রাত ১১টা ৪৭ মিনিট।
লুইস ম্যানশনের বিশাল কক্ষটিতে তখন পিনপতন নীরবতা।
কাঁচের দেয়ালের ওপারে ঝলমল করছে জুরিখ শহর। হাতে থাকা হুইস্কির গ্লাসটি টেবিলে নামিয়ে রাখল রাইভেন লুইস। কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো, মুখে বিরক্তির ছাপ, আর ধূসর চোখজোড়ায় এমন এক শীতলতা—যেন পৃথিবীর কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
“Come in.”
অনুমতি পেয়ে ঘরে প্রবেশ করল তার ব্যক্তিগত সহকারী।
“Sir, the girl you're looking for has been found.”
রাইভেনের আঙুলের নড়াচড়া থেমে গেল।
“Name?”
“Mirabel Kyra, sir.”
মেয়েটির নামটি শোনার পর কয়েক সেকেন্ড নীরব রইল সে। তারপর টেবিলের ওপর রাখা ফাইলটি নিজের দিকে টেনে নিল।
ফাইলের প্রথম পাতায় একটি ছবি।
মিরাবেল কায়রা।
সাধারণ একটি ছবি। অথচ রাইভেনের দৃষ্টি সেখান থেকে সরল না।
“Arrange a meeting.”
“Sir, may I ask why?”
ধীরে ধীরে মুখ তুলল রাইভেন। তার ঠোঁটে ফুটে উঠল ক্ষীণ এক হাসি।
“Did I ask you to question me?”
“No, sir. I'm sorry.”
“Then do your job.”
সহকারী ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই রাইভেন আবার ছবিটির দিকে তাকাল।
মেয়েটি জানত না, তার নামটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে এমন একজন মানুষের কাছে, যে কোনো কিছুর পেছনে কারণ না জেনে থেমে থাকার মানুষ নয়।
কিন্তু রাইভেনের কাছে মিরাবেল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ছবির পেছনে লেখা তারিখটির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থমকে গেল সে।
তারপর বহুদিন পর এমন একটি হাসি হাসল, যার অর্থ একমাত্র সে নিজেই জানত।
“Finally, Mirabel.”
একটু থেমে নিচু স্বরে যোগ করল—
“You have no idea what your name means to me.”
চলবে…
