারাপ। গতকালের আদ্রিয়ানের কথাগুলো কিছুতেই মাথা থেকে সরাতে পারছে না সে।
লোকটা নিজেকে কী ভাবে? সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো করতে চায়! আরিশা রহমানকে এত সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে মির্জা গ্রুপের অফিসে বসে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ান। কিন্তু কাজে মন নেই তার।
— স্যার?
রায়ানের ডাকে চোখ তুলে তাকাল আদ্রিয়ান।
— বলো।
— রহমান পরিবারের পুরোনো ফাইলগুলো খুঁজে পেয়েছি। তবে একটা বিষয় বেশ অদ্ভুত।
আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— কী বিষয়?
— প্রায় পনেরো বছর আগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে। আর যিনি শেষবার ওই ফাইলগুলো দেখেছিলেন, তিনি রহমান পরিবারেরই একজন সদস্য।
আদ্রিয়ানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই কঠিন হয়ে উঠল।
— নামটা কী?
রায়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি, স্যার। তবে একটা পুরোনো ছবি পেয়েছি।
ছবিটা আদ্রিয়ানের সামনে রাখতেই সে স্থির হয়ে গেল।
ছবিতে তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে সে খুব ভালো করেই চেনে।
কিন্তু সেই মানুষটি তো বহু বছর আগেই মারা গেছেন!
বিকেল চারটা।
আরিশা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আদ্রিয়ানের অফিসে এসেছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অনুমতি ছাড়াই ভেতরে ঢুকে পড়ল সে।
— মিস্টার মির্জা, আপনার কি কোনো কাজ নেই? মানুষকে বারবার অফিসে ডেকে পাঠান কেন?
আদ্রিয়ান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
— তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছিল।
কথাটা শুনে আরিশা কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। তারপর মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— আপনার এসব ডায়লগ অন্য কাউকে গিয়ে শোনাবেন।
আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
— অন্য কাউকে শোনানোর প্রয়োজন পড়েনি কখনো।
— বাহ! নিজেকে নিয়ে এত অহংকার!
— তোমাকে নিয়ে একটু বেশি দুর্বলতা।
আরিশা এবার সত্যিই লজ্জা পেয়ে গেল। সেটা আড়াল করতে গম্ভীর মুখে বলল,
— কী দেখাবেন বলেছিলেন?
আদ্রিয়ান টেবিলের ওপর রাখা ছবিটা তার দিকে এগিয়ে দিল।
ছবিটা হাতে নিয়েই আরিশার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— এই মানুষটাকে আপনি কোথায় পেলেন?
— চিনতে পারছ?
আরিশা ছবির দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
— ইনি আমার বাবার খুব কাছের একজন মানুষ ছিলেন। কিন্তু অনেক বছর আগে আমাদের পরিবার থেকে হারিয়ে গেছেন।
আদ্রিয়ানের চোখ সরু হয়ে এল।
— তোমার বাবা কি কখনো আমার পরিবারের কথা বলেছেন?
আরিশা অবাক হয়ে তাকাল।
— আপনার পরিবারের কথা কেন বলবেন?
কয়েক মুহূর্ত দুজনের চোখাচোখি হলো।
আদ্রিয়ান কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। সে এখনই সবকিছু প্রকাশ করতে চায় না।
ঠিক তখনই আরিশার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।
"তোমার বাবাকে নিয়ে বেশি প্রশ্ন করো না, আরিশা। কিছু সত্য জানার জন্য তুমি এখনো প্রস্তুত নও।"
মেসেজটা পড়ে আরিশার হাত কেঁপে উঠল।
আদ্রিয়ান তার মুখের পরিবর্তন লক্ষ করে ফোনটা দেখতে চাইল।
— কী হয়েছে?
আরিশা কোনো উত্তর দিল না।
আদ্রিয়ান এবার একটু নরম স্বরে বলল,
— ভয় পেয়ো না। আমি আছি।
আরিশা তার দিকে তাকাল। এই প্রথম মানুষটার কণ্ঠে এমন এক আশ্বাস খুঁজে পেল, যা তার অজান্তেই মনটা শান্ত করে দিল।
কিন্তু আদ্রিয়ানের ফোনে তখন রায়ানের আরেকটি মেসেজ এসে পৌঁছেছে।
"স্যার, রহমান পরিবারের সেই পুরোনো সদস্য জীবিত। আর সবচেয়ে বড় কথা, তিনি এখন আরিশা ম্যাডামের খুব কাছের একজন।"
মেসেজটা পড়ে আদ্রিয়ানের চোখে আবার সেই পুরোনো অন্ধকার নেমে এল।
এবার কি অতীত সত্যিই ফিরে এসেছে?
চলবে...🥀🖤
