কোচিং এর ৩ তলার কর্নারের রুমটা।
বাইরে পড়ন্ত বিকেলের নরম আলো। ভেতরে থমথমে নিস্তব্ধতা, শুধু সিলিং ফ্যানটা ঘুরছে।
ফ্লোরে জড়সড় হয়ে বসে আছে তাসফি। গায়ে হালকা নীল একটা জামা, চুলগুলো এলোমেলো। মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে আছে, কিন্তু চোখে এক ফোঁটা পানিও নেই, শুধু জেদ।
সামনে দাঁড়িয়ে আভিয়ান শেখ নাইফ। গায়ে কালো শার্ট, হাতা গুটানো। ফর্সা মুখটা রাগে লাল। চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছে।
নাইফ ঠান্ডা গলায় বলল, "তোদের মতো মেয়েকে ভালোবাসা তো দূরের কথা, এই আভিয়ান শেখ নাইফের ঘৃণা পাওয়ার যোগ্যতাও তোদের নেই।"
তাসফি মাথা নিচু করে রইল। কিছু বলল না।
রাগটা আর কন্ট্রোল করতে পারলো না নাইফ।
ঠাস!
তাসফি "আহ" করে ফ্লোরে ছিটকে পড়ল। সাথে সাথে গালটা লাল হয়ে ফুলে উঠল। ঠোঁটের কোণে রক্ত।
হঠাৎ ধাম করে দরজা খুলে গেল। রাকিব আর নিলয় ঢুকলো।
নিলয় দৌড়ে এসে চিৎকার করে উঠল, "নাইফ! তুই এটা কী করলি? তোর মাথা ঠিক আছে?"
নাইফ রাগে ফুঁসছে, "ওই দুই টাকার মেয়ের এত বড় সাহস হয় কী করে আমার কোচিং-এ ভর্তি হওয়ার?"
তাসফি চোখের পানি আটকে, কাঁপা গলায় বলল, "স্যার, আমি সত্যি জানতাম না এটা আপনার কোচিং। জানলে জীবনেও আসতাম না। বিশ্বাস করুন।"
নাইফের ঠোঁটে বিদ্রুপের হাসি, "এখন যখন জেনেছিস, তাহলে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যা। তোর মতো মেয়েকে আমি পড়াই না।"
তাসফি হঠাৎ মাথা তুলল। গালে অসহ্য ব্যথা, কিন্তু চোখে এখন পানি নেই, আছে জেদের আগুন।
তাসফি বলল, "আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি আর কোনোদিন আপনার দিকে তাকাবোও না। আমার স্বপ্নটা ভাঙবেন না প্লিজ।"
একটু থেমে, বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে জিজ্ঞেস করল, "একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি? কে এই 'পাখি'? সে কি আমার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর?"
'পাখি' নামটা শুনতেই নাইফের পুরো পৃথিবী থমকে গেল। রাগটা নিমিষেই কষ্টে বদলে গেল। চোখের কোণা চিকচিক করে উঠল।
নাইফ বলল, "হ্যাঁ। তোমার চেয়ে হাজার গুণ সুন্দর। পাখি আমার জীবন, আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ। ওর নাম নেওয়ারও যোগ্যতা তোমার নেই।"
তাসফি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। ঠোঁটের কোণের রক্তটা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে ফেলল।
শান্ত গলায় বলল, "ভালো। আমি যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছি, সেই একই আগুনে আপনাকে পোড়াবো। রেডি থাকবেন স্যার। আজ থেকেই খেলা শুরু।"
*চলবে
