তোমাতেই আমার পূর্ণতা ❤️
দ্বিতীয় পর্ব: বন্ধুত্বের আড়ালে ভালোবাসা
“কিছু অনুভূতি মুখে বলা যায় না, শুধু প্রিয় মানুষটির উপস্থিতিতেই হৃদয় হাসে।” 🌸
সকালবেলা কলেজে এসেই মায়া দেখল, আরশ তার জন্য অপেক্ষা করছে।
আরশকে দেখেই মায়া বলল,
— কী ব্যাপার? আজ এত সকালে?
আরশ হেসে বলল,
— একজন বিশেষ মানুষের জন্য অপেক্ষা করছি।
মায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
— ওহ! কে সে?
— যে এখন আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
মায়া লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাল।
— আপনি না একদম অসহ্য!
আরশ হেসে বলল,
— তবুও তো আমার সঙ্গে কথা বলো!
এভাবেই চলতে লাগল তাদের দিনগুলো।
একদিন ক্লাস শেষে আরশ মায়াকে একটা ছোট্ট গোলাপ দিল।
মায়া অবাক হয়ে বলল,
— এটা কেন?
— এমনি।
— এমনি কেউ গোলাপ দেয়?
আরশ একটু চুপ থেকে বলল,
— সবাইকে দিই না।
মায়া গোলাপটা হাতে নিয়ে মুচকি হাসল। তার মনটা সেদিন অকারণেই ভালো হয়ে গেল।
কিন্তু কয়েক দিন পর হঠাৎ আরশের আচরণ বদলে গেল। সে আর আগের মতো কথা বলে না, মায়ার দিকে তাকিয়েও যেন এড়িয়ে যায়।
মায়ার খুব খারাপ লাগল।
একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করল,
— আপনার কী হয়েছে? আমার সঙ্গে কথা বলেন না কেন?
আরশ বলল,
— কিছু হয়নি।
— তাহলে আমাকে এড়িয়ে চলছেন কেন?
— সব কথার উত্তর দেওয়া যায় না, মায়া।
কথাটা শুনে মায়ার চোখে পানি চলে এল। সে আর কিছু না বলে চলে গেল।
সেদিন রাতে মায়া বারবার ফোনের দিকে তাকাল। একটা মেসেজের অপেক্ষায় ছিল সে।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।
আরশ: রাগ করেছ?
মায়া: না।
আরশ: মিথ্যা বলছ।
মায়া: আপনি তো এখন আর আমার খোঁজও নেন না।
কিছুক্ষণ পর আরশের উত্তর এল।
আরশ: তোমার সঙ্গে কথা না বললে আমার দিনটাও ভালো কাটে না। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে একটু চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। সরি।
মায়ার মুখে আবার হাসি ফুটল।
সে লিখল,
মায়া: আর কখনো এভাবে হারিয়ে যাবেন না।
আরশ উত্তর দিল,
আরশ: চেষ্টা করব। কারণ তোমার অভিমান ভাঙাতে আমার ভালো লাগে।
মায়া ফোনটা বুকে চেপে ধরে মুচকি হাসল।
কিন্তু তাদের অজান্তেই একটা নতুন ঝড় এগিয়ে আসছিল।
পরদিন কলেজে এসে মায়া দেখল, আরশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে একটি অচেনা মেয়ে।
মেয়েটি আরশের হাত ধরে বলল,
— আরশ, তুমি আমাকে ভুলে গেছ?
মায়া দূর থেকে সবকিছু দেখছিল।
তার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
চলবে... ❤️
পরের পর্ব: কে এই অচেনা মেয়ে? আরশের জীবনে কি তবে অন্য কেউ আছে? 💔
