তোমাতেই আমার পূর্ণতা ❤️
প্রথম পর্ব: অচেনা মায়া
“কিছু মানুষ জীবনে আসে হঠাৎ করে, অথচ একসময় তারাই হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।” 🌸
সেদিন আকাশটা ছিল মেঘলা। হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলছিল। কলেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল মেয়েটি।
মেয়েটির নাম মায়া।
শান্ত স্বভাবের মেয়ে মায়া। খুব বেশি কথা বলে না, কিন্তু তার হাসির মধ্যে লুকিয়ে থাকে একরাশ মায়া। সে বিশ্বাস করে, ভালোবাসা মানে শুধু কাউকে কাছে পাওয়া নয়, বরং তার মুখের হাসির কারণ হয়ে ওঠা।
সেদিনই প্রথম দেখা হয় আরশের সঙ্গে।
মায়া তাড়াহুড়ো করে ক্লাসে ঢুকতে গিয়ে কারও সঙ্গে ধাক্কা খেল। হাতে থাকা বইগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।
— চোখে দেখো না? — একটু বিরক্ত হয়ে বলল মায়া।
ছেলেটি নিচু হয়ে বইগুলো তুলতে তুলতে মুচকি হেসে বলল,
— সরি! তবে একটা কথা বলি?
— কী?
— রাগ করলে তোমাকে বেশ ভয়ংকর লাগে!
মায়া চোখ বড় বড় করে তাকাল।
— আপনি কি সব সময় এমন বিরক্তিকর কথা বলেন?
— না, শুধু যাদের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়, তাদের সঙ্গেই!
কথাটা বলে ছেলেটি হেসে চলে গেল।
মায়া বিড়বিড় করে বলল,
— অদ্ভুত একটা ছেলে!
কিন্তু কেন জানি, ছেলেটির হাসিটা তার মনে থেকে গেল।
পরের দিন ক্লাসে গিয়ে মায়া অবাক হয়ে দেখল, ছেলেটি তার পাশের বেঞ্চে বসে আছে।
ছেলেটি তাকিয়ে বলল,
— সুপ্রভাত, রাগী মেয়ে!
— আমার নাম মায়া।
— জানি।
— কীভাবে জানেন?
— কাল তোমার বইয়ের ওপর নাম লেখা দেখেছিলাম। আর আমার নাম আরশ।
মায়া মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু ঠোঁটের কোণে ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল।
দিন যেতে লাগল। কখনো আরশ মায়ার জন্য লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে আসত, কখনো মায়া আরশের অসমাপ্ত নোটগুলো গুছিয়ে দিত। ছোট ছোট খুনসুটি থেকে তৈরি হতে লাগল এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব।
একদিন বৃষ্টি হচ্ছিল খুব।
কলেজ ছুটির পর মায়া গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তার কাছে ছাতা ছিল না।
হঠাৎ মাথার ওপর একটা ছাতা এসে থামল।
পাশে দাঁড়িয়ে আরশ বলল,
— চলবে?
মায়া অবাক হয়ে তাকাল।
— আপনি যাবেন কোন দিকে?
— যেদিকে আমার বন্ধুটি যাবে।
মায়া মুচকি হেসে বলল,
— আমি তো আপনার বন্ধু কবে হলাম?
আরশ একটু থেমে তার দিকে তাকাল।
— জানি না। তবে তোমাকে বন্ধু ভাবতে আমার ভালো লাগে।
কথাটা শুনে মায়ার বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।
সে আর কিছু বলল না। শুধু ছাতার নিচে আরশের পাশে হাঁটতে লাগল।
বৃষ্টির শব্দের মাঝখানে দুজনের নীরবতাও যেন কথা বলছিল।
কিন্তু মায়া তখনও জানত না, এই ছেলেটিই একদিন তার সবচেয়ে বড় আনন্দ হবে, আবার সবচেয়ে গভীর কষ্টের কারণও হবে।
আরশও জানত না, এই শান্ত মেয়েটির অভিমান একদিন তার পুরো পৃথিবী বদলে দেবে।
চলবে... ❤️
পরের পর্বে: বন্ধুত্বের আড়ালে জন্ম নেবে এক নতুন অনুভূতি। কিন্তু সেই অনুভূতি কি দুজনের কেউ স্বীকার করতে পারবে? 🌷
