গল্প: চিঠির বাক্স | পর্ব : ১
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিনেই আদনান লাইব্রেরির পেছনে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স খুঁজে পেল। ওপরে লেখা—
"যা বলতে পারোনি, এখানে রেখে যাও"
মজা করেই সে একটা চিঠি লিখে ভেতরে রেখে দিল—
"আমি এখানে কাউকে চিনি না, খুব একা লাগছে।"
পরদিন এসে দেখে, কেউ উত্তর দিয়ে গেছে—
"একা তুমি একা নও, আমি রোজ দুপুরে এখানে আসি। - ন"
এভাবেই শুরু। কোনো নাম নেই, দেখা নেই। শুধু আদনান আর 'ন' এর চিঠি।
তিন মাস চলল এভাবে। আদনান আর না দেখে থাকতে পারল না। লিখল—
"কাল বিকেল ৪টায় লাইব্রেরির সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে নীল পাঞ্জাবি পরে থাকব, তুমি আসবে?"
পরদিন নীল পাঞ্জাবি পরে ঠিক ৪টায় দাঁড়িয়ে রইল আদনান। কেউ এলো না। ৫টা বেজে গেল। মন খারাপ করে চলে যাওয়ার সময় বাক্সে একটা চিঠি পেল—
"আমি এসেছিলাম, কিন্তু সাহস হয়নি সামনে আসার। তুমি যখন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলে, আমি লাইব্রেরির দোতলার জানালা থেকে দেখছিলাম। তোমাকে খুব সুন্দর লাগছিল।"
আদনান রাগ করে লিখল— "দেখা না করলে আর লিখব না।"
দুই দিন কোনো চিঠি এলো না।
তৃতীয় দিন বাক্সে একটা মোটা খাম। ভেতরে অনেকগুলো চিঠি আর একটা ছোট চাবি। সাথে একটা চিরকুট—
"আমি নাফিসা, বাংলা দ্বিতীয় বর্ষ। আমার পায়ে সমস্যা, হুইলচেয়ারে চলি। তাই সামনে আসতে ভয় পেয়েছিলাম, যদি তুমি পছন্দ না করো। যদি সাহস থাকে, লাইব্রেরির পেছনের আর্কাইভ রুমে এসো, চাবিটা ওখানে লাগবে।"
আদনান দৌড়ে গেল আর্কাইভ রুমে। দরজা খুলে দেখে, জানালার পাশে হুইলচেয়ারে বসে আছে একটা মেয়ে, কোলে সেই চিঠির বাক্সটা।
মেয়েটা মুখ তুলে বলল— "তুমি দেরি করলে কেন? আমি তিন দিন ধরে অপেক্ষা করছি।"
আদনান কিছু বলল না, তার পাশে বসে পড়ল। বলল— "এখন থেকে আর বাক্সে নয়, সামনাসামনি লিখব, হবে?"
