সকালের সূর্যটা তখন ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে। আরিফ আজ অন্য দিনের চেয়ে অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠেছে। কারণ আজ তার নীলাঞ্জনার সঙ্গে দেখা হবে!
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করতে করতে সে নিজেই হেসে ফেলল।
নিজেকে বলল, “আরে বোকা, শুধু এক কাপ চা খেতে যাবি, নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছিস?”
কিন্তু মনের ভেতর যে ঝড় চলছে, সেটা সে নিজেও বুঝতে পারছিল না।
অন্যদিকে নীলাঞ্জনাও আজ একটু বেশি যত্ন করে তৈরি হয়েছে। বান্ধবী মিতু তাকে দেখে বলল, “কিরে, আজ এত সাজগোজ কেন? কারও সঙ্গে দেখা আছে নাকি?”
নীলাঞ্জনা লজ্জা পেয়ে বলল, “না রে! এমনিই।”
মিতু হেসে বলল, “আচ্ছা, এমনিই বুঝলাম। তোর গালের লাল রংটাই সব বলে দিচ্ছে!”
দুপুরে কলেজের সামনে আরিফ দাঁড়িয়ে ছিল। নীলাঞ্জনাকে দেখেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
“আপনি দেরি করেছেন,” আরিফ বলল।
নীলাঞ্জনা ভ্রু কুঁচকে বলল, “মাত্র পাঁচ মিনিট! আর আপনি কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছেন?”
“আপনার জন্য অপেক্ষা করতে করতে পাঁচ মিনিটও পাঁচ ঘণ্টা মনে হয়েছে।”
নীলাঞ্জনা হেসে ফেলল।
দুজন রাস্তার পাশের ছোট্ট একটি চায়ের দোকানে গেল। আরিফ দুই কাপ চা অর্ডার করল। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে নীলাঞ্জনা বলল, “আচ্ছা, আপনি সবার সঙ্গে এত সুন্দর করে কথা বলেন কেন?”
আরিফ একটু চুপ করে থেকে বলল, “সবার সঙ্গে তো কথা বলি, কিন্তু সবার কথা সারাদিন মনে পড়ে না।”
নীলাঞ্জনা তার দিকে তাকাল। কথাটা শুনে তার বুকের ভেতর কেমন যেন হলো।
“আমার কথা কি আপনার মনে পড়ে?” সে আস্তে করে জিজ্ঞেস করল।
আরিফ মুচকি হেসে বলল, “গতকাল রাতে আপনার মেসেজের অপেক্ষায় কতবার যে ফোন দেখেছি, সেটা যদি বলি, আপনি হাসবেন।”
নীলাঞ্জনা কিছু বলল না। শুধু চায়ের কাপে চুমুক দিল। তার ঠোঁটের কোণে ছোট্ট একটা হাসি লেগে রইল।
চা খাওয়ার পর দুজন হাঁটতে বের হলো। রাস্তার পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এসে নীলাঞ্জনা থামল।
“আরিফ, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”
“অবশ্যই।”
“আপনি কি আমাকে সত্যিই পছন্দ করেন, নাকি শুধু মজা করছেন?”
আরিফের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। সে কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, “নীলাঞ্জনা, আমি জানি না ভালোবাসা কতটা সুন্দর করে প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু একটা কথা জানি—আপনার সঙ্গে কথা বললে আমার মন ভালো হয়ে যায়। আপনার মন খারাপ থাকলে আমারও খারাপ লাগে। আমি আপনার হাসির কারণ হতে চাই, কষ্টের কারণ নয়।”
নীলাঞ্জনার চোখ দুটো ভিজে উঠল।
“কেউ আগে কখনো আমাকে এভাবে বলেনি,” সে ফিসফিস করে বলল।
আরিফ নরম গলায় বলল, “তাহলে আজ থেকে মনে রাখবেন।”
ফেরার সময় নীলাঞ্জনা হঠাৎ বলল, “আরিফ?”
“হ্যাঁ?”
“কালও কি দেখা হবে?”
আরিফ হেসে বলল, “আপনি চাইলে প্রতিদিনই হবে।”
নীলাঞ্জনা মিষ্টি করে হাসল। তারপর চলে যাওয়ার আগে বলল, “তাহলে কাল আমাকে একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবেন।”
সেদিন রাতে দুজনেরই ঘুম আসতে দেরি হলো। দুজনেই ভাবছিল, এই অনুভূতিটা কি শুধু বন্ধুত্ব, নাকি এর নাম ভালোবাসা?
হঠাৎ আরিফের ফোনে নীলাঞ্জনার মেসেজ এল।
“শুনুন, আজ আপনাকে একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে।”
আরিফ দ্রুত উত্তর দিল, “বলুন, শুনছি।”
কিছুক্ষণ পর মেসেজ এল—
“আপনার সঙ্গে থাকলে আমার খুব ভালো লাগে। জানি না কেন, কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা না বললে দিনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। ❤️”
আরিফের হৃদয়টা যেন আনন্দে ভরে উঠল।
সে লিখল, “নীলাঞ্জনা, আমারও ঠিক একই রকম লাগে।”
কিন্তু ঠিক তখনই নীলাঞ্জনার ফোনে আরেকটি কল এল। স্ক্রিনে একটি নাম ভেসে উঠল—রাহুল।
কলটি দেখে নীলাঞ্জনার মুখটা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল।
রাহুল কে? তার সঙ্গে নীলাঞ্জনার কী সম্পর্ক?
আরিফ তখনও জানত না, তাদের নতুন ভালোবাসার গল্পে এমন একজন আসতে চলেছে, যে সবকিছু বদলে দিতে পারে।
চলবে… ❤️
