#অপূর্ণতায় তুমি
#সিয়াম হোসেন
#পর্ব:২
ঘড়ি কাটা রাত তখন ৭ টার ঘরে । আদনান গ্রামের পথ ধরে হাটছে। কলেজের মাঠ থেকে বেরিয়েছে অনেকক্ষণ আগে। এতক্ষণ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। এখন বাড়িতে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় দেখে বাবু মিয়ার বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আর বাবু মিয়া কারো উপর চিৎকার চেচামেচি করে কাউকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করছে। আদনান সেরকম ওদিকে মন না দিয়ে বাড়ির দিকে দিয়ে যাচ্ছিল। আর মনে মনে বললো,
- এই বাবুমিয়া আবার কাকে এত খারাপ ভাবে গালি দিতাছে। আর এত কান্নাকাটিই বা কে করে।
বাবু মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে বাবুমিয়ার ছোট ৯ বছরের মেয়ে শিউলি দৌড়াচ্ছে আর আদনানকে ডাকছে।
-আদনান ভাই! ও আদনান ভাই!
শিউলির ডাক শুনে আদনান একটু থামলো। শিউলিকে দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে ভয়ে আছে।শিউলির এ অবস্থা দেখে কৌতুহল হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- কিরে ডাকতাছোস কে কি হইছে? আর তোদের বাড়িতে এত কান্নাকাটি করে কে? তোর আব্বাই বা কাকে ওরকমভাবে গালি দিতাছে?
শিউলি দৌড়ে এসে আদনানকে ধরে হাপাতে শুরু করে। আদনান শিউলিকে ধাতস্থ করে বলে,
- এত দৌড়চ্ছিস কেন? দাড়া একটু দম নে তারপড় বল কি হয়েছে।
শিউলি কিছুক্ষণ দম নিয়ে কান্না জোরানো কন্ঠে আদনানকে বলে,
- আদনান ভাই আমার মারে বাচাও তুমি আমার মা রে বাচাও। আব্বা আমার মারে মাইরা শেষ করে ফালাইতাছে গো আদনান ভাই। তুমি আমার মারে বাচাও।
শিউলির কথা শুনে আদনান স্তব্ধ হয়ে গেলো। এতক্ষনে বুঝতে পারলো বাবুমিয়া কাকে গালিগালাজ করতেছে। আর এত কান্নাকাটিই বা কে করতেছে। আদনান আর কিছু না ভেবে দৌড়ে গেলো শিউলিদের বাড়িতে। গিয়ে দেখে বাবুমিয়া মোটা একটা গাছের ফালি দিয়ে শিউলির মা হালিমাকে উত্তম মধ্যম পেটাচ্ছে। আদনান দারিয়ে না থেকে বাবুমিয়ার কাছ থেকে গাছের ফালি টা নিয়ে নিলো। বাবুমিয়া হত্বভম্ব হয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে রইলো। যেন বাবুমিয়া আদনানকে এখানে আশা করেননি। বাবুমিয়া থেমে যেতেই শিউলি দৌড়ে হালিমার কাছে গিয়ে হালিমাকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো। আদনান বাবুমিয়াকে কিছু বলবে তার আগেই শিউলি আদনানকে ডাকতে লাগলো। শিউলির ডাকে আদনান হালিমা আর শিউলির দিকে তাকালো। শিউলি কান্না করতে করতেই আদনানকে বললো,
- আদনান ভাই দেখো আমার মা কথা কয় না কে? কি হইলো মায়ের দেখো না তুমি মা কথা কয় না কে? কি হলো আদনান ভাই আইসা দেখো না।
শিউলি হালিমাকে জরে জরে ঝাঁকাচ্ছে কিন্তু হালিমা কিছুই বলছে না। হালিমার মাথা দিয়ে বাধ ভাঙ্গা নদীর মতো তাজা রক্ত নির্গত হচ্ছে। হাত পা ক্ষতবিক্ষত। অনেক স্থান থেকে মাংস গাছের ফালির সাথে উঠে এসেছে। এতটা নৃশংস ভাবেই না মেড়েছে হালিমাকে। আদনান হালিমার কাছে গিয়ে হালিমার নাকের কাছে গিয়ে আঙ্গুল ধরলো শ্বাস চলছে কিনা বোঝার জন্য। কিন্তু কোনো রকম শ্বাস চলছে না হালিমার। আদনান যা ভাবছে তাই যেন না হয়। কিন্তু আদনান এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না হালিমা বেচে আছে কি মারা গেছে। তাই জলদি শিউলিকে বললো রাস্তায় গিয়ে গাড়ি থামাতে। হালিমাকে এক্ষুনি হাসপাতালে নিতে হবে। মোহনগঞ্জ থানায় একটি মাত্র সদর হাসপাতাল আছে। তাছাড়া আর কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। শিউলিদের গ্রাম থেকে প্রায় ১২ কিলো মিটার দুরে মোহনগঞ্জ সদর হাসপাতাল। এতরাতে ওত দুরের পথের জন্য গাড়ি পাওয়া অসম্ভব বললেই চলে। শিউলি দৌড়ে রাস্তায় আসলো গাড়ির জন্য। কিন্তু কোনো গাড়িই ওত রাতে ওত দুর যাওয়ার জন্য রাজি হলো না। শিউলি কি করবে কিছু বুঝতে না পেড়ে আবার বাড়ি পিরে গেল। বাড়ি গিয়ে শিউলি কান্না করতে করতে আদনান কে বললো,-
- আদনান ভাই রাস্তায় একটাও গাড়ি পাইলাম না। কোনো গাড়িই হাসপাতালে যাওয়ার লাইগা রাজি হইলো না৷ এহন আমার মার কি হইবো আদনান ভাই?
আদনান শিউলি কি বলবে কিছুই ওর মাথায় এলো না। তখনই মনে পড়লো জব্বার চাচার কাছে তো গাড়ি আছে। ওই গাড়িতে করে হালিমাকে নিয়ে যাওয়া যাবে হাসপাতালে। যেই ভাবা সেই কাজ আর একটুও সময় নষ্ট না করে জলদি জব্বার চাচার বাড়িতে গেলো। বাড়িতে গিয়ে জব্বার চাচাকে হাপাতে হাপাতে ডাকছে,
-জব্বার চাচা ও জব্বার চাচা বাড়ি আসো? তাড়াতাড়ি বাহিরে আসো। জব্বার চাচা!
আদনানের ডাকে জব্বার চাচা ঘর থেকে বেরিয়ে বিরক্তি স্বরে বললেন,
- কেডা রাত বিরাইতে এমন ডাকতাছে?
আদনান জবাব দিলো,
- আমি জব্বার চাচা আদনান তাড়াতাড়ি বাহিরে আসো জরুরি কাজ আছে।
জব্বার চাচা ঘর থেকে বেরিয়ে আদনান কে বললো,
-আরে তুুমি এত রাইতে আমার বাড়িত আইসো কে কি হইছে?
আদনান জলদি বলা শুরু করলো,
- বাবুমিয়া তার বউ কে মেরে একদম আধমরা করে ফেলেসে। তার নিশ্বাস চলছে না। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে না নিলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এত রাতে রাস্তায় কোনো গাড়িও পাচ্চি না হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। তাই তুমার কাছো আসলাম তুমি তুমার গাড়ি টা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলো। হালিমা চাচিকে এখনই হাসপাতালে না নিলে যে সে মারাও যেতে পারে।
আদনানের কথা শুনে জব্বার তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করে শিউলিদের বাড়ি সামনে আসলো। আদনানও দেরি করলো না তাড়াতাড়ি বাড়িতে ডুকে হালিমাকে নিয়ে আসবে তখনই বাবুমিয়া আদনানের পথ আটকে দারায়। আর রাগে কট মট করতে করতে বলে,
- এই খাড়া আদনান! কই নিয়া যাস তুই হালিমারে? বেশি পিরিত দেখাও তাই না। এত পিরিত ভালা না। যা ওরে ঘরে থুইয়া আয় সকালে কবিরাজ রে খবর দিমুনি আইসা কিছু অষুধ দিবো ঠিক হইয়া যাইবো।
বাবুমিয়ার কথা শুনে আদনান কি বলবে কিছু বুজে পায় না। একটা মানুষ কিভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে আদনানের জানা নেই। তখনই জব্বার চাচা এসে বাবুমিয়ার কোমর বরাবর দিলো এক লাথি। লাথিটা এতো জরে লেগেছে যে বাবু মিয়া জোক সামলাতে না পেরে মাটিরে মুখ থুবরে পরে যায়। বাবুমিয়া মাটিতেই পরে থাকা অবস্থায় জব্বার আরো কয়টা লাথি দিয়ে আদনানকে আর হালিমাকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে। শিউলিও আসতে চেয়েছিল কিন্তু রাত বেশি হওয়ার জন্য আর নিয়ে যাই নি। ওকে পাশের বাসার সামিয়ার মার কাছে রেখে গেছে। জব্বার চাচা তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে হালিমাকে। হাসপাতালে এসে আদনান ডাক্তারকে খোজতে যায়। ডাক্তার কে খুজে তাকে সব খুলে বলে। ডাক্তার এসে হালিমাকে দেখে। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে যায় হালিমা তো অনেক আগেই সবাই কে ছেড়ে চলে গেছে। শুধু রেখে গেছে ফুলের মতো ছোট মেয়েটাকে। ডাক্তার হালিমাকে মৃত ঘোষনা করে।
- আমি দুঃখীত! তিনি তো অনেক আগেই মারা গিয়েছে!
আদনান আর জব্বার চাচার যেন মাথা ঘুরে যায়। কি করবে এখন তাড়া? কি জবাব দিবে শিউলি কে? ওই ছোট মেয়ে কিভাবে থাকবে তার মাকে ছাড়া এই নির্দয় নিষ্ঠুর পৃথিবীতে? এই সব ভাবতে ভাবতে তারা শিউলিদের বাড়ি সামনে চলে আসে। ততক্ষণে রাত প্রায় শেষের দিকে।গাড়ির শব্দ শুনে শিউলি ছুুটে এসে আদনান কে জিজ্ঞেস করলো,
- আদনান ভাই আমার মা কেমন আছে? ভালো হইয়া গেছে না আমার মা? কই মা কই? মা কই তুমি?
শিউলির উৎসাহ দেখে আদনান বুঝে উঠতে পারছে না কিভাবে শিউলি কে বলবে যে ওর মা আর এই পৃথিবীতে নেই। অনেক কসরত করে ভেতরের আবেগটুকু দমন করে শিউলি কে কাছে আনলো। শিউলির চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে সারারাত ঘুমায়নি মেয়েটা। আদনান শিউলিকে নিজের কাছে এনে অতি যত্ন সহকারে বোঝানো চেষ্টা করে বললো,
- দেখ শিউলি মানুষ চিরকাল আমাদের মাঝে থাকে না।কোনো না কোনো দিন তাকে এই পৃথিবীর সব কিছু ফেলে আল্লাহর কাছে চলে যেতে হয়। এই পৃথিবী আমাদের আসল ঠিকানা না।
আদনানের কথা শিউলি আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। অবুঝের মতো শিউলি আদনানকে জিজ্ঞেস করলো,
- তুমার কি হইছে আদনান ভাই? আমারে তুমি এগুলা কি বলতাছো? আমি কিছুই বুঝতাছি না। আর আমার মা কই? সেটা আগে বলো।
আদনান শান্ত গলায় উত্তর দিল,
- তোর মা আর এই পৃথিবীতে নেই রে। সে অনেক দুর চলে গেছে। অনেক অনেক দুর যেখানে চলে গেলে আর কখনও কেউ ফিরে আসে না।
শিউলির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। এটা কি বললো ওকে আদনান। ওর এখনও কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্চে সব সপ্ন।আর এখনই সপ্ন ভেঙে যাবে আর ওর মা ওর সামনে এসে ওকে আদর করবে। কিন্তু এগুলো কিছুই হলো না।ওর মা আসলেই আর নেই। ওকে রেখে চলে গেছে অনেক দুর। একটাবারও ভাবলো না শিউলির কি হবে? ছোট মেয়েটাকে পুরো পৃথিবীতে একা ফেলে পালিয়ে গিয়েছে ওর মা। মা-রা কি এত নিষ্ঠুর হতে পারে? হয়তো পারে তাইতো শিউলির মা ওকে ছেড়ে চলে গেছে।
জমিদার বাড়ির সদর দরজার সামনে দারিয়ে আছে নীলা। সামনে সালমা এসে দরজা খুললো। নীলাকে দেখা মাত্রই সালমার রাগ আকাশ ছুয়ে গেলো৷ রাগে কট মট করতে করতে বললেন,
-এতক্ষনে তোর বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে? কোথায় ছিলি এতক্ষন? রাত কয়টা বাজে সে হিসেব আছে তোর? কি হলো মুখে কুলুপ এটে আছিস কেন কিছ জিজ্ঞেস করছি তো আমি। উত্তর দে।
নীলা কিছু বলবে তার আগেই মাহবুবুর সালমা কে বিরক্তি নিয়ে বললেন,
- আচ্ছা তুমার কি একটুও জ্ঞান নেই? মেয়েটা সবে মাত্র বাড়িতে ফিরেছে। অন্তত ভেতরে তো আসতে দিবে তার আগেই ওর উপর চিল্লাচিল্লি করছো। আয় তো মা ভেতরে আয়।
মাহবুবুরের কথা শুনে এবার জোহরা বেগমও রেগে গেলেন। ছেলের উপর বিরক্ত হয়ে রাগি স্বরে বললেন,
- মেয়েকে এত আশকারা দিস না রে মাহবুব। মেয়ে লোক কে বেশি মাথায় তুলতে নেই। যখন এই মেয়ে মুখে চুন কালি লাগাবে তখন বুঝবি।
দাদির কথা শুনে নীলার মুখটা ছোট হয়ে এলো। অবশ্য এটা নতুন কিছু না। জোহরা সবসময়ই উঠতে বসতে নীলাকে কথা শোনায়। নীলাঞ্জনার যেন কোনো কাজই জোহরা বেগমের ভালো লাগে না।কিন্তু কেন এমন করে সেটা জানা নেই নীলার। আচ্ছা নীলা মেয়ে বলে তো আবার এমন ব্যবহার করেন না জোহরা বেগম? নাকি অন্যকোনো কারন আছে? মাঝেমাঝে খুব অভিমান হয় দাদির উপর। সবার দাদি তাদের নাতনিকে কত ভালোবাসে স্নেহ করে। কিন্তু নীলার ভাগ্যে সেই ভালোবাসা, স্নেহ কেন নেই। এসব ভাবনার সুতো ছিরে গেলো সালমা বেগমের কর্কশ স্বরে। সালমা বেগম কখন থেকে নীলাকে জিজ্ঞেস করছো এতক্ষণ নীলা কই ছিলাে কিন্তু নীলার মুখে কোনো কথা নেই। যার ফলে সালমা আরো বেশি তেতে উঠছেন। এবার আর সালমা বেগম না সয়ং মাহবুবুর নিজে নীলাকে কাছে টেনে বসিয়ে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
- আমাকে বলবি তো মা কোথায় ছিলি তুই এতক্ষণ। আমি জানি আমার মেয়ে কোনো খারাপ কাজ করবে না এই বিশ্বাস আছে তোর উপর। কিন্তু বুঝিসই তো বাবা মা তোকে নিয়ে বড্ড চিন্তা করি। তোর কিছু হলে আমাদের কি হবে বল। তাই জিজ্ঞেস করছি কই ছিলি? কোনো বিপদ হয়েছিলো?
নীলা মাথা নেড়ে না জানালো। মানে কোনো বিপদ হয় নি। মাহবুবুর আবার জিজ্ঞেস করলো,
- তাহলে যে এত দেরি হলো যে।
নীলা এবার বলা শুরু করলো। মাথাটা মাটির দিকে নিবদ্ধ করে নরম স্বরে বললো,
- আসলে আজকে একটু পুরোনো জমিদার বাড়ি গিয়েছিলাম।
ব্যস এতটুকু শোনা মাত্রই সালমা বেগম জোরে একটা চপেটাঘাত বসিয়ে দিলেন নীলার নরম কাতর গালে। নীলা কৃষ্ণবর্নের হওয়ার গালের লাল দাগ টুকু দেখা গেলো না। কিন্তু চর টা কত জোরে লেগেছে সেটা একমাত্র নীলাই জানে। সালমা বেগম রাগ যেন আজ বেড়েই চলেছে। দাতে দাত পিষে নীলাকে বললো,
- এই তুই কি আমাদের কথা শুনবি না কখনও? তোকে কতবার না করেছি ওই বাড়িতে না যেতে তারপড়ও কেন তুই বারবার ওই বাড়িতে যাস? কেন বল।
নীলার চোখ দিয়ে বাধহীন ভাবে জল পড়ছে। তবুও নীলা সালমা বেগম কে জিজ্ঞেস করল
- কেন মা কি আছে ওই বাড়িতে? কেন আমাকে যেতে মানা করো তুমি? ওই বাড়ির লোকজন তো কত ভালো। আমাকে কত যত্ন করলো। তাহলে কেন তুমি ওই বাড়িতে যেতে মানা করো?
এবার আর সালমা কিছু বললো না মাহবুবুর রহমানই মেয়ে বোঝানোর জন্য নীলার সামনে এসে বসলো। চোখের পানিটুকু স্বযত্নে মুছে নীলা বোঝালো প্রযাসে বললো,
- দেখ মা আমরা সব সময় যা দেখি যা শুনি সেটা সত্যি হয় না। মানুষের ভালো ব্যবহারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একন ভয়ানক সত্য। যা অন্য মানুষের জীবনকে শেষ করে দিতে পারে। তাই সবসময় যা দেখবি সেটা বিশ্বাস করবি না। বুজতে পেরেছিস?
নীলা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। কিন্তু এখন নীলার মনে আরো বেশি কৌতুহল জাগলো কি আছে ওই বাড়িতে? ওই লোকজনই বা কেমন? তারা কি আসলে ভালো? নাকি বাবার কথার মতো তারা ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে থাকে?
চলবে.........৷
