#রিদ _প্রেম_গাঁথা
০১
' এই যে শুনছেন? কে আপনি? কি হয়েছে আপনার? এমন করছেন কেন? এই যে!
অর্ধ জ্ঞান হারানোর অবস্থায় রক্তাক্ত ছেলেটির সম্মুখে বসে পড়ল মায়া। নির্জন রাস্তায় মানুষের চিহ্ন মাত্র নেই। অথচ এমন নির্জন রাস্তায় কপাল ফাটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে যুবকটি। উদ্বিগ্নতায় মায়া অচেনা লোকটির সাহায্য করতে চাইল। তাই হঁাটু গেড়ে লোকটির সম্মখে বস আলতো হাতের লোকটির গাল নাড়িয়ে সৎ সজ্ঞানে আনার চেষ্টা করে পুনরায় একিই ভঙ্গিতে ডাকল মায়া.........
' এই যে শুনছেন? এই যে!
ডাকতে ডাকতে মায়া নিজের বাসন্তি রাঙ্গা শাড়ি আঁচলটা দিয়ে তৎক্ষনাৎ অচেতন লোকটার কপাল চেেপ ধরলো রক্ত পড়া বন্ধ করতে। অস্থির মায়া আবারও ডেকে বলল.........
" এই যে আমাকে শুনতে পারছেন? কে আপনি? এখানে এইভাবে পরে আছেন কেন? আপনি কি একা? আপনার সাথে আর কেউ নেই? এই সে শুনছে?"
মায়া অনবরত ডাকে অর্ধ বেহুশ লোকটি নিভে যাওয়া দুর দুর্বল চোখে তাকায় চাইল। চোখ পড়ল মাথা লাল হিজাব ধারী ঝাপসা মেয়েলি মুখ।দুর্বলতা রেশ এতোটাই যে ঠিকঠাক চোখ মেলে তাকাতে পারলো না লোকটা।তবে ঝাপসা চোখ মায়া উদ্বিগ্নতার দেখে অস্পষ্ট স্বরে ঠোঁট নাড়িয়ে কি যেন আওড়াতে চাইলে মায়া সেটা বুঝতে পেরে তৎক্ষনাৎ মাথা ঝুঁকে কান পাতলো লোকটির সম্মুখে। অচেনা লোকটি নিভে যাওয়া দুর্বল গলায় বলতে চাইলে....
' আ- আমার.. মি মিষ্টি তা প-প্রয়োজন! আ- আমাকে মিষ্টিও যাতে কিছু দিন মিস!
লোকটির অস্পষ্ট স্বরে কথাগুলো মায়া বুঝতে পেরে মাথা তুলে তাকাল লোকটির দিকে। বেশ অদ্ভুত লাগল লোকটিকে মায়ার কাছে। মাথা ফাটিয়ে রাস্তায় পড়ে আছে, নিজের জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে সেদিকে লোকটার খেয়াল নেই। অথচ সেসব চিন্তা না করে মায়ার কাছে এই অসময়ে মিষ্টি চাইছে? মিষ্টি দিয়ে কী করবে এই লোক?মায়া তখনো বুঝল না হঠাৎ লোকটির মিষ্টি চাওয়ার কারণ তাই শাড়ি আঁচলে লোকটির কপাল চেপে রেখে আগের নেয় বলল মায়া...
' মিষ্টি? মিষ্টি দিয়ে কি করবেন আপনি? আপনার কপালে যা অবস্থা আপনাকে দ্রুত ডাক্তার কাছে না নিলে আপনি আরো অসুস্থ হয়ে পরবেন ভাইয়া। আপনাদের সাহায্য করতে...
মায়া কে বলতে না দিয়ে লোকটি ফের হাঁপিয়ে উঠলো দুর্বল গলায় বলল...
' আমার প্রেসারফল করেছে মিস।সুগার প্রয়োজন।মিষ্টি ব্যবস্থা করুন কুইক।
মায়া চমকে উঠল লোকটির কথায়।সোগার সমস্যা মায়ার বাবারও হয় মাঝে মধ্যে তখন হাতের কাছে মিষ্টি প্রয়োজন হয়। মায়া দূরত্ব নিজের কাঁধের ছোট পাসটা ঘেঁটে একটা কিটকেট চকলেট হাতে নিলো। চকলেটর উপরের কাগজটা ছাড়িয়ে দ্রুত একটুরো চকলেট লোকটার মুখে তুলে দিল।আজ মায়ার ষোলোতম জন্মদিন ছিল। বড় ভাই আরিফের সাথে জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকায়এসেছিল ঘুরতে। বেশ ফুরফুরে সারাটা দিন কাটালো আনন্দ করে। সাথে অবশ্য চাচাতো বোন জুইও ছিল। এই যে অচেনা লোকটা মায়া নিজের চকলেট খাওয়াচ্ছে সেটাও জন্মদিনের উপর পাওয়ার চকলেট দিলে মায়ার।আরিফ দিয়েছিল মায়াকে কাজ। এতক্ষণ যাবৎ মাইয়ার আরিফের সাথে ছিল।দিন গিয়ে সন্ধ্যা হওয়া দারুন সবাই পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছিল বাসায়। কিন্তু পথিমধ্যে হঠাৎ আরিফের চলতে চলতে থেমে যায়। তারপর! তারপর আরিফ গাড়ি চেক করতে গিয়ে বুঝল গাড়ির তেল ফুরিয়ে গেছে সাথে গাড়ির ট্রাইয়ার পাঞ্চার। এজন্য মূলত আরিফ বিপাকে পরে আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া উদ্দেশ্য দিতে চাইল না। বরং ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থেকে গেল।এবং আশেপাশে খুঁজ করে একটা হোটেলের দুটো রুম ও বুকিং করল।একটা নিজের জন্য অন্যটা জুঁই আর মায়ার জন্য। হোটেল থেকে খাওয়া দাওয়া করে বেশ রাতে বোনদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী মার্কেটে বের হয়েছিল আরিফ, অল্পস্বল্প কেনাকাটা করতে কিন্তু মায়া কিভাবে কিভাবে যেন তাদের হতে ছুটে যায় এবং এই অচেনা লোকটি খপ্পরে পরে যায় সাহায্য করতে।
