মার্চ, ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তানের এক ছোট্ট গ্রাম।
সন্ধ্যার আকাশে কালো মেঘ জমেছে। গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে গরুগুলো বাড়ি ফিরছে। পুকুরঘাটে নারীরা কলসি ভরছে। অথচ সবার চোখেমুখে অজানা এক ভয়।
সতেরো বছরের রায়হান উঠোনে বসে বই পড়ছিল। তার বাবা আবদুল কাদের ছিলেন গ্রামের একজন স্কুলশিক্ষক। মা আমেনা বেগম রান্নাঘরে রাতের খাবার তৈরি করছিলেন।
হঠাৎ রায়হান বাবাকে প্রশ্ন করল,
— বাবা, আমাদের দেশ কি কখনো স্বাধীন হবে?
কাদের সাহেব ছেলের দিকে তাকালেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
— হবে বাবা। একদিন এই দেশের মানুষ নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচবে। তবে স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
ঠিক তখনই রায়হানের বন্ধু জামাল দৌড়ে এসে উঠোনে দাঁড়াল।
— রায়হান! ঢাকায় খুব খারাপ অবস্থা। সবাই স্বাধীনতার কথা বলছে!
কাদের সাহেব চিন্তিত হয়ে উঠলেন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ মানুষের মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিল। বাংলার মানুষ তখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়।
রাত বাড়তে লাগল। খাওয়া শেষে রায়হান ঘুমাতে গেলেও তার চোখে ঘুম এল না। জানালার পাশে বসে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, সত্যিই কি একদিন বাংলাদেশ স্বাধীন হবে?
হঠাৎ দূর থেকে কয়েকজন মানুষের চিৎকার শোনা গেল।
— যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে! পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় আক্রমণ করেছে!
কাদের সাহেব দ্রুত বাইরে বেরিয়ে গেলেন। তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আমেনা বেগম ছেলেকে বুকের কাছে টেনে নিলেন।
সেই রাতে কেউ জানত না, আগামী দিনগুলো তাদের জন্য কত কঠিন হতে চলেছে।
রায়হানও জানত না, যে বাবা তাকে সাহসের কথা শোনাতেন, সেই বাবার জীবনেই লুকিয়ে আছে এক গোপন সত্য।
চলবে…
