বিকেলের আকাশটা হঠাৎ করেই কালো হয়ে এল। চারদিকে ঠান্ডা বাতাস, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।
আরিফ কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল। বৃষ্টি দেখে রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিল সে। হাতে ফোন, কানে হেডফোন—মনে মনে একটি গান শুনছিল।
ঠিক তখনই একটি মেয়ে দৌড়ে এসে দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াল। মেয়েটির নাম নীলাঞ্জনা। তার লম্বা চুলগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল।
আরিফ একবার তাকিয়েই থমকে গেল।
মেয়েটি বিরক্ত হয়ে বলল, “উফ! আজকেই বৃষ্টি হতে হলো!”
আরিফ হেসে বলল, “বৃষ্টি না হলে তো আপনার সঙ্গে দেখাই হতো না!”
নীলাঞ্জনা তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি কি সবার সঙ্গেই এভাবে কথা বলেন?”
“না,” আরিফ মুচকি হেসে উত্তর দিল, “শুধু যাদের দেখলে কথা বলতে ইচ্ছে করে, তাদের সঙ্গে।”
নীলাঞ্জনা মুখ ঘুরিয়ে হাসল। সেই হাসিটা আরিফের মনে অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি করল।
কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি আরও বেড়ে গেল। নীলাঞ্জনা বারবার রাস্তার দিকে তাকাচ্ছিল। আরিফ জিজ্ঞেস করল, “কাউকে অপেক্ষা করছেন?”
“না, বাড়ি যাব। কিন্তু বৃষ্টি থামছে না।”
আরিফ নিজের ছাতাটা এগিয়ে দিয়ে বলল, “চলুন, আপনাকে একটু এগিয়ে দিই।”
নীলাঞ্জনা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। পরে ছাতার নিচে দুজন পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল। তাদের হাত দুটো মাঝে মাঝে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। দুজনেই চুপ, অথচ মনে হচ্ছিল কত কথা জমে আছে!
বাড়ির সামনে এসে নীলাঞ্জনা বলল, “আপনার নামটা তো জানা হলো না!”
“আরিফ। আপনার?”
“নীলাঞ্জনা।”
আরিফ হেসে বলল, “নামটা আপনার মতোই সুন্দর।”
নীলাঞ্জনা লজ্জা পেয়ে বলল, “আচ্ছা, আর কথা বলতে হবে না। এবার যান!”
যাওয়ার আগে আরিফ সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “আবার কি দেখা হবে?”
নীলাঞ্জনা মিষ্টি করে হেসে বলল, “হয়তো… যদি আবার বৃষ্টি হয়!”
সেদিন রাতে আরিফের চোখে ঘুম এল না। বারবার তার মনে পড়ছিল নীলাঞ্জনার হাসিটা। অন্যদিকে নীলাঞ্জনাও জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনছিল, আর ভাবছিল—ছেলেটা সত্যিই অদ্ভুত!
হঠাৎ তার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল।
“বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু আপনাকে নিয়ে ভাবনাটা থামছে না। —আরিফ ❤️”
নীলাঞ্জনার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
সে উত্তর দিল, “এত তাড়াতাড়ি কাউকে নিয়ে ভাবা কি ঠিক?”
আরিফ লিখল, “জানি না ঠিক কি না, তবে আপনার সঙ্গে আবার কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে।”
নীলাঞ্জনা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে লিখল—
“তাহলে কাল কলেজের সামনে দেখা হবে। তবে একটা শর্ত আছে!”
আরিফ অবাক হয়ে লিখল, “কী শর্ত?”
উত্তর এল—
“কাল কিন্তু চা খাওয়াতে হবে! ❤️”
আরিফ ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসল। সে জানত না, এই ছোট্ট পরিচয় একদিন তার জীবনের সবচেয়ে গভীর ভালোবাসায় পরিণত হবে।
চলবে… 💕
