অধরা আসক্তি
লেখনীতে: Ohona hossan
পর্ব ৫ — প্রথম ধারণা
CR CORPORATION, London
সকাল ১০টা ৪২ মিনিট
কনফারেন্স রুমের কাচের দেয়ালের বাইরে লন্ডনের ব্যস্ত সকালটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। রাস্তায় গাড়ির চলাচল, দূরের ভবনগুলোর ওপর পড়ে থাকা মেঘলা আলো—সবকিছুই স্বাভাবিক। অথচ ঘরের ভেতরে বসে থাকা মানুষগুলোর কাছে পরবর্তী এক ঘণ্টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
মালিহা ল্যাপটপের স্ক্রিনে শেষবারের মতো presentation-টা দেখে নিল।
তার বয়স তেইশ। বয়সের তুলনায় দায়িত্বটা বড় হলেও সেই দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে খুব একটা অস্থির হতে দেখা যায় না। গোল্ডেন-হানি ব্রাউন চুলগুলো যথারীতি hair stick দিয়ে বাঁধা, square box-frame glasses-এর পেছনে চোখ স্থির। পোশাকটা আরামদায়ক, কিন্তু তার প্রতিটি অংশে ছিল রুচিশীল একটা দামি ছাপ।
সে ফাইল বন্ধ করে টেবিলের অন্য পাশে তাকাল।
“Shall we begin?”
কেউ একজন সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন।
আয়ান রহমান নিজের সামনে রাখা নথিপত্র গুছিয়ে নিল।
তার বয়স ঊনত্রিশ। ছয় ফুট আট ইঞ্চি লম্বা মানুষটিকে কনফারেন্স টেবিলে বসেও আলাদা করে চোখে পড়ে। বরফের মতো ice-blond চুলগুলো layered wolf cut-এ সাজানো, চোখে square-frame glasses, পরনে কালো turtleneck-এর ওপর long black overcoat। গলায় charcoal scarf-টা সে আগেই খুলে পাশের চেয়ারে রেখেছে।
তার উপস্থিতিতে বাড়তি কোনো শব্দ নেই। সে নিজে থেকে কথাবার্তা বাড়ায় না, আবার প্রয়োজনীয় কথা বলতেও দ্বিধা করে না।
মালিহা presentation শুরু করল।
প্রথমে হাসপাতালের সঙ্গে সম্ভাব্য partnership, তারপর funding structure, medical equipment, patient support programme—একটার পর একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরল সে।
আয়ান মন দিয়ে শুনছিল।
কিছুক্ষণ পর মালিহা একটি স্লাইডে এসে থামল।
“আমাদের proposal অনুযায়ী, funding-এর একটা অংশ advanced neurological care এবং post-operative rehabilitation-এর জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে equipment কেনার আগে hospital-এর actual requirements যাচাই করা জরুরি। শুধু expensive equipment কিনলেই patient care improve হবে না।”
আয়ান প্রথমবার সরাসরি প্রশ্ন করল।
“আপনারা কি equipment selection-এর ক্ষেত্রে hospital-এর neurosurgical team-এর recommendation-কে priority দেবেন?”
মালিহা তার দিকে তাকাল।
“অবশ্যই। Equipment আমাদের অর্থায়নে আসতে পারে, কিন্তু কোন equipment প্রয়োজন, সেটা চিকিৎসকদেরই ভালো বোঝার কথা। আমরা business decision নিতে পারি, clinical decision না।”
ঘরে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা নেমে এল।
আয়ান কলমটা টেবিলে রাখল।
“Good. That distinction matters.”
মালিহার ঠোঁটে সামান্য হাসি ফুটল।
“আমি ধরে নিচ্ছি, Doctor Rahman, আপনি এমন কোনো equipment-এর জন্য funding চাইবেন না, যেটা আপনার hospital-এর প্রয়োজনই নেই।”
“আমি প্রয়োজন ছাড়া কিছু চাই না, Miss Chowdhury।”
“Excellent. তাহলে আমাদের discussion সহজ হবে।”
পাশে বসা একজন কর্মকর্তা মৃদু হেসে ফেললেন।
আয়ান হাসল না, তবে তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য amusement দেখা গেল।
মেয়েটা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু সেটা দেখানোর জন্য সে অপ্রয়োজনীয় কথা বলছে না। নিজের অবস্থান পরিষ্কার, প্রশ্নের উত্তরও পরিষ্কার।
আয়ানের কাছে এই গুণটা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে এমন meeting-এ, যেখানে অনেকেই তথ্যের চেয়ে impression তৈরি করতে বেশি ব্যস্ত থাকে।
মালিহা পরের নথিটা সামনে এগিয়ে দিল।
“আরেকটা বিষয় আছে। Funding approval-এর পরেও আমরা progress report চাইব। তবে medical team-এর ওপর unnecessary paperwork চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নেই। আমাদের team reporting process-টা যতটা সম্ভব simple রাখবে।”
আয়ান নথির দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাদের hospital-এর patient data confidential থাকবে। কোনো patient-এর identity বা medical record partnership report-এ ব্যবহার করা যাবে না, proper authorization ছাড়া।”
মালিহা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
“Agreed. Patient privacy is non-negotiable.”
এবার আয়ান তার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড।
“Have you worked in the medical field before?
“Not in the medical sector. But I have worked on healthcare-related business projects. I don't like pouring money into any other sector without understanding its basic structure before investing.”
“Fair enough.”
মালিহা ল্যাপটপে পরের স্লাইড খুলল।
“তাহলে এবার timeline নিয়ে কথা বলা যাক।”
মিটিংয়ের বাকি অংশটাও একইভাবে এগোল। কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা হলো, দু-একটা বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব এল, আর শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই পরবর্তী ধাপের জন্য সম্মত হলো।
মিটিং শেষ হওয়ার সময় প্রায় এগারোটা পঁয়ত্রিশ।
সবাই উঠে দাঁড়াতে শুরু করলে মালিহা নিজের ফাইলগুলো গুছিয়ে নিল।
আয়ানও নথিপত্র একসঙ্গে করছিল। তার ফোনের স্ক্রিনে হাসপাতাল থেকে কয়েকটি notification এসে জমেছে।
একজন সহকর্মী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, “Doctor, the hospital called. They need you to review a case.”
আয়ান সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা হাতে নিল।
“I will be right back.।”
তারপর মালিহার দিকে তাকাল।
“Thank you for the meeting, Miss Chowdhury. The proposal is reasonable. We'll review the final documents after our clinical team checks the requirements.”
মালিহা হাত বাড়িয়ে দিল।
“Thank you, Doctor.Rahman I appreciate your time.”
আয়ান তার সঙ্গে Handshake করল।
তার হাত বড়, কিন্তু handshake সংক্ষিপ্ত ও Professional।
“Have a good day.”
“You too.”
আয়ান বেরিয়ে গেল।
মালিহা কয়েক মুহূর্ত দরজার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের ফাইলের দিকে মন দিল।
তারপর তার সহকারীকে বলল, “Doctor Rahman-এর team-কে revised proposal পাঠিয়ে দিও। আর final approval-এর আগে কোনো purchase order যেন issue না হয়।”
“Of course, Miss Chowdhury.”
মালিহা আবার ল্যাপটপের সামনে বসে পড়ল।
তার কাছে এটা একটা সফল business meeting। ডাক্তার মানুষটা একটু গম্ভীর, প্রয়োজনের বাইরে কথা বলেন না, কিন্তু নিজের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন।
এর বেশি কিছু সে ভাবল না।
অন্তত এখনো না।
সকাল ১১টা ৫৮ মিনিট | হাসপাতাল
আয়ান হাসপাতালের করিডোর দিয়ে দ্রুত হাঁটছিল।
তার overcoat-টা এখন হাতে, আর অন্য হাতে case summary। হাসপাতালের ব্যস্ততা তার কাছে নতুন কিছু নয়। এখানে প্রতিটি মিনিটের মূল্য আছে, আর সে নিজের কাজের ব্যাপারে কখনোই হালকা মনোভাব রাখে না।
নিউরোসার্জারি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক তার কাছে এগিয়ে এলেন।
“Doctor Rahman, we have reviewed the scans. The patient is stable, but there are a few findings we need your opinion on.”
“Show me the images.”
তারা consultation room-এ ঢুকল।
আয়ান স্ক্রিনে scan images খুলে মনোযোগ দিয়ে দেখতে শুরু করল। প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করল, রোগীর clinical history মিলিয়ে নিল, তারপর নিজের মতামত দিল।
“এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। আগে neurological assessment-এর update নিন, তারপর imaging-এর সঙ্গে findings মিলিয়ে আবার discuss করি।”
“Understood, doctor.”
“আর patient-এর family-কে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলবেন। তারা যেন কোনো তথ্য না জেনে ভয় পেয়ে না যায়।”
“জি।”
আয়ান আবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
CR Corporation-এর meeting তার কাজের একটা ছোট অংশমাত্র। হাসপাতালের দায়িত্বের তুলনায় সেটা নিয়ে ভাবার মতো সময়ও তার হাতে নেই।
তবু দুপুরের দিকে নিজের কেবিনে ফিরে যখন revised proposal-এর email notification দেখল, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার মনে পড়ল সকালের মেয়েটার কথা।
“আমরা business decision নিতে পারি, clinical decision না।”
কথাটা তার ভালো লেগেছিল।
কারণ সে এমন মানুষদের দেখেছে, যারা অর্থের ক্ষমতা দিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্তও নিজেদের হাতে নিতে চায়।
মালিহা অন্তত তেমন নয়—এখন পর্যন্ত তার কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী।
আয়ান email খুলে প্রয়োজনীয় নথিগুলো দেখল। তারপর assistant-কে message পাঠাল, clinical team যেন proposal review করে।
এরপর সে আবার কাজে ফিরে গেল।
মেয়েটার কথা ভাবার মতো কোনো কারণ তার নেই।
এই কথাটাই সে নিজের মনে স্থির করে নিল।
দুপুর ১টা ২০ মিনিট | CR CORPORATION-এর নিচে
মালিহা বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিল, তখন ফোনে সারার message এল।
Sarah: Lunch? Please tell me you're free.
মালিহা গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে উত্তর দিল।
Maliha: I have a meeting in twenty minutes.
সঙ্গে সঙ্গে reply এল।
Sarah: তোর জীবনটা কি শুধু meeting আর work দিয়ে বানানো?
মালিহা হেসে ফেলল।
Maliha: আর তোর জীবন শুধু খাবার দিয়ে?
Sarah: Yes. At least food doesn't cancel plans.
মালিহা গাড়িতে বসে মাথা নাড়ল।
Maliha: Weekend. I'll call you.
ফোনটা পাশে রেখে সে driver-কে গন্তব্য জানাল।
আজ তার আরও কয়েকটা কাজ আছে। বিকেলে নিজের café-র হিসাব দেখতে হবে, তারপর CR Corporation-এর আরেকটা call।
তার দিনটা স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
কিন্তু শহরের অন্য প্রান্তে, হাসপাতালের কেবিনে বসে থাকা একজন মানুষও নিজের অজান্তে একই দিনের একটা ছোট্ট ঘটনাকে মনে রেখেছিল।
দুজনের কেউই জানত না, তাদের পরের দেখা কখন হবে।
আর সেটাই ছিল সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার।
কারণ প্রথম দেখাতেই প্রত্যেক পরিচিত মানুষ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেউ হয়ে ওঠে না।
কখনো কখনো একজন অপরিচিত মানুষ প্রথমে শুধু একটা ভালো impression রেখে যায়।
তারপর সময় ঠিক করে—সেই impression-টা একদিন স্মৃতি হবে, নাকি এমন কিছু, যা আর সহজে মুছে ফেলা যাবে না।
