#জয়_আমিরের_পুনর্জন্ম #নির্মাতা_তেজস্বিতা মূর্তজা
#লেখিকা_বৃষ্টি_আক্তার
#পর্ব_1
উপন্যাস দিচ্ছি:sosi/বন্যা
📌 এটা শুধুমাত্র একটি কাল্পনিক গল্প। বাস্তবতার সাথে মেলাতে যাবেন না। এই গল্প টা মূলত লেখা আমরা হাজারো পাঠিকার অবরুদ্ধ নিশীথ উপন্যাস পড়ে জয় আমিরের মৃত্যুটাও মেনে নিতে পারিনি। অনেকের শখ ছিল ইচ্ছা ছিল অন্তত ও জয় আমিরের একটা সুন্দর সংসার দেখার। মূলত পাঠিকাদের কষ্ট কমানোর জন্য ইচ্ছা পূরণ করার জন্য দ্বিতীয় বার জয় কে নিয়ে আসা যেখানে শুধু তাদের না হওয়া একটা সংসার আর আমির বংশের শেষ প্রদীপ এর কল্পকাহিনী থাকবে। আমি কাঁচা হাতের লেখিকা, তেজস্বিতা মূর্তজা আপুর মতো এমন দক্ষ ভাবে হয়তো পারব না লিখতে তবে চেষ্টা করব। ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 📌 তো চলুন শুরু করি।
........
একটি প্রাইভেট হাসপাতালের করিডোর দিয়ে একজন লোক পায়চারি করছে। বয়স আনুমানিক ৪৭-৪৮ এমন হবে। বয়সের তুলনায় জুয়ান লোকের মতো। মুখে খোঁচা খোঁচা আধাপাকা দাড়ি। যেটা সেইভ করা হয়েছিল ৬-৭ দিন আগে এরকম। চিন্তিত পায়ে পায়চারি করছেন মুখে অস্থিরতা। একবার কাঁচের ঘর আইসিইউ এর ঘরের দিকে তাকিয়ে উঁকি দিয়ে একজন কে দেখার প্রয়াস। পাশে একটা ডাক্তার ও নার্স এলো কাঁচের দরজা খুলে কি সব মেডিসিন নিয়ে গেলো ভিতরে ট্রে তে করে। সাথে সাথে লোকটাও ঢুকলো ঘরের ভিতরে।
ভিতরে বেডের উপর একটা নিথর দেহ শুয়ে আছে। শরীরটা শুকনো চোখে মুখে কোনো অনুভূতি নেই হাত পা নড়ছে না। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত স্থান দেখা যাচ্ছে ভ্রুর ওপরে কাটা দাগ। হাতে ছিঁড়ে ফেরে যাওয়ার ব্রাউন রঙের তেলতেলে স্পষ্ট দাগ। চেহারাটায় আগাধ মায়া দেখা যাচ্ছে। যে মানুষ টা একসময় পুরো দিনাজপুর জেলা চষে বেরিয়েছে সে এখন বিগত ৭ মাস ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে নিস্তেজ হয়ে।আইসিইউ এর বেডে নিথর হয়ে শুয়ে আছে জয় আমির। শরীর জুড়ে অসংখ্য চিকিৎসার সরঞ্জাম, হাতে স্যালাইন আর মুখে অক্সিজেনের মাস্ক।আইসিইউ এর বেডে নিথর হয়ে শুয়ে আছে জয় আমির। শরীর জুড়ে অসংখ্য চিকিৎসার সরঞ্জাম, হাতে স্যালাইন আর মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো। বেডের একপাশে থাকা কার্ডিয়াক মনিটরের সবুজ রেখাটি ক্রমাগত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠানামা করছে।
HR: 80 bpm। SpO₂: 97%।
নীরব কক্ষটিতে ভেসে আসছে যন্ত্রটির নিয়মিত টুট.. টুট... টুট... শব্দটি।
জয় আমিরের চোখ বন্ধ, নিথর দেহ খানা। বিগত ৬ মাস ধরে কোমায় আচ্ছন্ন। নিজের চারপাশে কি ঘটছে, কে তার পাশে বসে আছে কোনো কিছুই যেনো তার চেতনার নাগালে নেই। কিন্তু মনিটরের পর্দায় ওঠানামা করা রেখাটি জানান দিচ্ছে তার হৃদস্পন্দন এখনো চলছে। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি এখনো বেঁচে আছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চিকিৎসক মনিটরের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর কণ্ঠে বললেন,
"রোগীর হার্ট রেট আপাতত স্থিতিশীল। তবে এখনও জ্ঞান ফেরেনি জানি না কবে ফিরবে অপেক্ষার প্রহর। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই একদিন সহায় হবেন।"
ইনজেকশন, ঔষধ দিয়ে ডাক্তার চলে গেলেন। লোকটি আইসিইউ এর বাহিরে করিডোরে এসে দাঁড়ালেন। লোকটির নাম আব্দুর রউফ। দূরের ওই আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবতে লাগলেন সেই ৭ মাস আগের কথা.. যেদিন অবরুদ্ধ এক নিশীথের রাতে জয় আমিরের গুলি লাগে আর সবাই তাকে মৃত ভেবে কবর দেয়। কিন্তু মৃত্যু প্রেমিকা সেদিন তাঁকে আবারও ধোঁকা দিয়ে চলে গেছিল তাঁকে আলিঙ্গন না করেই। তার পাপের শান্তি বোধহয় সে এই দুনিয়ার ওপরই পাবে সেজন্য আল্লাহ তাঁকে আবারও বাঁচিয়ে রেখেছে। সেইদিন জয় আমিরের কবর হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সে ১৫ মিনিটের মতো কবরের মধ্যে ছিল। তাকে তুলে নিয়ে আসা হয় মাটির নিচ থেকে ওপরে আলো বাতাসে।
ভাবছেন জয় কে কবর থেকে কেনো তোলা হলো? আসলে সেইদিন যে ঘটনা ঘটেছিল সেটা দু'জন ছাড়া আর কেউ জানে না। জয় কে যখন শেষ গোসল করানো হচ্ছিল তখন এই আব্দুর রউফ আর ওনার বাবা মৌলভী ছিলেন সেখানে আরও দুজন ছিলেন। জয় কে গোসলের জন্য নিয়ে আসার পর আব্দুর রউফ একটা জিনিস...ভাবছেন জয় কে কবর থেকে কেনো তোলা হলো? আসলে সেইদিন যে ঘটনা ঘটেছিল সেটা দু'জন ছাড়া আর কেউ জানে না। জয় কে যখন শেষ গোসল করানো হচ্ছিল তখন এই আব্দুর রউফ আর ওনার বাবা মৌলভী ছিলেন সেখানে আরও দুজন ছিলেন। জয় কে গোসলের জন্য নিয়ে আসার পর আব্দুর রউফ একটা জিনিস খেয়াল করেন, জয়ের শরীর ঠান্ডা হলেও কেমন একটা নেতানো ভাব আছে। মানুষ মারা গেলে বা কোনো প্রাণী মারা গেলে যেমন শক্ত খড়ি হয়ে যায় দেহটা তেমনটা হয়নি! তখন আব্দুর রউফ এর মনে সন্দেহ জাগে জয় আমির কি বেঁচে আছে?
যদি বেঁচেও থাকে তাহলে এটা তো কাউকে বলা যাবে না। আব্দুর রউফ তার বাবার কাছে বিষয়টা বললে তিনি হতভাগ্য হয়ে যায়। ব্যাপারটা তিনিও খেয়াল করেছে কিন্তু বুঝতে পারেনি। রউফ তখন ভাবে যদি জয় বেঁচে থাকে আর যদি আবার পুলিশের হাতে পড়ে তাহলে ছেলেটা আর বাঁচবে না আর তাছাড়া শিবিরের দলের ও কেউ জানতে পারলে জয়কে পেলে শেষ করে দিবে। তিনি কাউকে কিছুই বললেন নী। গোসল শেষে কাফনের কাপড় পরানো হলো তারপর জানাজা হলো মাটি হলো। সবাই সবার মতো কবরস্থান থেকে চলে গেলে আব্দুর রউফ ও তার বাবা তাড়াহুড়ো করে মাটি খুঁড়ে জয়ের দেহ বের করে। কবরস্থানের খাদেম কে কিছু টাকা খাইয়ে তার মুখ বন্ধ করানো হলো। রউফ তার এক পরিচিত বন্ধু প্রাইভেট হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তার কাছে নিয়ে গেলো খুব গোপন ভাবে।হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেন অতি গোপনে যেনো কোনো মাছিও জানতে না পারে। জয়ের শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম, রক্তচাপ ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হলো। চিকিৎসকেরা বুঝতে পারলেন জয় এখনও একটু বেঁচে আছে তবে জয়ের অবস্থা খুব খারাপ। প্রচুর রক্তক্ষরণে তার শরীরে হেমোরেজিক শক দেখা দিয়েছে। রক্তচাপ এতটাই কমে গিয়েছিল যে কব্জিতে পালস অনুভব করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।🙃...!!!
চলবে......
(~পর্বটি পড়ে থাকলে একটা লাইক অবশ্যই দিয়ে যাবেন আর কেমন হয়েছে আপনার বিশেষ মন্তব্যটি কমেন্ট বক্সে বলে যাবেন।ভুল হলে একটু মানিয়ে নিবেন plz 💖🕊️)
