“সূচনা”:
১. উপন্যাসের প্রধান চরিত্র
১. আরহাম চৌধুরী — নায়ক
দুষ্টুমির কারখানা! পড়াশোনার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা করতেই বেশি ভালোবাসে। নিজেকে কলেজের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছেলে মনে করে, যদিও পরীক্ষার হলে কলমের ক্যাপ খুলতেই পাঁচ মিনিট লাগে। 😭
—
২. মেহরিন ইসলাম — নায়িকা
পড়াশোনায় ভালো, মুখে ঝাঁঝ আর বুদ্ধিতে তুখোড়। আরহামের প্রতিটি দুষ্টুমির জবাব এমনভাবে দেয় যে ছেলেটা নিজের নামও ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়!
—
৩. বাবলা — আরহামের প্রাণের বন্ধু
সারাক্ষণ খাওয়া আর আজগুবি বুদ্ধি দেওয়াই তার কাজ। তার প্রতিটি পরিকল্পনার শেষ কথা— “দোস্ত, প্ল্যানটা ভালোই ছিল, ভাগ্যটাই খারাপ!” 🤣
৪. তিশা — মেহরিনের বান্ধবী
গসিপের রানী। কলেজে কে কার দিকে তাকাল, কে কার সঙ্গে কথা বলল—সব খবর তার কাছে আছে। তবে নিজের প্রেমের খবর জিজ্ঞেস করলে সে সরাসরি অস্বীকার করে!
—
৫. মজুমদার স্যার — কলেজের প্রিন্সিপাল
গম্ভীর মানুষ। কলেজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চান। কিন্তু আরহাম আর বাবলা যখন একসঙ্গে থাকে, তখন তাঁর রক্তচাপ না বাড়িয়ে উপায় থাকে না!
—
—
“এই কলেজের সবচেয়ে বড় দুষ্টু কে, তা সবাই জানে। কিন্তু কলেজের সবচেয়ে বড় রহস্যটা কেউ জানে না। সাত দিনের মধ্যে সত্য প্রকাশ পাবে!”
এরপর কলেজে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা।
নোটিশ বোর্ডে রাতারাতি অদ্ভুত ছড়া দেখা যায়।
প্রিন্সিপাল স্যারের চেয়ারে কে যেন একটা খেলনা মুরগি রেখে যায়।
কলেজের মাইকে হঠাৎ ঘোষণা হয়, “বাবলা যেন ক্যান্টিনের বাকি টাকা পরিশোধ করে!”
আরহাম আর মেহরিন দুজনেই একে অপরকে দোষ দিতে থাকে।
কিন্তু আসল রহস্য হলো— এই সব কাণ্ডের পেছনে কে আছে, আর সে কেন কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই সত্য প্রকাশ করতে চাইছে?
সবচেয়ে বড় কথা, আরহাম আর মেহরিন কি একসঙ্গে রহস্যটা সমাধান করতে পারবে, নাকি ঝগড়া করতে করতেই সাত দিন শেষ হয়ে যাবে?
————————
“প্রেমের বদলে প্রিন্সিপালের বকা”
পর্ব ১
লেখিকা:আফরিন আক্তার
*
*
. প্রথম পর্ব: কলেজে প্রথম দিনেই যুদ্ধ!
পর্ব ১ • নতুন সকাল, পুরোনো বেয়াদবি
সকাল ৯টা ১৫ মিনিট।
নতুন কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আরহাম চৌধুরী নিজের চুল ঠিক করতে করতে বলল,
— বাবলা, আজ থেকে আমাদের জীবন বদলে যাবে!
বাবলা হাতে একটা সিঙ্গারা নিয়ে মুখ ভরা অবস্থায় বলল,
— কীভাবে?
— আজ থেকে আমি কলেজের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছেলে হব!
বাবলা সিঙ্গারার শেষ কামড় দিয়ে বলল,
— আগে তোর মুখের ডান পাশে যে চাটনি লেগে আছে, সেটা মোছ। জনপ্রিয় হওয়ার আগে মানুষ যেন তোকে দেখে সিঙ্গারা না ভাবে।
আরহাম সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে রুমাল বের করল।
— তুই আমার বন্ধু, নাকি শত্রু?
— পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটোই। এখন আরেকটা সিঙ্গারা কিনে দে।
আরহাম বাবলাকে ধাক্কা দিয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকল।
প্রথম ক্লাস শুরু হতে তখনও দশ মিনিট বাকি।
করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আরহাম হঠাৎ দেখল, একটা মেয়ে বই হাতে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটার সামনে একটা নোটিশ বোর্ড, আর সে মন দিয়ে কিছু পড়ছে।
আরহাম নিজের বন্ধুকে ফিসফিস করে বলল,
— দেখ, নতুন ছাত্রী। ভাবটা দেখেছিস? মনে হচ্ছে কলেজটা ওর বাবার!
মেয়েটা পেছন ফিরে তাকাল।
— কিছু বললেন?
আরহাম সঙ্গে সঙ্গে হাসল।
— না না, আমি বলছিলাম কলেজটা খুব সুন্দর!
মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— তাই নাকি? তা হলে আপনার মুখটা এমন বাঁকা কেন?
আরহাম চোখ রাঙিয়ে বলল,
— আমি হাসছি!
— ওহ! আমি তো ভাবলাম মুখে বাতাস ঢুকে গেছে।
বাবলা এবার এমনভাবে হাসল যে তার হাতের সিঙ্গারা মাটিতে পড়ে গেল।
মেয়েটা নিজের বইগুলো গুছিয়ে বলল,
— রাস্তা ছাড়ুন। ক্লাসে যেতে হবে।
আরহাম একটু সরে দাঁড়াল।
— নামটা কী আপনার, মিস রাগের কারখানা?
মেয়েটা ঘুরে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলল,
— মেহরিন ইসলাম। আর আপনার নাম?
— আরহাম চৌধুরী। এই কলেজের ভবিষ্যৎ কিং!
মেহরিন একবার আরহামের দিকে তাকিয়ে বলল,
— তা হলে কলেজের ভবিষ্যৎ বেশ অন্ধকার!
এই বলে সে চলে গেল।
বাবলা আরহামের কাঁধে হাত রেখে বলল,
— দোস্ত, প্রথম দেখাতেই তোর ভবিষ্যৎ শেষ!
আরহাম দাঁত চেপে বলল,
— মেয়েটাকে আমি দেখে নেব!
বাবলা মাথা নাড়ল।
— অবশ্যই। তবে আগে নিজের ক্লাসরুমটা দেখে নে। আমরা তো উল্টো বিল্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে আছি!
আরহাম চারদিকে তাকিয়ে দেখল, সত্যিই তারা ভুল ভবনে ঢুকে পড়েছে!
——————————
ক্লাসরুমে দ্বিতীয় বিপদ
কোনোমতে ক্লাসে ঢুকে আরহাম শেষ বেঞ্চে বসে পড়ল। বাবলা পাশে বসেই ব্যাগ থেকে টিফিন বের করতে শুরু করল।
ঠিক তখনই শিক্ষক ক্লাসে ঢুকলেন।
— তোমরা নতুন ছাত্র?
আরহাম উঠে দাঁড়াল।
— জি স্যার। আমি আরহাম। আর ও বাবলা। আমরা দুজনেই খুব মেধাবী।
শিক্ষক চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন।
— তা হলে বলো, গতকাল ক্লাসে কী পড়ানো হয়েছে?
— স্যার, গতকাল তো আমাদের প্রথম দিন!
শিক্ষক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— বাহ! যুক্তি ভালো। কিন্তু তোমরা যে অন্য বিভাগের ক্লাসে ঢুকেছ, সেটা বুঝতে পারোনি?
বাবলার হাত থেকে টিফিনের বাক্স পড়ে গেল।
আরহাম ধীরে ধীরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।
শিক্ষক পেছন থেকে বললেন,
— দাঁড়াও! তোমাদের আসল ক্লাসরুম কোথায়, সেটা জেনে যাও।
পেছন থেকে মেহরিনের হাসির শব্দ শোনা গেল।
সে পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে সব দেখছিল।
— কলেজের ভবিষ্যৎ কিং! নিজের রাজ্যটাই চিনতে পারলেন না?
আরহাম মনে মনে শপথ করল, এই মেয়ের সঙ্গে তার ঝামেলা আজই শেষ হবে না।
সে তখনও জানত না, এই মেয়ের সঙ্গেই তাকে কলেজের সবচেয়ে বড় রহস্যের সমাধান করতে হবে।
————————
দুপুরে ক্লাস শেষ হওয়ার পর পুরো কলেজে একটা খবর ছড়িয়ে পড়ল।
প্রিন্সিপাল স্যারের অফিসে নাকি একটা অদ্ভুত চিঠি পাওয়া গেছে।
আরহাম আর বাবলা কৌতূহল সামলাতে না পেরে অফিসের সামনে গেল। মেহরিন আর তিশাও সেখানে উপস্থিত।
অফিসের দরজা খুলে মজুমদার স্যার বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাতে একটা সাদা খাম।
তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
— আগামী সাত দিন কলেজে বিশেষ নজরদারি চলবে। কেউ কোনো দুষ্টুমি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবলা আস্তে করে আরহামকে বলল,
— দোস্ত, তুই কি কিছু করেছিস?
— আমি কেন করব?
— কারণ তুই কিছু না করলেও তোর চেহারা দেখে সন্দেহ হয়!
ঠিক তখনই স্যার খাম থেকে চিঠিটা বের করে পড়লেন।
চিঠির শেষ লাইনটা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল।
“যে নিজেকে সবচেয়ে চালাক ভাবে, সে-ই প্রথম ভুল করবে।”
আরহাম মেহরিনের দিকে তাকাল।
মেহরিনও তার দিকে তাকাল।
দুজন একসঙ্গে বলে উঠল—
— এটা নিশ্চয়ই তোর কাজ!
— আমার কাজ নয়, তোর কাজ!
তিশা মাথায় হাত দিয়ে বলল,
— আল্লাহ! রহস্য সমাধানের আগেই এদের ঝগড়া শুরু!
আর বাবলা পেছন থেকে বলে উঠল,
— কেউ কি রহস্যের মধ্যে সিঙ্গারা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে?
চলবে.....
————————
“প্রেমের বদলে প্রিন্সিপালের বকা”
পর্ব ২
লেখিকা:আফরিন আক্তার
*
*
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট।
কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আরহাম চৌধুরী নিজের চুল ঠিক করছিল।
পাশে বাবলা দাঁড়িয়ে এক হাতে সিঙ্গারা আর অন্য হাতে চায়ের কাপ নিয়ে বলল,
— দোস্ত, একটা কথা বলব?
আরহাম চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
— বল। তবে আমার সৌন্দর্যের প্রশংসা হলে দাঁড়িয়ে বলবি।
— না, তোর বিয়েতে আমাকে দাওয়াত দিবি তো?
আরহাম ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
শালা, আমি এখনো বিয়েই করিনি!
— তাই তো আগে থেকে জিজ্ঞেস করছি। পরে যদি বউয়ের ভয়ে বন্ধুকে ভুলে যাস!
আরহাম বাবলার মাথায় একটা টোকা দিয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকে পড়ল।
কিন্তু আজ কলেজের পরিবেশ অন্য দিনের মতো ছিল না। সবাই তাকে দেখেই ফিসফিস করছিল।
কেউ বলছে, “এই সেই ছেলে!”
কেউ বলছে, “চেহারা দেখেই বোঝা যায়!”
আরহাম থমকে দাঁড়াল।
— বাবলা, আমার চেহারায় কী সমস্যা?
বাবলা মনোযোগ দিয়ে তার মুখ পরীক্ষা করে বলল,
— সমস্যা তো অনেক। তবে আজকে মনে হচ্ছে তুই বিনা অপরাধেই ফেঁসে গেছিস!
— মানে?
— মানে, সবাই তোকে চোরের মতো দেখছে!
আরহাম চিৎকার করে উঠল,
— আমি চোর না!
পাশ দিয়ে যাওয়া এক শিক্ষক থেমে গেলেন।
— কে চোর?
আরহাম সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
— স্যার, আমি না!
শিক্ষক গম্ভীর মুখে বললেন,
— আমি তো কিছু বলিইনি!
বাবলা পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করল,
— দোস্ত, তোর নিজের মুখই তোর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিচ্ছে!
—————————
গোয়েন্দা মেহরিনের আবির্ভাব ;
কলেজের লাইব্রেরির সামনে মেহরিন একটা নোটবুক হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। পাশে তিশা।
তিশা বলল,
— আমার ধারণা, চিঠিটা আরহামই লিখেছে।
মেহরিন চোখ সরু করে বলল,
— প্রমাণ?
— প্রমাণ নেই। কিন্তু ছেলেটার মুখ দেখলেই সন্দেহ হয়!
— তোর কাছে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষই সন্দেহভাজন!
তিশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— হ্যাঁ, কারণ আমি জন্মগত গোয়েন্দা!
ঠিক তখনই আরহাম এসে তাদের সামনে দাঁড়াল।
— এই যে মিস গোয়েন্দা, আমার নামে মিথ্যা মামলা চালাচ্ছেন কেন?
মেহরিন ঠান্ডা গলায় বলল,
— আপনার নামে মামলা করিনি। তবে আপনি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন।
— কীভাবে?
— সবাইকে চিৎকার করে বলছেন, আপনি চোর নন। অথচ কেউ আপনাকে চোর বলেওনি!
বাবলা পেছন থেকে বলে উঠল,
— আপু, আপনি অসাধারণ! আপনার কাছে কি আমার একটা ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান আছে?
তিশা আগ্রহ নিয়ে বলল,
— কী সমস্যা?
বাবলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— আমি পড়তে বসলেই ঘুম পাই। কিন্তু ঘুমাতে গেলেই ক্ষুধা পায়। এখন আমি কী করব?
তিশা দু-সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— বিয়ে করে ফেলুন।
বাবলা অবাক হয়ে গেল।
— বিয়ে করলে কী হবে?
— তখন বউ আপনাকে পড়তে বসিয়ে রাখবে আর খাবারও দেবে না!
আরহাম হেসে মাটিতে বসে পড়ার উপক্রম হলো।
মেহরিনও মুখ ঘুরিয়ে হাসি চাপল।
আরহাম সেটা দেখে বলল,
— আপনি হাসলে ভালোই লাগে!
মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে মুখ শক্ত করে বলল,
— আর আপনি চুপ থাকলে আরও ভালো লাগে!
বাবলা বুক চাপড়ে বলল,
— আহা! প্রেম শুরু হওয়ার আগেই বিচ্ছেদ!
— চুপ কর, বাবলা! — আরহাম আর মেহরিন একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল।
তিশা হেসে বলল,
— বাহ! প্রথমবার দুজনের মত মিলেছে!
————————
প্রিন্সিপাল স্যারের জরুরি সভা
সকাল ১০টা।
কলেজের সব ছাত্রছাত্রীকে অডিটোরিয়ামে ডাকা হলো।
মঞ্চে উঠে মজুমদার স্যার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
— গতকাল আমার অফিসে যে রহস্যময় চিঠি পাওয়া গেছে, তার লেখককে খুঁজে বের করতে হবে। আর আজ সকালে আমার টেবিলে আরেকটি চিঠি পাওয়া গেছে।
পুরো অডিটোরিয়াম নিস্তব্ধ।
স্যার চিঠিটা খুলে পড়লেন।
“প্রিয় মজুমদার স্যার,
আপনার কলেজে প্রতিভার অভাব নেই। বিশেষ করে এমন একজন প্রতিভাবান ছাত্র আছেন, যিনি ভুল ক্লাসে ঢুকেও নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে পারেন।
তাঁকে সাবধানে রাখবেন।
ইতি,
আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী।”
চিঠি পড়া শেষ হতেই পুরো অডিটোরিয়ামের চোখ আরহামের দিকে ঘুরে গেল।
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
— স্যার, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র!
মজুমদার স্যার চশমা খুললেন।
— আরহাম চৌধুরী!
— জি, স্যার!
— গতকাল তুমি ভুল ক্লাসে ঢুকেছিলে?
— জি, স্যার। কিন্তু—
— তুমি কি নিজেকে কলেজের ভবিষ্যৎ কিং বলেছিলে?
আরহাম থতমত খেয়ে গেল।
— স্যার, সেটা তো ব্যক্তিগত অনুভূতি!
স্যার টেবিলে হাত দিয়ে বললেন,
— চুপ! আরহাম, আজ থেকে তুমি এবং মেহরিন এই রহস্যের তদন্ত করবে।
মেহরিন উঠে দাঁড়াল।
— কিন্তু স্যার, আমি ওর সঙ্গে কেন?
স্যার বললেন,
— কারণ তোমরা দুজনেই খুব বুদ্ধিমান।
বাবলা পেছন থেকে বিড়বিড় করল,
— স্যার, তাহলে আমাকে কেন বাদ দিলেন? আমিও তো খুব বুদ্ধিমান!
স্যার তার দিকে তাকালেন।
— তোমার হাতে কী?
— সিঙ্গারা, স্যার।
— ক্লাসে খাবার নিয়ে এসেছ কেন?
বাবলা গম্ভীরভাবে বলল,
— স্যার, তদন্তের জন্য শক্তি দরকার!
আবারও হাসির শব্দে অডিটোরিয়াম কেঁপে উঠল।
————————
সভা শেষ হওয়ার পর মেহরিন আরহামের হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিল।
— এটা কী?
— তোমার তদন্তের প্রথম সূত্র।
আরহাম কাগজটা খুলে দেখল। সেখানে লেখা—
“যে জায়গায় সবাই চুপ থাকে, সেখানেই প্রথম উত্তর লুকিয়ে আছে।”
আরহাম কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল।
তারপর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল,
— বুঝেছি! ক্যান্টিন!
মেহরিন কপালে হাত দিল।
— ক্যান্টিনে সবাই চুপ থাকে কখন?
বাবলা পাশ থেকে উত্তর দিল,
— খাবার শেষ হয়ে গেলে!
মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— তোমাদের দুজনকে নিয়ে রহস্য সমাধান করতে গেলে রহস্যই আত্মহত্যা করবে!
আরহাম হঠাৎ আঙুল তুলে বলল,
— দাঁড়াও! যেখানে সবাই চুপ থাকে... লাইব্রেরি!
মেহরিন একটু থেমে বলল,
— প্রথমবারের মতো একটা বুদ্ধির কাজ করেছ।
আরহাম বুক ফুলিয়ে বলল,
— ধন্যবাদ। আমার বুদ্ধি একটু দেরিতে কাজ করে, কিন্তু কাজ করে!
তিনজন লাইব্রেরির দিকে রওনা দিল।
লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে মেহরিন পুরোনো বইয়ের তাকগুলো পরীক্ষা করতে লাগল। আরহাম একটা বই খুলে দেখল, ভেতরে একটা ছোট কাগজ রাখা।
কাগজে লেখা—
“পুরোনো খাতা, তৃতীয় তাক, শেষ বই।”
মেহরিনের চোখ বড় হয়ে গেল।
— আরহাম, এটা সত্যিই একটা সূত্র!
আরহাম মুচকি হেসে বলল,
— বলেছিলাম না, আমি জিনিয়াস!
ঠিক তখন বাবলা পাশ থেকে একটা বই নামিয়ে বলল,
— দোস্ত, এখানে একটা খাতা আছে। তবে তোর জিনিয়াস হওয়ার প্রমাণ হিসেবে আমি এই বইটা বাসায় নিয়ে যাচ্ছি।
মেহরিন চেঁচিয়ে উঠল,
— বাবলা! লাইব্রেরির বই বাসায় নেওয়া যায়, কিন্তু রেজিস্টারে নাম লিখে!
বাবলা বইটা বুকে চেপে বলল,
— আপু, আমি তো শুধু বইটাকে একটু বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছিলাম!
তিনজনের হাসির মাঝেই মেহরিন পুরোনো খাতাটা খুলল।
প্রথম পাতায় কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনেক বছরের পুরোনো একটা ছবি।
ছবির পেছনে হাতে লেখা একটি নাম—
“অপারেশন হাসির রাজা — ২০১২”
আর তার ঠিক নিচে আরেকটি লাইন—
“এবারের উত্তরাধিকারী কে?”
আরহামের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
মেহরিন ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
— আরহাম, তোমার কি মনে হয়... এই রহস্যের সঙ্গে তোমার পরিবারের কোনো সম্পর্ক আছে?
আরহাম উত্তর দেওয়ার আগেই লাইব্রেরির দরজার বাইরে কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।
তারপর একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল—
— খাতাটা ওদের হাতে চলে গেছে!
চলবে....
