#মাফিয়া কিংয়ের পাগল করা ভালোবাসা
#লেখিকা: কল্পনার গল্পকন্যা
#পর্ব: ০৪
“রহমান বাড়ির ওপর নজর রাখো। নীলার গায়ে কেউ যেন হাত না দেয়।”
আরহানের নির্দেশ পেয়ে রায়ান লোক পাঠাল। তবু আরহানের মনে অস্বস্তি কাটল না। অচেনা লোকটি কীভাবে জানল সত্যিটা রহমান বাড়ির পুরোনো ঘড়ির ভেতরে লুকানো? আর নীলার জীবনই বা কেন বিপদে?
“স্যার, আপনি নিজে সেখানে গেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে,” রায়ান বলল।
আরহান ঠান্ডা চোখে তাকাল। “কেউ নীলার কাছে পৌঁছানোর আগে আমি সত্যিটা জানতে চাই।”
এদিকে রহমান বাড়িতে মাহবুব জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কালো গাড়িটি চলে গেছে, কিন্তু তাঁর আতঙ্ক কমেনি। নীলা পাশে এসে দাঁড়াল।
“বাবা, তুমি কি ওই গাড়ির লোকদের চেনো?”
“তুই নিজের ঘরে যা।”
“না, বাবা। আর চুপ থাকতে পারব না। আরহান বলছে তার বাবার মৃত্যুর সঙ্গে তুমি জড়িত। এখন তুমি বলছ কেউ আমাদের নজর রাখছে। সত্যিটা কী?”
মাহবুবের চোখে অসহায়তা ফুটে উঠল। “আমি যা করেছি, তার জন্য অনুতাপ আছে। কিন্তু আরহানের বাবার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী নই।”
“তাহলে তাকে সব খুলে বলছ না কেন?”
“কারণ সত্যিটা তোর জীবনও বদলে দিতে পারে।”
ঠিক তখন নাহিয়ান ঘরে ঢুকল। তার হাতে পুরোনো একটি চাবি ও কাগজ।
“দাদুর ঘরের আলমারিতে পেয়েছি,” সে বলল। “কাগজে লেখা—‘যদি কখনো রহমান আর খান পরিবারের মধ্যে পুরোনো আগুন জ্বলে ওঠে, তবে বড় ঘড়ির ভেতরটা খুঁজবে।’”
মাহবুবের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
নাহিয়ান জিজ্ঞেস করল, “হলঘরের সেই পুরোনো ঘড়ি?”
“ওই ঘড়ির কাছে যাস না,” মাহবুব তড়িঘড়ি বললেন। “কেউ যেন সেটাকে না ছোঁয়।”
কিন্তু তাঁর নিষেধই নীলার সন্দেহ বাড়িয়ে দিল।
রাত গভীর হলে নীলা চুপিচুপি হলঘরে এল। বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা দাদুর ঘড়ির পেছনে হাত বুলিয়ে সে ছোট্ট একটি খাঁজ পেল। চাবিটা ঢোকাতেই কাঠের ঢাকনা খুলে গেল। ভেতরে ছিল একটি খাম, কয়েকটি ছবি আর রুপালি লকেট।
খামের প্রথম পাতায় লেখা—“আরহান খানের বাবার মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা।”
“তুমি এখানে কী করছ?” পেছন থেকে নাহিয়ানের কণ্ঠ এল।
নীলা চমকে ঘুরল। “ভাইয়া, এখানে আরহানের বাবার মৃত্যুর কথা লেখা!”
নাহিয়ান কাগজটা হাতে নিতেই বাইরে কাঁচ ভাঙার শব্দ হলো। হলঘরের আলো নিভে গেল। অন্ধকারে কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।
“আমার পেছনে থাক!” নাহিয়ান ফিসফিস করল।
একটি ছায়ামূর্তি ঘড়ির দিকে এগিয়ে খাম ছিনিয়ে নিতে চাইল। নাহিয়ান বাধা দিলে লোকটি তাকে ধাক্কা দিল। নীলা লকেট আর একটি ছবি আঁকড়ে ধরে দরজার দিকে দৌড়াল। লোকটি তার পিছু নিল।
ঠিক তখন আরহানের লোকজন বাড়িতে ঢুকে পড়ল। ধস্তাধস্তির সুযোগে অচেনা লোকটি জানালা দিয়ে পালাল। আরহান ঘরে ঢুকে নীলাকে দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।
“তুমি ঠিক আছ?” তার কণ্ঠে উদ্বেগ।
“আপনি এখানে কেন?”
“তোমাকে বাঁচাতে এসেছি। ওই লোকটা কী নিয়েছে?”
নীলা ছবিটি দেখাল। তাতে আরহানের বাবা, মাহবুব এবং এক অচেনা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে তারিখ—আরহানের বাবার মৃত্যুর আগের রাত।
ছবিটি দেখে আরহান স্থির হয়ে গেল। লোকটিকে সে চিনতে পেরেছে। সে ছিল তার বাবার বিশ্বস্ত সহকারী, যাকে সবাই বহু বছর আগে মৃত বলে জানত।
“এ লোকটা বেঁচে আছে?” আরহান বিড়বিড় করল।
মাহবুব ঘরে এসে ছবিটি দেখে আতঙ্কিত হলেন।
আরহান ছবিটি তুলে ধরে বলল, “এই লোকটা কে?”
“ওর নাম জাহিদ। তোমার বাবার বিশ্বস্ত মানুষ ছিল। সেই রাতের পর উধাও হয়ে যায়।”
“তাহলে সবাই বলেছিল সে মারা গেছে কেন?”
মাহবুব মাথা নিচু করলেন। “কারণ কেউ চাইছিল না, সে মুখ খুলুক।”
নীলা লকেটটা আরহানের হাতে দিল। “এটার পেছনে একটা নাম খোদাই করা আছে।”
আরহান উল্টে দেখল—“আমান—আমার ছেলের জন্য।” আমান ছিল তার বাবার নাম।
লকেটের ভেতরে রাখা কাগজে লেখা—“যদি আরহান সত্য জানতে চায়, তাকে বলো—তার বাবা সেদিন একা মারা যাননি।”
আরহানের চোখ কঠিন হয়ে উঠল। সে মাহবুবের দিকে তাকাল।
“তাহলে সেদিন বাবার সঙ্গে আর কে ছিল?”
মাহবুব উত্তর দেওয়ার আগেই বাইরে গুলির শব্দ ভেসে এল। রায়ান ছুটে এসে বলল, “স্যার, যে লোকটা পালিয়েছে, সে ফিরে এসেছে। আর সে একা নয়!”
আরহান নীলাকে নিজের পেছনে সরিয়ে দিল। আরহান রায়ানকে বলল, “গেট বন্ধ করো।” নীলা তার চোখে রাগের পাশাপাশি ভয়ও দেখল। সে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি সত্যিই ভাবেন আমার বাবা আপনার বাবার ক্ষতি করেছেন?” আরহান উত্তর দিল না। নীলা বুঝল, এই রহস্যের জাল আরও গভীর। এবার প্রতিশোধের চেয়েও বড় হয়ে উঠল একটি প্রশ্ন—তার বাবার মৃত্যুর রাতের আসল সাক্ষী কি এখনও এই বাড়ির কাছেই লুকিয়ে আছে?
চলবে… 🖤🥀
