রাত তখন প্রায় এগারোটা। আরিফ ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে। নীলাঞ্জনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ সে চুপ হয়ে গেছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে নীলাঞ্জনার ফোনে রাহুলের কল এসেছিল।
আরিফের মনে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল।
রাহুল কে? নীলাঞ্জনার জীবনে কি আগে থেকেই কেউ আছে?
অনেকক্ষণ পর সে সাহস করে মেসেজ দিল।
আরিফ: আচ্ছা, রাহুল কে?
নীলাঞ্জনা: কেন? হঠাৎ রাহুলের কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন?
আরিফ: না, এমনি। আপনার ফোনে ওর নাম দেখলাম, তাই জানতে চাইলাম।
কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না। তারপর নীলাঞ্জনা লিখল—
নীলাঞ্জনা: রাহুল আমার ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু ও আমাকে শুধু বন্ধু ভাবে কি না, সেটা আমি জানি না।
মেসেজটা পড়ে আরিফের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
আরিফ: ও কি আপনাকে ভালোবাসে?
নীলাঞ্জনা: একসময় বলেছিল। কিন্তু আমি ওকে কখনো সেই চোখে দেখিনি।
আরিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তবুও মনের ভেতরের ভয়টা দূর হলো না।
পরদিন বিকেলে নীলাঞ্জনা আরিফকে পার্কে দেখা করতে বলল। আরিফ পৌঁছে দেখল, নীলাঞ্জনা একটি বেঞ্চে বসে আছে। তার মুখটা আজ অন্য দিনের মতো হাসিখুশি নয়।
আরিফ পাশে বসে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে? মন খারাপ?”
নীলাঞ্জনা মাথা নিচু করে বলল, “রাহুল গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন আপনার সঙ্গে আর কথা না বলি।”
আরিফ চুপ করে রইল।
নীলাঞ্জনা আবার বলল, “ও বলেছে, আমি নাকি ভুল করছি। আপনি নাকি একদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন।”
আরিফের চোখে কষ্ট ফুটে উঠল। সে ধীরে ধীরে বলল, “আপনি কি ওর কথা বিশ্বাস করেন?”
নীলাঞ্জনা সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকাল।
“না! কিন্তু একটা কথা আমাকে ভয় দেখায়।”
“কী কথা?”
নীলাঞ্জনা কাঁপা কণ্ঠে বলল, “যদি কোনো দিন আপনিও আমাকে ছেড়ে চলে যান?”
আরিফ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “নীলাঞ্জনা, আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পারি না। জীবনে কী হবে, সেটাও জানি না। কিন্তু আজ আমি আপনার পাশে আছি, আর আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই।”
নীলাঞ্জনার চোখ বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল।
আরিফ আস্তে করে বলল, “একটা সম্পর্ক শুধু মিষ্টি কথা দিয়ে টিকে থাকে না। বিশ্বাস, সম্মান আর দুজনের চেষ্টা লাগে। আপনি যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, তাহলে আমরা একসঙ্গে সব সমস্যার মুখোমুখি হব।”
নীলাঞ্জনা মৃদু হেসে বলল, “আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে চাই, আরিফ।”
আরিফও হাসল।
সেদিন বিকেলে তারা অনেকক্ষণ পার্কে বসে গল্প করল। সূর্য ডুবে গেল, আকাশে সন্ধ্যা নামল, তবুও কেউ বাড়ি ফিরতে চাইছিল না।
বাড়ি ফেরার আগে নীলাঞ্জনা বলল, “আরিফ, একটা কথা বলব?”
“বলুন।”
“আপনাকে হারাতে চাই না আমি।”
আরিফের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। “তাহলে আমাকে দূরে ঠেলে দেবেন না কখনো।”
নীলাঞ্জনা মাথা নাড়ল।
কিন্তু তাদের অজান্তেই দূরে দাঁড়িয়ে কেউ একজন সবকিছু দেখছিল।
সে রাহুল।
তার চোখে রাগ, আর মনে জমে থাকা অভিমান। সে ফোন বের করে কাউকে কল করল।
“হ্যালো, একটা কাজ করতে হবে তোমাকে। আরিফ নামের ছেলেটাকে একটু খোঁজ নিয়ে দেখো।”
কল কেটে রাহুল ঠান্ডা গলায় বলল, “দেখি, নীলাঞ্জনা… তোমার এই ভালোবাসা কত দিন টেকে।”
চলবে… 💔❤️
পরের পর্বে রাহুল কি আরিফের জীবনে নতুন বিপদ নিয়ে আসবে, নাকি নীলাঞ্জনার ভালোবাসা সব বাধা জয় করবে?
