#Murderer_in_the_dark_of_night
#writer #SumaiyaSultana
ঘুটঘুটে অন্ধকার জনমানবহীন এক রাস্তাই হাতে একটা কাটা মাথা নিয়ে একটা লোক হেটে চলেছে। কাটা মাথা থেকে চুই চুই রক্ত গড়িয়ে পড়ছে নিচে।
সামনে রাস্তার দুই পাশে ঘন কালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন সারি সারি গাছে বরে আছে। গায়ের লোম খাড়া করার মত একা দৃশ্য। চারিদিকে শুধু নিস্তব্ধতায় ভরে আছে মাঝে মাঝে শিয়ালের ডাক ভেসে আসছে। তার সাথে কেমন এক অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে কানে এতো ও লোক টার কোনো ভাব বন্তি নেই।
কিছু দুর যেতেই দুই রাস্তার মোড়ে সোডিয়ামের আলোয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটা কালো গাড়ি দেখা গেলো। গাড়ির ভিতরে কে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এই অন্ধকারে লোকটা সেই দিকে এগিয়ে গিয়ে কাটা মাথাটা গাড়িতে বসে থাকা লোকটার দিকে এগিয়ে দেয়।
—বস ,,,ওর পরিবারের সবাইকে একসাথে শেষ করে ওর মাথাটা আপনার কাছে নিয়ে এসেছি।
তখন গাড়ি থেকে কেউ বলে উঠে,
—এটাকে নিয়ে গিয়ে শহরের মাঝখানে টাঙ্গিয়ে রাখ,যাতে সবাই বুঝতে পারে 'RK' সাথে পাঙ্গানেওয়া মনে মৃত্যুকে ডেকে আনা নেওয়া।
—ঠিক আছে বস,'RK' কে আমার হয়ে সালাম জানাবেন।
তার পরিপ্রেক্ষিতে লোকটা কিছু বল্ল না কিছু সেকেন্ড এর ব্যবধান হাওয়ার সাথে মিশে গেলো গাড়িটি।
লোকটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে নিজ গন্তব্যে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে ধরপড়িয়ে উঠে বসে কোনো কিছু পড়ার বিকট শব্দে।
দোড়ে রুম থেকে বের হয়ে নিচে ড্রয়েইং রুমে আসতেই তার চোখ যাই নিচে পড়ে থাকা কাঁচের দিকে তড়িঘড়ি করে উপরে তাকাতে দেখে তার মায়ের আতংকিত মুখ খানা। ভ্রু কুঁচকে তাঁর মায়ের চোখ অনুসরণ করে তাকাতে দেখে।
টিভিতে দেখাচ্ছে একটা লোকের দোহ বিহিন মাথা শহরের মাঝখানে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে এটা নিয়ে আর মাথা ঘামায়নি সেই মায়ের হাত ধরে টেনে নিজের দিকে ফিরালো কিছু টা বিরক্ত হয়ে বললো
— কি হয়ছে এভাবে হাঁ করে আছো কেনো। কী হয়ছে বলবে?
—না! আজকাল কী হচ্ছে এসবে বুঝতে পারছি না। কয়েকদিন যেতে না যেতেই শহরের মাঝখানে একটা কাঁটা মাথা পাওয়া যাই। পুলিশ ও খুঁজে পাচ্ছেনা এর উৎস। কত গুলো হিডেন ক্যামেরা লাগালো তবুও ধরতে পারলো না। যে লোকটার কাটা মাথা ওর পরিবারের সবাইকে নাকী হত্যা করা হয়েছে বলে একটা দীর্ঘশ্বাস নিলো।
নেহার মধ্যে কোনে ভাবান্তর হলো না। কিছু না বলে চলে গেলে নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে কলেজের জন্য তৈরি হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ে নাস্তা করার জন্য। নাজমা বেগম তখন পরোটা আর মুরগির মাংসের প্লেট সামনে এগিয়ে দিয়ে। তিনি আবার নিজের কাজে চলে জান।
নাস্তা শেষে কলেজের উদ্দেশ্য হাঁটতে শুরু করে। কাউকে না বলে প্রতি বারই এমন করে সে কাউকে বলে কোথাও যাওয়া তার কাছে বিরক্তিকর ব্যাপার।
নেহার পুরো নাম আফরোজা চৌধুরী নেহা, পরিবারের বড় মেয়ে ,বাবা নাহিদুল ইসলাম নেহাল ব্যবসায়ী ,মা নাজমা আক্তার গৃহিণী , তারা চার ভাইবোন ,১ নাম্বারে নেহা ২,রিহা ইসলাম ৩, নাইমুল ইসলাম ৪, ফাতিহা ইসলাম।
নিজের নামে চৌধুরী শব্দটা আগে নেহাকে খুব করে ভাবাতে কেনো নামের এতো অমিল বাবা,মা কে জিজ্ঞাসা করলে বলে এটা তার মামা রেখেছে। মামাকে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করেছিলো নেহা কিন্তু বলেনি কথা এড়িয়ে গেছে। কিন্তু যেদিন নিজের সম্পর্কে জানতে পেরেছে সেদিন থেকে আর ভাবায় না ।
নেহা আনাস থার্ড ইয়ারে পড়ে পড়া লেখা ভালো হয়েও ভালো না পড়াশোনা পাশাপাশি এখন চাকরি করে সে। তার এই পরিবার মধ্যোবৃত্ত পরিবার ।
বসা থেকে বের হয়ে কিছু দূর হেঁটে গেলেই বড় রাস্তায়। রাস্তায় দাঁড়াতে একটা অটোরিক্সা ডেকে উঠে বসলো।
— কাকু চলেন তাড়াতাড়ি আমার দেরি হয়ে যাবে।
রিক্সায় উঠে বসতে মোবাইলে একের পর এক মেসেজ আসতে শুরু করে
টুং,,,,,টুং,,,,,,, টুং, টুং টুং টুং টুং টুং মোবাইলে মেসেজের গোডাউন হয়ে যাওয়ার অবস্থা। আর এই মেসেজ দেওয়া মানুষ টা আর কোউনা ।নেহার ফুফাতো বোন জাহিয়া খান দুজনে সেম ইয়ারে কলেজে যেতে একটু দেরি হলেই শুরু হবে। তার মেসেজ দেওয়া আর থামবে না রিপ্লাই না দেওয়া পর্যন্ত।
নেহা মেসেজের রিপ্লাই না দিয়ে কল দিলো তাকে। কল রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে জিহু বলে উঠলো
—তুই কোথায় রে রোজ?
— এইতো চলে এসেছি আর বেশি নেই তো,
নেহাকে বলতে না দিয়ে জিহু বললো
—তারা তাড়াতাড়ি আই আমরা কমন রুমে আছি।
নেহা জাহিয়া কে জিহু বলে ডাকে নেহা সে রোজ বলে ডাকে।
নেহা হুম বলে কল কেটে দিলো। মোবাইল ব্যাগে রেখে দিলো, ততক্ষন গাড়ি এসে থামে নিজ গন্তব্যে সোনাপুর জিরু পয়েন্ট এর সামনে ভাড় মিটিয়ে হাঁটতে লাগলো সে প্রতিদিন এর মতো।
কিছুটা দূরে গেলেই নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশন তার পরেই কলেজ রোড।
ইট আর সিমেন্টের রাস্তায় ধরে হাঁটতে লাগলো নেহা। সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ এটা আধা সরকারি আর আধা বেসরকারি কলেজ নিজের কপালের জোরে এখানে চান্স পেয়েছে। তবে কলেজের পরিবেশটা তার ভালো লাগে চার বছর এখানে থেকে পড়েছে মানুষ এক জায়গায় বেশি দিন থাকলে ভালো লাগেনা। কিন্তু নেহার ক্ষেত্রে তার উল্টো এই জায়গায় যেনো দিন দিন তার কাছে ভিন্ন রুপ ধারণ করে কেনো তা জানেনা। কেনো ভালো লাগে এই একটা প্রশ্নের উত্তর নেই।
কলেজের রাস্তার এক পাশে দিঘি তার পাশে অনেক বড় বড় গাছ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে তার আরেক পাশে দেয়াল দিঘির এক পাশে বসার জন্য বাঁশের মাছা সব মিলিয়ে খুব সুন্দর লাগে।
কলেজের গেট পেরিয়ে অনেক বড় একটা মাঠ এক পাশে সিমেন্ট এর তৈরি রাস্তা ধরে কলেজ ভবন এর সামনে এসে দাঁড়ালে চোখে পড়ে কাগজ ফুলের গাছ। কেঁচি গেটের উপরে ছোট্ট চাওনি তে ছড়িয়ে আছে ডাল গুলো গাছটা সব সময় ফুলে ভরে থাকে তার পাশে ছোট্ট একটা বাগান।
আফিস রুমে পাশের দেয়ালে ফিঙ্গার প্রিন্ট মিশিং এ ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে দোতলা কমন রুমে গিয়ে দেখলো সবাইকে। উপস্থিত সাবার হাতে মোবাইল, এটা কমন রুম না হয়ে মোবাইল রুম হলে হতো। সবাই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে বসে থাকে।
সময় নিজ গতিতে ছুটে চলেছে।
তখন বারোটার কাছাকাছি প্রতি দিনের মত আজও সবাই কলেজের পাশে দিঘির একপাশে হেঁটে চলেছে তারা চারজন নেহা, জিহু,আরু,আমাইরা। চারজন খুব ভালো ফ্রেন্ড।
ক্লাস করা হয়না চারজনের যেদিন একত্রিত হবে ক্লাসে বারোটা বাজবে। হাঁটার এক পর্যায়ে পাশ দিয়ে কিছু ছেলে সামনে এসে দাঁড়ায় কলেজে কোনো ছেলেদের নিয়ে নেহার মাথা ব্যথা নেই। নেহা নিজের মতই থাকে।
ওরা নেহাদের পথ আটকে দাঁড়াতে। নেহা তাদের দিকে না তাকিয়ে পাশ কেটে চলে যেতে নিলে আবার ও নেহার সামনে এসে দাঁড়াতে নেহা এবার বিরক্তির সাথে রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
— আজব তো খাম্বার মতো আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ?
তাদের কারো মধ্যে কেনো ভাবান্তর নেই। যেনো তারা কিছু শুনতে পাইনি।
কিছুক্ষণ পরে একটা ছেলে বল্লো। কিছু কথা ছিলো আপনার সাথে।
নেহা কিছুটা কপাল কুঁচকে পাশে তাকাতে দেখে তিন জন তার দিকে তাকিয়ে।
________________________~~~
— বস he is back in her hometown .
অপর পাশ থেকে শুধু শুনা গেলো এক রহস্যময় হাসি এই হাসি জানান দিচ্ছে তা পরিকল্পনা সফল হয়েছে।
লোকটি কিছুটা ভয় নিয়ে বললো
— এবার কি করবো বস।
লোকটির কথার পরিপ্রেক্ষিতে ফোনের অপর পাশে থেকে বেশে গম্ভীর আওয়াজের বল্লো এবার যা করার আমি করবো ।
বলেই নিজের মনে আউড়ালো
—আমার তৈরি মৃত্যু নগরিতে তোমাকে আমন্ত্রণ।এই হত্যা কান্ড এই পাপা সব কিছুর প্রতিদান নিতে হবে তোমাকে। যেই হাত আল্লাহর দরবারে উঠতো সেই হতে রক্তে রঞ্জিত চুরি। এই পাপিষ্ঠ হাতে হাত রেখে চলতে হবে নয়তো কাটতে হবে সিদ্ধান্ত তোমার। যতদিন না তারা শাস্তি পাবে ততদিন এই দেহ শান্ত হবেনা।
—তোমাদের সময় শেষ এবার আমার পালা।
বলে হাসতে থাকে আওয়াজ করে।
মোবাইলের ওপাশে হাসির আওয়াজে থতমত খেয়ে যাই আর ভাবতে থাকে এতো বছরের চাকরি করছে কখনো বস কে শব্দ করে হাঁসতো দেখেনি বা শুনেনি।
এমনি কী বস যে হাসতে জানে সেটা যানা ছিলো না। কি হয় ওই লোক?যার কারনে বসের মুখে হাসি ফুঁটেছে দেখতে হয়তো। হঠাৎ! চিৎকারে আওয়াজের ওর দেন ভাঙ্গে ।
—জি বস কিছু বল্লেন।
—মনোযোগ থাকে কোন দিকে?
—সরি বস!
—তোর সরি তোর কাছে রাখ যেটা বলছি শুন নাহলে পদ্মা নদীর মাঝখানে ফেলে আসবো।
— সরি এমন করবেনা আমি মরে গেলে আমার না জানা বউয়ের কী হবে।
—আর একটা কথা বলবি তো এক মিনিট দেরি হবে না নদীর মাঝখানে যেতে।
— সরি বস কি বলবেন বলেন?
—তোর কাজ এতো টুকু ওর উপর নজর রাখ কোথায় যায় কি করে সব কিছুর খবর আমরা চাই আর কিছু করতে হবেনা।
—ওকে বস!
____________________________________________________
দুপুর ২টা বাজে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুইটি Mercedes। এক সাথে বের হলো নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায় পাশাপাশি দুইটি গাড়ি চলছে সমানতালে অন্য সব গাড়িকে পিছনে ফেলে।
দীর্ঘ তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সেটা প্রবেশ করেছে নোয়াখালী জেলার মাইজদী শহরে তখন রোদের উত্তাপ কমে আকাশে হালকা মেঘ জমেছে।
গাড়ি দেখে মনে হবে কোনো এমপি মিনিস্টার এসে কিন্তু তা নয়
গাড়ির ব্যক সিটে গা এলিয়ে বসে আছে এক পুরুষ যার পরনে সাদা শার্টের উপর কালো ওভারকোট , কালো প্যান্ট , কানে ইয়ারফোন কারো সাথে কথা বলছে। কপালে হাতে কব্জি দিয়ে ঢাকা কালো রেশমী চুলে , সরু নাক চিকন হালকা পোলা ঠোঁটে হলকা লাল আভা ছড়িয়ে আছে । ক্লিন শেভ করা চোয়াল।
হঠাৎ গাড়ি থামায় কিছুটা নোড়া উঠলো। লেকটা কপাল থেকে হাত সরাতে এক জোড়া মায়া আর নেশাক্ত চোখ দৃশ্যমান হলো। যে কেউ দেখলে সে তার নিজের চোখ বন্ধ করতে পারবেনা । কালো কুচকুচে চোখের মণি বড় বড় পাপড়ি চোখের দুপাশ একটু সরু আর মাঝখানে ভরাট — ঠিক বাদামের মতো শেপ।
—সার আমরা পৌঁছে গেছি।
কথা শেষ করতে একজন লোক এসে মেন গেট খুলে দিলো সাথে সাথে গাড়ি দুটো বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
গাড়ি থামতেই একজন মধ্যবয়স্ক লোক ব্যক সাইডের দরজা খুলে দিয়ে সরে দাঁড়ালো।
লোকটা গাড়ি থেকে নামতেই তার চোখে পড়লো একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি বাড়ির দিকে তাকিয়ে মনে পড়লো পুরোনো সব স্মৃতি।
এই বাড়িতেই তার শৈশব থেকে কিশোর জিবনে কাটানো সময় গুলো।কারো কথায় সে বেরিয়ে এলো স্মৃতির পাত থেকে,
—কেমন আছো বাবা। গোটা একটা বছর পর তোমার সাথে দেখা। অনু মা আর রোওয়ান বাবা কোথায় ?
— ভালো আছি চাচা ।তুমি কেমন আছো ?
~ আমি ভালো আছি বাবা।
লোকটার নাম মোহান এই বাড়ির দেখা শোনা করে।
তখন পিছনের গড়ি থেকে একটা মেয়ে আরো একটা ছেলে বেরি এলো অনু, রোওয়ান, ,, দুজনে একসাথে বল্লো
—মোহান কাকা কেমন আছো তুমি ?
—তোমাদের দেখে ভালো না থেকে পারি তোমরা কেমন আছো।
—আমরা ভালো আছি ।
—চলে ভিতরে চলো তোমার আপা মনি অপেক্ষা করছে কখন থেকে যখন শুনে ছিলো তোমরা আসবে।
অনু বললো,
— ঠিক আছে চলো।
সবাই বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। বাড়িতে প্রবেশ করতে একজন ৩০ বছরের মহিলা এগিয়ে আসে চোখের চশমা ঠিক করে বললো,
—অনু ,রোওয়ান কেমন আছো তোমরা। হাস্যজ্জল মুখ নিয়ে বল্লো।
অনু আর রোওয়ান এক সাথে বললো,
— ছোট খালামনির আমরা ভালো আছি।
অনু আর রোওয়ান এর পিছনে সেই সুদর্শন পুরুষের দিকে তাকিয়ে আলিফা রহমানের চোখে কেনে জলের আভা দেখা দিলো। কিছুক্ষণ তাকে পরখ করে তাকিয়ে বল্লো
— আয়ান কেমন আছিস তুই?
আলিফা রহমান আয়ান ,অনু ,রোওয়ানের ছোট খালা আয়ানের থেকে দুই বছরের বড় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হওয়া।
— মনি কেমন আছো তুমি?
আয়ান আলিফ রহমান কে মনি বলে ডাকে
~ আমি ভালো আছি। তোকে কতটা দিন পর দেখলম সেই যে মনির উপর রাগ করে চলে গেলি আর কেনো কেনো খবর ও পেলাম না তোর এখনো কী রাগ করে আছিস আমার উপর।
আয়ান আলিফা রহমানের চোখের জল মুছে দিয়ে বল্লো
—না আমি রাগ করিনি শুধু অভিমান হয়েছে । তোমার উপর কী রাগ করে থাকতে পারি।
—তাহলে এই দুই বছর আমার সাথে কথা কেনো বললি না। মানলাম তুই অভিমান হয়ছে তোর সেটার জন্য তো দুই বছর দূরে ছিলি। অন্তত কথা বলতি বেশি না হলে ও দু একটা তাতেই শান্তি পেতাম।
—এখনতে চলে এসেছি আর কষ্ট পেতে হবেনা তোমাকে।
— এসে ছিলি নিজের ইচ্ছে ঠিক আছে কিন্তু নিজের ইচ্ছে যেতে পারবি না। এখানে থাকবি আমার সাথে আর যেতে দিবো না তোকে।
—আচ্ছা ঠিক আছে। চলো এখন এতো দূর থেকে জার্নি করে এসেছি আমি টায়াড ঘুমাবো।
পাস থেকে অনু বলে উঠলো
— খালামনি এটা কিন্তু ঠিক না তুমি ভাইয়া কে পেয়ে আমাদের ভুলে গেলে।
অনুর কথায় আলিফা রহমান হাসলেন
অনু ও হাসলো আলিফা রহমান অনুর কান ধরে টেনে বল্লেন
— হয়েছে দুষ্টুমি এখন চল ফ্রেশ হে খাবি চল।
#চলবে
