#মাফিয়া কিংয়ের পাগল করা ভালোবাসা
#লেখিকা: কল্পনার গল্পকন্যা
#পর্ব: ০৩
“নীলাঞ্জনা তোমার অতীতের সবচেয়ে বড় রহস্যের অংশ!”
বার্তাটা বারবার পড়ছিল আরহান। তার মাথায় একটাই প্রশ্ন—নীলা কীভাবে তার বাবার মৃত্যুর রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে?
“স্যার, অফিসে যাব?” রায়ানের প্রশ্নে ভাবনা ভাঙল।
“আগে এই নম্বরের মালিককে খুঁজে বের করো। আর মাহবুব রহমানের অতীতের প্রতিটি ঘটনা যাচাই করো। কাউকে বাদ দেবে না।”
“বার্তাটা বিশ্বাস করছেন?”
আরহান ফোন চেপে ধরল। “আমি কাউকে বিশ্বাস করি না। কিন্তু সত্যিটা না জেনে এবার কোনো চাল চালব না।”
অন্যদিকে, রহমান বাড়িতে নীলা বাবার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। মাহবুব অস্থিরভাবে ঘরের এদিক-ওদিক হাঁটছিলেন।
“বাবা, তুমি আমাকে কিছুই বলছ না কেন? আরহান খান তোমাকে কীসের হিসাব মেলাতে বলল?”
“নীলা, সব কথা জানার সময় এখনও আসেনি।”
ঠিক তখন নাহিয়ান ঘরে ঢুকল। নীলা বলল, “আরহান খান এসেছিল। বাবাকে হুমকি দিয়ে গেছে।”
নাহিয়ানের মুখ শক্ত হয়ে গেল। “ওই লোক এখানে এসেছিল? তুমি তাকে চেনো না, নীলা। খান পরিবারের সঙ্গে আমাদের পুরোনো বিরোধ আছে, কিন্তু বিস্তারিত আমিও জানি না।”
সে বাবার দিকে ফিরল। “বাবা, কী নিয়ে এত ভয় পাচ্ছ?”
মাহবুব চোখ নামিয়ে বললেন, “তোমরা কেউ আরহানের সঙ্গে একা দেখা করবে না। বিশেষ করে তুই, নীলা।”
কিন্তু নীলার মনে তখন হাজারো প্রশ্ন। আরহান খান কে? কেন তার বাবার নাম শুনলেই সবাই এমন অস্থির হয়ে পড়ে?
সন্ধ্যায় আরহান অফিসে পুরোনো নথি খুলল। একটি বিবর্ণ ছবিতে তার বাবা আর মাহবুবকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায়। ছবির পেছনের তারিখটি বাবার মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগের।
রায়ান এসে বলল, “স্যার, আপনার বাবার মৃত্যুর আগের রাতে তিনি মাহবুব রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পুরোনো কর্মচারী কাদের আলী নাকি কিছু জানে, কিন্তু বহু বছর আগে উধাও হয়ে গেছে।”
আরহান তাকাল। “কাদের আলীকে খুঁজে বের করো।”
রায়ান চলে গেলে আরহান নীলার ছবিটা হাতে নিল।
“তুমি আমার প্রতিশোধের পথ, নীলাঞ্জনা,” সে নিজেকে বোঝাল। “এর বেশি কিছু নয়।”
কিন্তু নিজের কথাতেই তার মন সায় দিল না। নীলার চোখে সে অপরাধীর পরিবারের অহংকার দেখেনি; দেখেছিল সরল রাগ আর নির্ভীকতা। তবে কি এত বছর ধরে সে ভুল মানুষকে দোষ দিয়ে এসেছে?
পরদিন সকালে নীলা কলেজে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেটের কাছে থমকে দাঁড়াল। রাস্তার ওপারে কালো গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরহান খান। নীলাকে দেখেই সে এগিয়ে এল।
নীলা বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনি আবার এখানে? আমাদের বাড়িতে হুমকি দিয়ে এবার কলেজের সামনে হাজির?”
“তোমার বাবার সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।”
“নিজের শত্রুর মেয়েকে দিয়ে তার বাবার খবর নেবেন? বাহ, সাহস তো কম নয়!”
আরহানের মুখ শক্ত হলো। “আমি তোমাকে শত্রু বলিনি।”
“কিন্তু আপনার চোখে সেটাই লেখা।”
“তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো—সেই রাতে তিনি আমার বাবার সঙ্গে কেন দেখা করেছিলেন।”
নীলার পা থেমে গেল। “কোন রাত?”
“যে রাতের পর আমার পরিবার সবকিছু হারিয়েছিল।”
নীলা দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “আমি জানি না আপনি কী বলতে চাইছেন। বাবাকে অপরাধী ভাবার আগে প্রমাণ নিয়ে আসবেন।”
আরহান থমকে গেল। “প্রমাণ খুঁজছি বলেই তোমার কাছে এসেছি।”
“তাহলে খুঁজুন। আমাকে জড়াবেন না।”
নীলা চলে যেতে উদ্যত হলে আরহান নিচু স্বরে বলল, “সাবধানে থেকো। কেউ আমাদের দুজনকেই নজরে রাখছে।”
নীলা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেল। আরহান তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ল।
বাড়ি ফিরে নীলা বাবাকে প্রশ্ন করতেই মাহবুবের হাত থেকে পানির গ্লাস পড়ে ভেঙে গেল।
“তুই কার কাছ থেকে এই কথা শুনেছিস?”
“আরহান বলেছে। বাবা, সেই রাতে আসলে কী ঘটেছিল?”
মাহবুবের ঠোঁট কাঁপল। তিনি উত্তর দেওয়ার আগেই জানালার বাইরে একটি কালো গাড়ি এসে থামল। গাড়ির কাচের আড়াল থেকে কেউ বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল।
মাহবুব পর্দা সরিয়ে ফিসফিস করলেন, “না… ওরা আবার ফিরে এসেছে!”
নীলা তাকাল। “ওরা কারা, বাবা?”
মাহবুব উত্তর দিলেন না। শুধু মেয়েকে কাছে টেনে বললেন, “আজ থেকে একা কোথাও যাবি না। আরহানকে বিশ্বাস করিস না, কিন্তু তার কাছ থেকে দূরেও থাকিস না। সত্যিটা হয়তো তার কাছেই আছে।”
সেই রাতেই আরহানের ফোনে আরেকটি বার্তা এল—
“কাদের আলীকে খুঁজে লাভ নেই। সত্যিটা রহমান বাড়ির পুরোনো ঘড়ির ভেতরে লুকানো। দেরি করলে নীলাঞ্জনার জীবন বিপদে পড়বে।”
আরহান উঠে দাঁড়িয়ে রায়ানকে ফোন করল। “রহমান বাড়ির ওপর নজর রাখো। নীলার গায়ে কেউ যেন হাত না দেয়।” সে বুঝল, বিষয়টা আর শুধু প্রতিশোধের নেই।
চলবে… 🖤🥀
