#মাফিয়া কিংয়ের পাগল করা ভালোবাসা
#লেখিকা: কল্পনার গল্পকন্যা
#পর্ব: ০১
রাত ১১টা ৫৫ মিনিট। শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলের সামনে একের পর এক কালো গাড়ি এসে থামল। কালো স্যুট পরা দেহরক্ষীদের মাঝখান দিয়ে নেমে এল এক সুদর্শন পুরুষ। চোখে কালো চশমা, মুখে কঠিন অভিব্যক্তি। তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন লুকিয়ে আছে ক্ষমতা আর ভয়।
সে আর কেউ নয়, আরহান খান। বয়স ২৮ বছর। শহরের সবচেয়ে ভয়ংকর মাফিয়া কিং।
যার নাম শুনলে শত্রুদের বুক কেঁপে ওঠে। ভালোবাসা নামক অনুভূতিকে সে বহু বছর আগেই নিজের জীবন থেকে মুছে ফেলেছে।
আরহানের ব্যক্তিগত সহকারী রায়ান এগিয়ে এসে বলল,
“স্যার, মাহবুব রহমান আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।”
কথাটা শুনে আরহানের চোখে জ্বলে উঠল ঘৃণা।
“মাহবুব রহমান! অবশেষে সময় এসেছে তার কাছ থেকে সব হিসাব বুঝে নেওয়ার।”
রায়ান ইতস্তত করে বলল, “স্যার, মাহবুব সাহেবের মেয়ে নীলাঞ্জনা রহমানও আজ এখানে এসেছে।”
আরহানের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
“তাহলে খেলাটা আরও আকর্ষণীয় হবে। মেয়েটার সম্পর্কে সব তথ্য চাই আমার।”
অন্যদিকে—
গোলাপি শাড়ি পরে হোটেলের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে ২২ বছর বয়সী নীলাঞ্জনা রহমান। মিষ্টি মুখ, উজ্জ্বল চোখ আর চঞ্চল স্বভাবের মেয়েটিকে সবাই নীলা বলে ডাকে।
নীলা তার বড় ভাই নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভাইয়া, আমাকে এখানে এনে একা ফেলে কোথায় চলে গেলে? আমি কিন্তু বাসায় চলে যাব!”
২৬ বছর বয়সী নাহিয়ান হেসে বলল, “এই তো আমার ছোট্ট বোনের ধৈর্য! একটু দাঁড়া, আসছি।”
“তোমার এই একটু দাঁড়া আর শেষ হয় না! বিয়ে করলে বউকেও এভাবে ফেলে রাখবে?”
“আগে নিজের বিয়ের চিন্তা কর, তারপর আমার বউয়ের চিন্তা করিস।”
নীলা নাক উঁচু করে বলল, “আমি এমন কাউকে বিয়ে করব, যে আমার সব কথা শুনবে!”
নাহিয়ান হেসে বলল, “তাহলে তো তোর বিয়ে কোনো দিনই হবে না!”
“ভাইয়াআআ!”
নীলার চিৎকার শুনে হাসতে হাসতে চলে গেল নাহিয়ান।
মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ পেছন ফিরে একজনের সঙ্গে ধাক্কা খেল নীলা। তার হাতের জুস গিয়ে পড়ল সামনের মানুষটির সাদা শার্টে।
নীলা মাথা তুলে তাকাতেই থমকে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির চোখে তখন আগুন জ্বলছে।
“চোখ কোথায় তোমার?” গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন করল আরহান।
নীলা একটু ভয় পেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল।
“চোখ তো মাথাতেই আছে! আপনি কি দেখেননি যে আমি পেছনে ছিলাম?”
আরহান অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল।
“কী বললে তুমি?”
নীলা কোমরে হাত দিয়ে বলল, “কানে কম শোনেন নাকি? একবার বলেছি তো!”
চারপাশের মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আরহান খানের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলার সাহস কারও নেই!
আরহান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বলল,
“তুমি জানো, আমি কে?”
“না। জানার ইচ্ছাও নেই। এবার আমাকে যেতে দিন।”
নীলা চলে যেতে উদ্যত হলে আরহান তার দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটির চোখ দুটো দেখে তার মনে হলো, এই চোখ সে কোথাও দেখেছে। বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া এক ভয়ংকর ঘটনার স্মৃতি হঠাৎ তার মনে ভেসে উঠল।
“তোমার নাম কী?” আরহান জিজ্ঞেস করল।
নীলা মুচকি হেসে বলল, “নীলাঞ্জনা রহমান। কেন, বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন নাকি?”
কথাটা বলে নীলা নিজেই হেসে ফেলল।
কিন্তু আরহানের মুখের হাসি উধাও হয়ে গেল।
“নীলাঞ্জনা রহমান!”
নামটা যেন তার পুরোনো ক্ষত আবার জাগিয়ে তুলল।
নীলা চলে যাওয়ার পর আরহান রায়ানকে বলল, “মেয়েটার পরিবার আর অতীত সম্পর্কে সব তথ্য চাই। কিছুই বাদ যাবে না।”
কয়েক ঘণ্টা পর—
আরহানের হাতে একটি ফাইল এসে পৌঁছাল। প্রথম পাতায় লেখা—
নাম: নীলাঞ্জনা রহমান।
বাবা: মাহবুব রহমান।
নামটি দেখেই আরহানের হাত শক্ত হয়ে উঠল।
ফাইলের ভেতরে একটি পুরোনো ছবি ছিল। ছবিতে আরহানের বাবা ও মাহবুব রহমান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের মাঝখানে কোলে একটি ছোট্ট শিশু।
ছবির পেছনে লেখা তারিখটি দেখে আরহান স্তব্ধ হয়ে গেল। এই তারিখের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে দুই পরিবারের বিচ্ছেদের ইতিহাস।
ছবির নিচে রাখা একটি চিঠি খুলল সে।
চিঠিতে লেখা—
“আরহান, সত্যিটা যেদিন জানবে, সেদিন হয়তো নিজের এত বছরের ঘৃণাকে আর ধরে রাখতে পারবে না। মাহবুব রহমান তোমার শত্রু হলেও পুরো সত্যিটা তুমি জানো না। নীলাঞ্জনার জীবনেও জড়িয়ে আছে সেই রাতের ভয়ংকর রহস্য।”
চিঠিটি পড়ে আরহান চোখ বন্ধ করল।
“যা-ই হোক, মাহবুব রহমানকে আমি ছাড়ব না। তার মেয়েই হবে আমার প্রতিশোধের প্রথম পদক্ষেপ!”
কিন্তু সে জানত না, যে মেয়েটিকে সে প্রতিশোধের হাতিয়ার বানাতে চাইছে, একদিন সেই মেয়েই তার হৃদয়ের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ হয়ে উঠবে।
যে মানুষ ভালোবাসাকে দুর্বলতা মনে করে, সেই মানুষই একদিন ভালোবাসার জন্য নিজের সবকিছু হারাতে প্রস্তুত হবে।
কিন্তু নীলাঞ্জনা কি জানে, তার অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহরের সবচেয়ে ভয়ংকর মাফিয়া কিংয়ের জীবন?
নাকি তাদের ভালোবাসাও অতীতের কোনো অজানা সত্যের কাছে হার মেনে যাবে?
তা জানতে হলে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।
চলবে… 🖤🥀
