অধরা আসক্তি
লেখনীতে: Ohona hossan
পর্ব ৩ — নামের আড়ালে“ ”
লন্ডন | দুপুর ১২টা ২০ মিনিট
“মালিহা, তুই কি আমাদের কথা শুনছিস?”
ফোনের ওপাশ থেকে সারার কণ্ঠ ভেসে আসতেই মালিহা চোখ তুলে তাকাল।
সে তখন MOCHI CAFÉ-এর জানালার পাশে বসে ল্যাপটপে কয়েকটা ফাইল দেখছিল। পাশে রাখা কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে, অথচ তার মনোযোগের কোনো অভাব নেই।
“হ্যাঁ, শুনছি।”
“কী শুনেছিস বল তো?”
মালিহা কিবোর্ড থেকে হাত সরাল।
“তুই কিছু একটা বলেছিস, আমি শুনেছি। এবার তুই বল, কী বলেছিস?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর একসঙ্গে কয়েকজনের চিৎকার—
“মালিহাআআ!”
মালিহা হেসে উঠল।
“আরে বাবা! কানে আছি, কানে আছি!”
এবার তামিমের গলা শোনা গেল।
“আজ সন্ধ্যায় সবাই মিলে বের হব। আর এবার তুই কোনো অজুহাত দিতে পারবি না।”
“আমি কি তোদের কাছে বন্দি?”
“হ্যাঁ,” তামিম নির্বিকারভাবে বলল। “বন্ধুত্বের জেলে যাবজ্জীবন।”
“তোর জেলখানায় আমি পাঁচ মিনিটও থাকব না।”
“কিন্তু আমার হৃদয়ে তো—”
“তামিম, আর একটা কথা বললে তোর কফির দোকান খুলে দেব রাস্তার পাশে।”
“আমার তো কফির দোকান নেই!”
“থাকবে না। আমি খুলে দেব, তুই বিক্রি করবি।”
রায়ান আর নাফির হাসির শব্দ শোনা গেল।
এরা পাঁচজন মিলে এক জায়গায় থাকলে স্বাভাবিক কথাবার্তাও শেষ পর্যন্ত ঝগড়ায় গিয়ে দাঁড়ায়। আর মালিহা সেই ঝগড়ার মাঝখানে থেকেও সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়।
সারা বলল, “শোন, সন্ধ্যা সাতটায় দেখা করব। Era-রও ক্লাস শেষ হয়ে যাবে। তুই সময়মতো আসবি।”
“কোথায়?”
নাফি বলল, “একটা জায়গা ঠিক করছি। পরে লোকেশন পাঠাব।”
“আচ্ছা।”
তামিম সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “এই প্রথম কোনো প্রশ্ন না করে রাজি হলো!”
“কারণ তোদের সঙ্গে তর্ক করার শক্তি নেই।”
“আমার জন্যই তোকে এত ভাবতে হয়।”
“নিজেকে নিয়ে এত ভুল ধারণা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”
ফোনের ওপাশে আবার হাসির শব্দ উঠল।
কল শেষ করে মালিহা মাথা নাড়ল। তারপর ল্যাপটপের স্ক্রিনে মনোযোগ দিল।
তার কাজ জমে আছে। CR Corporation-এর নতুন প্রজেক্টের প্রস্তাব, কয়েকটা আর্থিক রিপোর্ট, আর বিকেলের মিটিংয়ের প্রস্তুতি—সবই আজ শেষ করতে হবে।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল ওয়ালেটের ওপর।
ভেতরে রাখা সাদা কার্ডটার কথা মনে পড়তেই সে সেটা বের করল।
Some people remember you before you remember them.
মালিহা কয়েক সেকেন্ড কার্ডটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ফোন বের করে ড্যানিয়েলকে কল করল।
“Daniel, সকালে যে delivery rider এসেছিল, তার কোনো details পাওয়া যাবে?”
“আমি চেষ্টা করতে পারি, Miss Chowdhury।”
“Please do. আর খামটা কোথা থেকে এসেছে, সেটাও জানতে হবে।”
“Of course.”
কল শেষ করে মালিহা কার্ডটা আবার ওয়ালেটে রাখল।
তার মনে রহস্য নিয়ে অকারণ ভয় কাজ করে না। বরং কোনো প্রশ্নের উত্তর না পেলে সে উত্তর খুঁজতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।
আর এই কার্ডটা তার কাছে নিছক একটা অদ্ভুত বার্তা নয়।
কেউ তার নাম জানে।
কেউ তার ক্যাফের ঠিকানা জানে।
কিন্তু সেই কেউ নিজের পরিচয় জানাতে চায় না।
মালিহা চশমাটা ঠিক করে ল্যাপটপ বন্ধ করল।
“ঠিক আছে,” সে নিজেকে বলল। “দেখা যাক, খেলাটা কে শুরু করেছে।”
একই সময় | প্রাইভেট হাসপাতাল
আয়ান রহমান কেবিনের বড় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
সার্জারির পর রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। পরবর্তী পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সে টিমের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছে। আজকের বাকি সময়েও তার কাজ আছে, তবে দুপুরের দিকে একটি নির্ধারিত করপোরেট কনসালটেশন রাখা হয়েছে।
আয়ানের কাছে এসব মিটিং নতুন কিছু নয়।
বড় হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে তাকে প্রায়ই করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা পরিকল্পনা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা-ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে হয়। সে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেয় না, কিন্তু চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তার মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
দরজায় নক হলো।
“Come in.”
রাফি মাহমুদ ঢুকল।
তার হাতে দুটো স্যান্ডউইচ আর এক কাপ কফি।
আয়ান ভ্রু তুলল।
“তুই এখানে কী করছিস?”
“তোর মা আমাকে ফোন করেছেন।”
আয়ান কিছু বলল না।
রাফি খাবারগুলো টেবিলে রেখে চেয়ারে বসল।
“ভাবতে পারিস? একজন প্রাপ্তবয়স্ক, সফল নিউরোসার্জনকে খাওয়ানোর জন্য তার মাকে বন্ধুকে পাঠাতে হয়!”
“খাবার রেখে বের হয়ে যা।”
“তোর মধ্যে কৃতজ্ঞতা বলে কিছু আছে?”
“খুঁজে পাইনি।”
রাফি হেসে উঠল।
“যাই হোক, আজ সন্ধ্যায় আমরা বের হচ্ছি।”
“না।”
“তুই এখনো জানিস না কোথায় যাব!”
“জানার প্রয়োজন নেই।”
“মিরাও আসবে।”
আয়ান এবার ফোন থেকে চোখ তুলল।
“মিরা কেন?”
“কারণ সে আমাদের বন্ধু। এই তথ্যটা কি নতুন?”
“না।”
“তাহলে?”
“তাহলে কী?”
রাফি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়ল।
“একদিন তোর এই মুখের জন্য কেউ তোকে পছন্দ করবে না।”
আয়ান নির্বিকারভাবে স্যান্ডউইচের প্যাকেট খুলল।
“সেটা আমার সমস্যা নয়।”
“হ্যাঁ, তোর সমস্যা তো অন্য জায়গায়।”
“কোথায়?”
“তুই মানুষকে দূরে রাখিস। তারপর আবার তাদের নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করিস।”
আয়ানের হাত থেমে গেল।
এক মুহূর্তের জন্য তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেলেও সে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠল।
“আমার কাজ নিয়ে কথা বল, রাফি।”
রাফি তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আর কিছু বলল না।
বন্ধুত্বের একটা সুবিধা আছে—কখন কোথায় থামতে হয়, তা অন্তত কাছের মানুষগুলো বুঝতে পারে।
কয়েক মিনিট পর রাফি চলে গেল।
আয়ান আবার কম্পিউটারের সামনে বসল।
স্ক্রিনে তখনো CR Corporation-এর মিটিংয়ের তথ্য খোলা।
Representative: Maliha Chowdhury — Co-CEO.
নামটা সে আগেও দেখেছে।
এবারও দেখল।
তারপর নির্ধারিত সময়ের দিকে চোখ রেখে ফাইলটা খুলল।
“Let's get this over with.”
তার কণ্ঠে বিরক্তি ছিল না। ছিল কেবল কাজ শেষ করার অভ্যাস।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে, কয়েক মিনিট পর আবার তার চোখ সেই নামের ওপর গিয়ে থামল।
মালিহা চৌধুরী।
নামটা তার পরিচিত হওয়ার কথা নয়।
তবু কেন যেন একবার পড়ার পর আর একেবারে অপরিচিত বলে মনে হচ্ছে না।
আয়ান চশমাটা খুলে চোখের ওপর আঙুল বুলিয়ে নিল।
দীর্ঘ অপারেশনের ক্লান্তি। সম্ভবত সেটাই।
সে নিজেকে এই ব্যাখ্যাই দিল।
দুপুর ২টা ৪০ মিনিট | CR CORPORATION
লন্ডনের ব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকায় CR Corporation-এর প্রধান কার্যালয়টি কাচ আর ধাতুর তৈরি বিশাল একটি ভবন।
ভেতরে ঢুকেই মালিহা পরিচিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে লিফটের দিকে এগিয়ে গেল।
আজ তার পোশাক আগের মতোই casual, কিন্তু হাতে থাকা ফাইল আর মুখের গম্ভীরতা বলে দিচ্ছে—কাজের জায়গায় সে অন্য মানুষ।
লিফটের আয়নায় নিজের চেহারা একবার দেখে নিল সে।
গোল্ডেন-ব্রাউন চুলগুলো হেয়ার স্টিক দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। স্কয়ার-ফ্রেমের চশমার আড়ালে চোখ দুটো স্থির। কাঁধে ব্যাগ, হাতে ট্যাবলেট।
লিফটের দরজা খুলতেই তার সহকারী এগিয়ে এলেন।
“Miss Chowdhury, your father is already in the conference room.”
“Is the proposal ready?”
“Yes. Everything is prepared.”
“Good. Let's go.”
কনফারেন্স রুমে ঢুকতেই শোহাগ চৌধুরী মেয়ের দিকে তাকালেন।
“সময়মতো এসেছ।”
মালিহা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল, “তুমি কি ভেবেছিলে আমি ভুলে যাব?”
“তোমার অতীত রেকর্ড খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।”
মালিহা এবার একটু বাচ্চাদের মতো করে বলে।
“বাবা, আমি বদলে গেছি।”
“কবে?”
“আজ সকাল থেকে।”
শোহাগ হেসে ফেললেন।
মিটিং শুরু হলো।
প্রথমে কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা চলল। তারপর হাসপাতাল-সংক্রান্ত একটি করপোরেট সহযোগিতার প্রস্তাব উঠল। কর্মীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা-ব্যবস্থা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি মেডিক্যাল পার্টনারশিপ—সবকিছুই প্রস্তাবের অংশ।
মালিহা মনোযোগ দিয়ে নোট নিল।
একপর্যায়ে সে প্রশ্ন করল, “Medical team-এর পক্ষ থেকে কে থাকবেন?”
তার সহকারী উত্তর দিলেন, “A consultation with a senior neurosurgeon has been scheduled.”। Dr. Ayan Rahman।”
কলমটা হাতে নিয়েই মালিহা নামটা লিখল।
Ayan Rahman.
নামটা তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।
সে মাথা তুলে বলল, “Okay. Confirm the meeting time with him.।”
“okay, Miss Chowdhury.।”
শোহাগ মেয়ের দিকে তাকালেন।
“তুমি কি এই প্রজেক্টের medical side-টাও নিজে দেখবে?”
“অবশ্যই। কোম্পানির দায়িত্ব শুধু কাগজে সই করা নয়, Dad।”
শোহাগ সন্তুষ্টির সঙ্গে মাথা নাড়লেন।
“Good.”
মালিহা আবার ফাইলের দিকে মনোযোগ দিল।
তার ধারণাও ছিল না, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নামের মানুষটিকে নিয়ে তার সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা কোনো ব্যবসায়িক ফাইলের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট | হাসপাতালের পার্কিং এলাকা
কাজ শেষ করে আয়ান পার্কিংয়ে নেমে এল।
কালো শার্ট, কালো ট্রাউজার, হাতে ঘড়ি। সাদা-সিলভার চুলগুলো স্বাভাবিকভাবে কপালের ওপর নেমে এসেছে। স্কয়ার-ফ্রেমের চশমা চোখে।
গাড়ির বদলে সে আজ মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে।
কালো “Cruiser bike” পার্কিংয়ের এক পাশে দাঁড়িয়ে। আয়ান হেলমেট হাতে নিয়ে ফোনের স্ক্রিন দেখল।
হাসপাতালের প্রশাসন থেকে মিটিংয়ের সময় নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী দিনের একটি স্লট দেওয়া হয়েছে, কারণ আজকের জরুরি অপারেশন ও পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্বের মধ্যে সময় বের করা সম্ভব হয়নি।
সে মেসেজটা পড়ে ফোন পকেটে রাখল।
ঠিক তখন রাফির কল এল।
“কাজ শেষ?”
“আপাতত।”
“তাহলে আজ সন্ধ্যায় আসছিস।”
আয়ান হেলমেট পরতে পরতে বলল, “আমি বলেছি, সময় পেলে জানাব।”
“তোর ভাষায় সময় পাওয়া মানে পৃথিবীর সব কাজ শেষ হওয়া।”
“আর তোর ভাষায় বন্ধুত্ব মানে অন্যের শান্তি নষ্ট করা।”
“ধন্যবাদ। এত সুন্দর করে আমাকে বোঝার জন্য।”
আয়ান বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে হাসল।
“লোকেশন পাঠা। দেখব।”
রাফি বিজয়ীর মতো চিৎকার করল, “এই তো আমার ভাই!”
“চেঁচাস না।”
কল কেটে আয়ান বাইকে উঠল।
ইঞ্জিনের শব্দ সন্ধ্যার দিকে ব্যস্ত হয়ে ওঠা শহরের আওয়াজের সঙ্গে মিশে গেল।
সে জানত না, আগামীকাল তার একটি পেশাগত মিটিং আছে।
সে জানত না, সেই মিটিংয়ে যার সঙ্গে দেখা হবে, সে-ই একদিন তার ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করবে।
আর সবচেয়ে বড় কথা—সে জানত না, কোনো কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগেই জীবনের অদৃশ্য সুতো তাদের দুজনকে জড়িয়ে ফেলতে শুরু করে।
সন্ধ্যা ৭টা | লন্ডন
মালিহা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পোশাক বদলাচ্ছিল।
আজকের সন্ধ্যার জন্য সে বেছে নিল ক্রিম রঙের oversized sweater, ছোট কালো skirt আর হাঁটু পর্যন্ত লম্বা brand er dark boots। চুলগুলো আগের মতোই হেয়ার স্টিক দিয়ে বাঁধা, আর চোখে সেই পরিচিত স্কয়ার-ফ্রেমের চশমা।
ফোনে তামিমের মেসেজ এল।
Tamim: Five minutes. Don't be late.
মালিহা উত্তর দিল—
Maliha: তুই আগে সময়মতো আসতে শিখ, তারপর আমাকে বলিস।
সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই এল।
Tamim: আমি নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
মালিহা জানালা দিয়ে নিচে তাকাল।
সত্যিই তামিম দাঁড়িয়ে আছে।
তার মুখে হাসি ফুটল।
ব্যাগটা তুলে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল সে।
কিন্তু বেরোনোর আগে একবার ওয়ালেট খুলে সেই সাদা কার্ডটা দেখল।
কেন যেন আজও কার্ডটা ফেলে দিতে ইচ্ছে হলো না।
সে আবার ওয়ালেট বন্ধ করল।
“কাল দেখা যাবে।”
তারপর দরজা টেনে বাইরে বেরিয়ে গেল।
একই শহরে, কয়েক মাইল দূরে, আয়ান রহমানও নিজের সন্ধ্যার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত।
তারা দুজন এখনো একে অপরকে চেনে না।
তাদের মধ্যে কোনো পরিচয় নেই, কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো প্রতিশ্রুতিও নেই।
শুধু দুজনের নাম ধীরে ধীরে একই গল্পের পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে।
আর সেই গল্পের প্রথম সত্যিকারের অধ্যায় শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই
