ছায়াসাম্রাজ্য — পর্ব ২
অন্ধকারের প্রথম দরজা
রাত যত গভীর হচ্ছিল, আরিনের হাতে থাকা কালো পাথরটি ততই উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। পাথরটির ভেতর থেকে ভেসে আসছিল অদ্ভুত এক ফিসফিসানি।
“অবশেষে তুমি ফিরে এসেছ, শেষ উত্তরাধিকারী…”
আরিন ভয়ে পাথরটি ছুড়ে ফেলতে চাইল, কিন্তু সেটি তার হাতের সঙ্গে আটকে গেল। হঠাৎ চারপাশের বাতাস ঠান্ডা হয়ে এল। ঘরের দেয়ালে ফুটে উঠল একটি অচেনা চিহ্ন—একটি কালো মুকুট, যার মাঝখানে জ্বলছে লাল আগুন।
ঠিক তখনই দরজায় তিনবার আঘাত পড়ল।
ঠক! ঠক! ঠক!
বাইরে থেকে এক বৃদ্ধের কণ্ঠ ভেসে এল, “আরিন, দরজা খোলো! তোমার হাতে যা আছে, সেটা নিয়ে তারা আসছে!”
“কারা?” আরিন কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল।
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন, “যারা তোমার পরিবারকে শেষ করেছিল।”
আরিনের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এতদিন সে জানত, তার বাবা-মা এক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু আজ প্রথমবার কেউ বলল, সেটা দুর্ঘটনা ছিল না।
দরজা খুলতেই সে দেখল, বৃদ্ধের মুখে গভীর আতঙ্ক। তাঁর হাতে পুরোনো একটি বই, আর বইয়ের প্রচ্ছদে আঁকা সেই একই কালো মুকুট।
বৃদ্ধ ধীরে বললেন, “তোমার বাবা ছিলেন ছায়াসাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট। আর এখন… তারা তোমাকে খুঁজছে।”
দূরে হঠাৎ শিঙার শব্দ শোনা গেল। জানালার বাইরে কালো পোশাক পরা কয়েকজন অশ্বারোহী এগিয়ে আসছে।
বৃদ্ধ বইটি আরিনের হাতে দিয়ে বললেন, “পালাও! আজ রাতেই তোমাকে জানতে হবে, তুমি আসলে কে!”
চলবে…
