সকাল হয়ে গেছে।
মাহমুদ ভিলায় নতুন দিনের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
রুহি তখনও ঘরেই বসে আছে। নতুন বাড়ি, নতুন মানুষ—সবকিছুই তার কাছে অচেনা। তাই নিজে থেকে নিচে যাওয়ার সাহসও করছে না।
সে চুপচাপ জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
টক টক।
রুহি চমকে দরজার দিকে তাকাল।
— কে?
বাইর থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো,
— আমি জান্নাত। ভিতরে আসতে পারি?
রুহি জবাব দিলো।
—আসো।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা মিষ্টি করে হেসে উঠল।
কয়েক সেকেন্ড রুহির দিকে তাকিয়ে থেকে সে হঠাৎ বলল,
— তুমি আমার ভাবি, তাই না?
রুহি একটু অবাক হয়ে গেল।
তারপর মৃদু হেসে বলল,
— হ্যাঁ।
মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে খুশি হয়ে বলল,
— আমি জান্নাত। তোমার স্বামীর ছোট বোন।
রুহি মাথা নেড়ে বলল,
— তোমাকে কাল ঠিকমতো দেখিনি।
— আমিও না। তাই আজ সকালে সবার আগে তোমাকে দেখতে চলে এলাম।
জান্নাত হেসে ঘরের ভেতরে ঢুকল।
— ভাবি, তুমি এখানে একা বসে আছ কেন?
রুহি একটু ইতস্তত করে বলল,
— নতুন তো... কাউকেই তো চিনি না।
জান্নাত ঘরের চারদিকে চোখ বুলিয়ে বলল।
— ভাইয়া কোথায়?
রুহি ইতস্তত করে বলল।
— আমি ঘুম থেকে উঠে ওনাকে দেখতে পাইনি।
জান্নাত উদাসীন হয়ে বলল।
— রাতে ভাইয়া তোমার সাথে ভালোভাবে কথা বলেছে।
রুহি কিছুক্ষণ চুপ থেকে শুধু বলল।
— হুম।
জান্নাত কথা কাটানোর জন্য বলল।
— এসব কথা থাক।আম্মু তোমাকে এই শাড়িটা দিয়েছে,, তাড়াতাড়ি করে নতুন বউ সেজে আসো।তুমি তাড়াতাড়ি শাড়িটা পড়তে থাকো আমি একটু আসছি।
এই কথা বলে জান্নাত চলে গেল।
জান্নাত নিচে গিয়ে দেখল, ওর ভাই সোফায় বসে চা খাচ্ছে। ও গিয়ে ওর ভাইয়ের সামনে বসলো।
— ভাইয়া তুমি রাতে ভাবিকে কি বলেছ?
সাজ্জাদ কিছু বললো না।
জান্নাত আবার বলল।
— “ ”ভাইয়া অতীত নিয়ে পড়ে থেকো না। বর্তমান নিয়ে ভাবো,, মারজিয়া ভাবি মারা গেছে,, কতদিন হয়ে গেল। এখন তো নিজেকে স্বাভাবিক কর। এখন তোমার জীবনের সাথে আরেকটা জীবন জুড়ে আছে,, এ কথাটা একটু ভাবো।“ ”
সাজ্জাদ এবার মুখ খুললো।
সাজ্জাদ :আমি মাকে বারবার বলেছিলাম,, যে আমি বিয়ে করতে চাই না। তখন কেউ আমার কথা শোনেনি। তাদের তো ছেলের বউ দরকার ছিল, এখন তো তাতে ছেলের বউ আছে। তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুক।
এই কথা বলে ও উঠে চলে গেলো।
চলবে।
