★ ঘৃণার নাম তুমি ★
Writer : Noor Islam.
পর্ব - ১ : সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রাতটি
একটি মেয়ের শুধু আকুতি মিনতি শোনা যাচ্ছে। মেয়েটি শুধু বলেই যাচ্ছে প্লিজ আমার সাথে এমন করবেন না, আমাকে যেতে দিন, আমার সর্বনাশ করবেন না। কিন্তু ছেলেটি যেন নিতান্তই পশুর মতো আচরণ করছে। জোর করে মেয়েটার ঘাড় ধরে নিজের কাছে এনে নিজের ঠোঁট দুটো দিয়ে মেয়েটির নরম ঠোঁট দুটিকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। অনবরত মেয়েটির ঠোঁটে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ছিলো। মেয়েটি নিজের হাত দিয়ে অনেক জোরে ধাক্কা দিচ্ছিলো, কিন্তু ছেলেটির সুগঠিত দেহের কাছে তার ক্ষীণ হাত দুটো কিছুই ছিলো না। ১০ মিনিট ধরে যেন মেয়েটির ঠোঁটের উপর আধিপত্য বিস্তার করতেই ছিলো ছেলেটি। এরপর সে মেয়েটির ঘাড়ে নিজের মুখ নিয়ে যায়। তার ঘাড়ে অনবরত কিস করতে থাকে আবার মাঝে মাঝে কামড়ও দিতে থাকে। মেয়েটি আকুতি মিনতি করেই যাচ্ছে। এরপর যেন ছেলেটি তার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মেয়েটির শরীর থেকে জামাটি টেনে খুলে ফেলে। ভিতরে পড়া ব্রা* টিও টেনে টুনে ছিড়ে ফেলে। নিজের মুখ গুজে দেয় মেয়েটির বুকে, মুখে তুলে নেয়, হাত দিয়ে টিপতেও থাকে। নিজের এমন অবস্থা দেখে মেয়েটি এখন শুধু আল্লাহর কাছে বলছে –
" হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এটা কিসের শাস্তি দিচ্ছো। তুমি আমার মরণ দেও, আল্লাহ। "
এরপর ছেলেটি মেয়েটির পেটে চুমু দিতে থাকে। মেয়েটির পায়জামাও টেনে খুলে নেয়, আর নিজের প্যান্টও খুলে ফেলে। মেয়েটি এবারও অনেক আকুতি করতে থাকে। বলে আমার আর সর্বনাশ করবেন না, আমার উপর দয়া করুন প্লিজ। কিন্তু এ কথাগুলো আকুতিগুলো যেন ছেলেটার কানে যাচ্ছেই না। সে ব্যস্ত তার নিজের অনিয়ন্ত্রিত মনটাকে শান্তি করবার জন্য। সে মেয়েটির দুই-পা ফাঁক করে নিজের পুরুষত্বের যন্ত্রটি ঢুকাতে লাগলো। মেয়েটির জায়গাটি অনেকই ছোট ছিলো কেননা মেয়েটি সম্পূর্ণ ভার্জিন ছিলো। কিন্তু তাও ছেলেটি বার বার চেষ্টা করেই যাচ্ছিলো। অবশেষে অনেকবারের পর সে ঢুকাতে পারলেও মেয়েটি ততক্ষণে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলো। এতক্ষণ চিৎকার করবার শক্তিটা থাকলেও এখন তাও যেন বন্ধ হয়ে গেলো। এসবের দিকে ছেলেটির কোনোই হুশ নেই। সে অমানুষের মতো কাজ করেই যাচ্ছে। টানা ৪৫ মিনিট পর ছেলেটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শুয়ে পড়ে মেয়েটির শরীরের উপর। একে সারা শরীর যন্ত্রণায় শেষ তার উপর এমন একটা দেহ তার উপরই শুয়ে আছে - লজ্জা, ঘৃণা আর রাগে মেয়েটির মরে যেতে ইচ্ছা করছে।
মনে মনে বলছে - " আল্লাহ, মা মারা যাবার পর আমি তো কখনো নামাজ ছাড়িনি, কখনো অন্যকে কষ্টও দেইনি, কখনো নিজের কোনো ইচ্ছাও পূরণ করিনি, কখনো বেপর্দা ভাবে চলাফেরা করিনি, এমন কিছু করিনি যাতে আল্লাহ তুমি আমার উপর নারাজ হবে - তাহলে এটা আজ আমার সাথে কেনো? আমি তো আমারই সৎ মায়ের কথায় তার মেয়ের সাথে এখানে এসেছি। আজ এখানে এ রুমে যার সাথে আছি আমি তো তাকে কখনো দেখিনি, চিনিও না। তাহলে কেনো? আমার কোন পাপির শাস্তি এটা, হে রব্বুল আলামিন? আমাকে তুমি মরণ দেও "
এতক্ষণ সাউন্ড করে না কান্না করলেও এখন সে অনেক জোরে কেঁদে দেয়। কান্নার সাউন্ড পেয়ে ছেলেটি একবার মাথা তুলে তাকিয়ে আবারও ওদিক ফিরে ঘুমিয়ে যায়।
বেশ অনেকক্ষণ মেয়েটি সেভাবেই নিস্তেজ হয়ে শুয়ে ছিলো। দরজার দিকে চোখ পড়তেই উঠে বসলো। নিজের গায়ে জামা কাপড় জড়িয়ে নিলো। দরজার কাছে আসলো এটাই সুযোগ পালিয়ে যাবার - এই আশায় সে দরজা খুলে এবার এই নরক খানা থেকে বেড়াতে পারবে। কিন্তু, এটা কি সর্বনাশ! দরজায় তো অনেক security maintain করা। একটা পিন দিলেই কেবল দরজা খুলবে, কিন্তু কি সেই পিন? তাহলে এই নরকখানা থেকে বের হতে পারবে না সে? ভাবতেই আবার কান্না এসে গেলো, অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে যে কখন দরজার ওখানে বসেই ঘুমিয়ে পড়লো তা সে নিজেও জানে না।
সকাল হয়ে গেলো। রোদ এসে মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো ছেলেটির। মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে, যেন কেউ মাথায় তাকে মারছে অনেক জোরে জোরে। এর মধ্যেই একজন তাকে ফোন করলো। ফোন রিসিভ করে বললো –
" হ্যালো মা, বলো? "
– কোথায় আছিস বাবা তুই?
– এইতো হোটেলে, কেনো?
– বাসায় আসিস নি, চিন্তা হচ্ছিলো খুব।
– এটা কি নতুন কিছু বলো? কেনো শুধু চিন্তা করো?
– বুঝেছি, বাসায় আয় তাড়াতাড়ি।
কল কেটে উঠে দাঁড়াতেই চোখ দুটো নিজের কপালে উঠে যায়। নিজের এ কি অবস্থা? শরীরে একটুও কাপড় নেই। কি হয়েছিলো?
এরপর চোখ যায় দরজার সাথে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটির দিকে। চোখ পড়তেই আগুনের মতো লাল বর্ণ ধারণ করে নেয় চোখ দুটো। কি হয়েছিলো এখানে? প্যান্টটা সাথে সাথে পড়ে মেয়েটির বাহু ধরে একটান দিয়ে তুলে উঠায়। ঘুমের মধ্যে আকস্মিক এমন ঘটনা ঘটায় মেয়েটি হতবাক হয়ে যায়। এরপর চোখ মিলে তাকায়, খেয়াল আসতেই গতকাল রাতের ঘটনা মনে পড়ে যায়। এভাবেই কাছে টেনে তার সর্বনাশ করেছে লোকটি। এখনও আবার এমন করবে, তার তো সর্বনাশ করবার আর কিছু বাকি নেই। এরপরও আবার করবে লোকটি এমন।
কিন্তু মেয়েটিকে অবাক করে ছেলেটি বলে উঠে তুমি কে? আমার রুমে কি করছো? তোমাকে কে পাঠিয়েছে বলো? কার হয়ে কাজ করেছো এমন? কতো টাকা নিয়েছো? বলো? চুপ আছো কেনো?
মেয়েটি কিছুই বুঝতে পারছে না। তার কথা মনে নেই, গতকাল যার এতো বড় সর্বনাশ করেছে, এখন তাকে চিনছে না। অনেক ঘৃণা আর ক্ষোভে বললো - এখন চিনবেন কিভাবে? আপনার কাজ তো হয়ে গেছে।
লোকটি চেঁচিয়ে বলে উঠলো - " What do you mean, stupid? "
– কেন আপনি শুনতে পাননি? আমার সর্বনাশ করে আপনার সাধ মিটেনি?
– তুমি জানো, তুমি কার সাথে এভাবে কথা বলছো? কার নামে এভাবে allegation লাগাচ্ছো?
– আপনি যেই হন না কেনো, আমার কাছে আপনি একটি কাপুরুষ।
এটা শুনে আরহানের মাথা গরম হয়ে গেলো আরও দ্বিগুন।
হ্যাঁ, ছেলেটি আর কেউ নয় - দেশের একমাত্র স্বনামধন্য businessman আরহান চৌধুরী।
চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে। মাত্র ২২ বছর বয়সে দেশের সবচেয়ে বড় businessman হয়ে যায় সে।
সে যেমন অন্যের জীবন গড়ে দিতে পারে ঠিক তেমনি অন্যের জীবন ধ্বংসও করে দিতে পারে।
তাকে দেখে সকলেই ভয় পায়, সর্বদা সে গম্ভীর হয়েই থাকে।
গম্ভীর স্বভাবের হলেও, এতোটাই সুদর্শন সে, যাকে দেখলে সবার চোখ জুড়িয়ে যায়। একবার দেখলে শুধু দেখতেই ইচ্ছা করে। ইচ্ছা করে তাকে আপন করে পেতে। সবকিছুর পাশাপাশি তার জেদ ও অহংকারও ছিলো হাই লেভেলের। কিন্তু তাও কখনো সে কোনো মেয়েকে অসম্মান করেনি,মেয়েদের দিকে বাজে ভাবে তাকায়নি, অনেক অসহায় মেয়ে তার কাছে এসেছিলো, কিন্তু কখনো কোনোদিন তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়নি, বরং হেল্প করেছে নিঃস্বার্থভাবে। আর এই একটুখানি মেয়ে তাকে কাপুরুষ বলেছে? এতো বড় স্পর্ধা মেয়েটির।
তার চোখ আরও লাল হয়ে উঠলো, নিজের রাগকে আজ সে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। মেয়েটির হাত আরও শক্ত করে ধরে চিৎকার করে বললো - " তুই চিনিস আমাকে? এতো বড় সাহস তোর? কতো টাকার বিনিময়ে তুই নিজের শরীরকে বিক্রি করলি বল? "
কথাটা শেষ হতেই ইনায়া সজোরে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা মেয়ে আরহানকে বললো
– শুনুন মিস্টার, নিজের মতো অমানুষ আমাকে ভাববেন না। আমি আপনাকে চিনি পর্যন্তও না।
– বাহ! চিনিস না জানিস না রাত কাটিয়ে নিলি আমার সাথে?
– মুখ সামলে কথা বলুন আমার সাথে।
– তোর মতো পতিতা নারীর সাথে আমাকে মুখ সামলে কথা বলতে হবে? বল কার কথায় এগুলো করেছিস?
ওই খানদের কথায়? নাকি হাওলাদারদের কথায় বল? সত্যি বল, ওরা তোকে যত দিয়েছে আমি তার দশগুণ দিবো তোকে।
( এমন ভাবে বলার কারণ আছে যদিও আরহানের। চৌধুরী বাড়ির জাত শত্রু এই দুই পরিবার। তার উপর আরহান এতো অল্প বয়সে এতো সফলতা অর্জন করেছে আরহান, তাই সে যেন এখন তাদের চোখের বালি। এর আগেও তার নাম সুনাম শেষ করতে অনেক পরিকল্পনা করেছিলো এই দুই পরিবার এক জোট হয়ে। কিন্তু এবার এতো বড় ষড়যন্ত্র, এতোটা নীচু আর হীন কাজ! )
আরহানের মুখে পতিতা নারী কথাটি শুনে ইনায়া নিতান্তই চুপ হয়ে গেলো। শুধু মনে মনে বলতে লাগলো
– সে পতিতা নারী? সে? যে কিনা কখনো এক ওয়াক্তও নামাজ ছাড়তো না, বাহিরে বের হতো না, যার কিনা কখনোই কোনো ছেলে বন্ধু অবধি ছিলো না, যাকে কিনা কেউ আজ পর্যন্ত ছুঁতেও পারেনি। অথচ যে ছেলেটা তাকে জোর করে রুমে এনে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় এতো সর্বনাশ করেছে, সেই তাকে পতিতা নারী বললো?
ভাবতে ভাবতে ইনায়ার চোখ থেকে পানি পড়তেই ছিলো। এতক্ষণ চুপ দেখে আরহানের খেয়াল এতো সে তার হাত অনেক শক্ত করে ধরে আছে। এরপর সে হাত দুটো ছেড়ে দিলো। হাত ছেড়ে দিতেই স্পষ্ট সেখানে তার আঙুলের ছাপ ফুটে উঠলে। তার ফর্সা হাত দুটিতে আরহানের পাঁচ আঙুলের ছাপ লাল বর্ণ ধারণ করে আছে।
আরহান এবার নিচু গলায় বললো
– দেখো, তোমার অবস্থা কেমন আমি জানি না। হয়তো তুমি খুব চাপে পড়ে এমন কাজ শুরু করেছো। তোমার যতটাকা লাগে আমাকে বলো আমি তোমাকে দিবো, তাও নিজেকে এই মহাপাপ থেকে দূরে রাখো।
সঙ্গে সঙ্গে ইনায়া আরহানকে একটা চড় মারে। বলে আপনি দরজা খুলে দেন, আপনার মতো নরপিশাচের কাছে আমি আর এক মুহুর্তও থাকবো না।
আরহান রাগে, ক্ষোভে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়।
চলবে...!🌸✨
