~আমাদের অন্তর সীমার শেষ দিন~
লেখিকা : ✨🕊️ ✿ জিদনি ইসলাম পাখি ✿☺️💫
পর্ব -০১
সূচনা""দুটো বারান্দা,দুটো মানুষ, শেষটা শুধু নীরবতা ""
১৫ তলা ভবনের ৮ তলার এক বারান্দায় একটি মেয়ে গানের সুরে গেয়ে উঠে ;
❝ ওরা গোপন মনের গোপন চেনে না
ওরা হৃদয়ের রং জানে না ❞
❝প্রজাপতি ডানা ছুলো বিবাহ বাসরে
কেনো সারারাত জেগে বাড়ি ফিরে
ভোরে❞
❝ওরা মনের গোপনে চেনে না
ওরা হৃদয়ের রং জানে না ❞
এতোটুকু গান গেয়েই মেয়েটি দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরল ;
❝আহহহ। মাথা পুরো শেষ হয়ে যাচ্ছে ❞
মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে মাথা ব্যথার কারণে সে খুবই বিরক্ত ;
হটাৎ মেয়েটি মা তাকে ডাকলো (রুমের বাহির থেকে)
চলো.....
এখন মেয়েটির সম্পর্কে কিছু কথা বলি
নাম : স্নেহা শেখ
পড়ে : নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ, এবার SSC দিবে
পরিবারের একমাএ মেয়ে
বাবার নাম : শরিফ শেখ
মার নাম : নূরা বেগম
বাবার Business আছে বড়সড়... অনেক ধনী..
মা একসময় টিচার ছিলো....
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় তারা
এবার গল্পে ফেরা যাক...
শরিফ শেখ তার মেয়ের জন্য অনেক গুলো Chocolate নিয়ে এসেছে...
তার মধ্যে ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক (Cadbury Dairy Milk), ফ্রুট অ্যান্ড নাট (Fruit & Nut), রোস্ট অ্যালমন্ড (Roast Almond), হ্যাজেলনাট (Hazelnut), কিটকেট ( Kitkat) আছে
কিন্তু সবাই বেশি ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক (Cadbury Dairy Milk),কিটকেট (Kitkat) বেশি
স্নেহা খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলে
❝আব্বু জান আপনি আমার জন্য এত Chocolate নিয়ে এসেছেন ❞
❝অবশ্যই আম্মাজান ❞
❝Thanks a lot আব্বাুজান ❞
❝Most welcome princess ❞
❝আমি রুমে গেলাম ❞
❝যাও আম্মু কিন্তু Chocolate খাওয়ার পরে অবশ্যই দাতঁ ব্রাশ করো হুম ❞
❝Okh ❞
তারপর স্নেহা তার রুমে চলে যায় আর শরিফ শেখ ক্লান্ত শরীল নিয়ে তার রুমে চলে যায়।
রুমে দিয়ে তিনি নূরা বেগমকে ডাক দিলো
নূরা বেগন কিচেন থেকে উওর দেয়
❝ স্নেহার আম্মু..... ❞
❝আসছি ❞
নূরা বেগম রুমে গেলে,
❝ আমার অনেক ক্লান্ত লাগছে আমাকে একটা লাল চা দেও❞
❝জি দিচ্ছি ❞
এই বলে নূরা বেগম পুনরায় কিচেনে চলে যায়
অন্যদিকে, স্নেহা রুমে গিয়ে Chocolate গুলো তার পড়ার টেবিলে থাকা Mini freeze -যে রেখে দেয় এই mini freeze -টা তার Chocolate রাখার জন্য দিয়েছে তার বাবা।
সময় রাত ১১:৩৭ রাতে খাবার শেষ করে শরিফ শেখ আর তার স্ত্রী নূরা বেগম ঘুমাছে, স্নেহাও তার পড়ার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়েছে গল্পের বই পড়তে পড়তে। গল্পের বই পড়া তার অভ্যাস। স্নেহা সময় পেলে সবার মতো TV,Phone, চালিয়ে সময় পার করে না, তার সময় পার করার সঙ্গী গল্পের বই Class -7 থেকে....।
সকাল ৮ টা বাজে। শরিফ শেখ অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পরেছেন। স্নেহা স্কুলে। এখন পুরো ফ্ল্যাটে নূরা বেগম আর কাজের মেয়ে অথোই আছে। সোফায় স্নেহার বিড়াল Skypi ঘুমাছে তার খাবার খাওয়ার শেষ তাই।
Skypi female cat . ২০২৩ সালের ১৩ই মে ওকে ৩৫৫০০ টাকা দিয়ে কিনে শরিফ শেখ তার এক মাএ মেয়েকে gift করেছিলেন। এখন সেই বিড়াল তার মেয়ে প্রতিদিনের ভালোবাসা...🥰
দুপুর ২: ১২ বাজে স্নেহা মাএ স্কুল থেকে ফিরে ফ্রেশ হতে গেছে। তারপর অথোই তাকে দুপুরের খাবার দেয়, নূরা বেগম দুপুরের ঘুম দিয়েছে।
ওহ..! স্নেহা গল্পের বই পড়া ছাড়াও আরেকটা জিনিস খুব পছন্দ করে সেটা হলো.."গান গাওয়া"
গান গাওয়া তার খুব পছন্দ। সে প্রতিদিন বিকেল বেলা বারান্দায় বসে বসে গান গায় সাথে গল্পের বইও পড়ে। অনেক সময় তার মাও তার সাথে গান গায়।
খাবার খাওয়া শেষ করে স্নেহা তার ট্যাব নিয়ে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়ে... ট্যাব -এ Shin-chan এর Video চালিয়ে দেখতে থাকে। এত বড় হওয়ার পরও স্নেহা এখনোও Carton দেখতে দেখতে দুপুরে ঘুমিয়ে যায়।
প্রতিদিনের মতো স্নেহা আজ বিকেলেও গান গাওয়ার জন্য বারান্দায় যায়, কিন্তু সে দেখতে পায় তার বারান্দার পাশের বারান্দায় একটা যুবক দাঁড়িয়ে আছে। স্নেহা যুবকটাকে দেখে বেশ অবাক হয়। কারন তাদের পাশের ফ্ল্যাটে তো যারা থাকে তাদের মধ্যে এই লোকটাকে সে কখনো দেখেনি...
যাই-হোক যুবকটা এখনো তাকে দেখনি আর সেও তার মুখ দেখেনি।কারন যুবকটা অন্যদিক করে দাঁড়িয়ে আছে, দেখে মনে হচ্ছে লোকটার কানে Bluetooth headphone লাগানো..।
না হলে কি সে এত সময় ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছে,গাছে পানি দিচ্ছে সেটা আলাপ পাবে না!
স্নেহা বারান্দা থেকে চলে আসে। আসার সময় বারান্দার দরজাটা খুব জোরে শব্দ করে লাগায় রাগের কারনে। সে আজকে এই যুবকের কারনে গান গাইতে পারলো না তাই।
তারপর,
স্নেহা তার মায়ের কাছে গেলো। তার মায়ের সাথে গল্প করার জন্য। গল্প করার এক পর্যায় নুরা বেগম স্নেহা কে বললো:
❝রানী জানিস? পাশের ফ্ল্যাটের সেলিমা আপার ছেলে এসেছে জাপান থেকে ❞
স্নেহা নুরা বেগমের কথা শুনে বুঝতে পারে সে যেই লোকটাকে দেখেছে তার কথাই বলছে তার মা।
সেই মুহূর্তে গান গাইতে পারে নি তার জন্য মনে হতেই স্নেহা জোরে বিরক্তি কন্ঠে বলে :
❝ কেনো আসছে আম্মু❞
❝আপা বলবো তো ছেলেকে দূরে রাখবে না। একটা ছেলে তাদের তাই।❞
❝হুহহহ❞
❝ কি হইছে? কিছু খাবি?❞
❝ নাহ আম্মু। শুনো আম্মু ❞
❝ বল ❞
❝ কালকে আমি তিশার সঙ্গে মার্কেটে যাবো বিকেলে❞
❝ ঠিক আছে। সমস্যা নেই। কিন্তু গাড়ি নিয়ে যাবে ❞
❝হুম.. আম্মু ঠিক আছে ❞
তারপর স্নেহা টিভি দেখতে বসে।আর নুরা বেগম চলে যায় কিচেনে। স্নেহা চিৎকার করে বলে
❝ আম্মু আমার জন্য একটা চিকেন সুপ বানিয়ে দেও❞
❝ঠিক আছে, দিচ্ছি। ❞
wait a second, আপনারা কি খেয়াল করছেন নুরা বেগম রানী বলে ডাকেছে স্নেহাকে... হুম। নুরা বেগম তার এক মাএ মেয়েকে রানী বলে ডাকে মাঝে মধ্যে ভালোবেসে।
আর, আর তিশা কে? স্নেহার bff?
নাহ bff না। তিশা স্নেহার Cc frd।
স্নেহা কথামত ঠিক পরের দিন মার্কেটে যায় তিশার সঙ্গে। স্নেহা অনেক কিছু কিনেছিলো। তার ড্রাইভারের কাছে অনেক গুলো ব্যাগ ছিলো আর তার কাছেও। স্নেহা তিশার সাথে কথা বলতে বলতে আসার কারনে সামনে থেকে যে একটা সাদা রংয়ের বাইক আসছে দেখতেই পায়নি।হটাৎ বাইকের সাথে তার ধাঁকা লাগে। সব ব্যাগ পরে যায় রাস্তায়। বাইক এক্সিডেন্ট হওয়ার পর স্নেহার বেশি একটা ক্ষতি হয় নাই। স্নেহা উঠে দাঁড়িয়ে বাইক চালানো যুবকটার হেলমেট খুলে নেয় কিছু না বলেই।
হেলমেট নিজের হাতে রেখেই যুবকটাকে অনেক কথা বলতে থাকে স্নেহা...
❝আপনার কি চোখ নেই!! বাইক মানুষের গায়ে উঠিয়ে দিচ্ছেন। ❞
কিন্তু কিন্তু যুবকটা তাকিয়ে আছে স্নেহার দিকে। স্নেহাকে কোনো কথা বলে না সুঠাম দেহের যুবকটা। তারপর স্নেহা তার বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে স্নেহা ঘুমিয়ে পরে ক্লান্ত শরীল নিয়ে।বিকেলে ঘুম থেকে উঠে সে।
ঘুম থেকে উঠার পরে স্নেহা ও তার মায়ের কথোপকথন :
❝আম্মু ভালো লাগছে না ❞ ( জরিয়ে ধরে বলে তার মাকে)
❝হুম...তাই।❞
❝হুম...❞
❝শুন❞
❝হুম ❞
❝একটু পরে পাশের ফ্ল্যাটে যাবি। সেলিমা আপা দাওয়াত দিয়ে গেছে। ❞
❝আমি যাবো নাহ❞
❝নাহ যেতে হবে। আপা অনেক করে বলে গেছে। বেশি সময় তোর থাকা লাগবে না। গিয়ে একটু কথা বলে চলে আসবি ❞
❝ওটাই তো... আমার দ্বারা কথা বলা হবে নাহ। আর আমি তো কখনো তাদের সাথে কথা বলিও নি।তুমি যাও আম্মু আমি যাবো নাহ...❞
❝আরেহ.. আমি বলছি যখন যাবি এর মানে যাবি। শেষ কথা।যাহ এখন রেডি হ ❞
❝হুহ..উহুহ..❞
স্নেহা চলে যায় তার রুমে।
স্নেহা বিরক্তিকর মুখ করে বসে আছে সেলিমা বেগমের পাশে।এই সময় সেলিমা বেগমের ছোট মেয়ে আসে। সেলিমা বেগম তার মেয়েকে দেখে বলে:
❝এই রিদানের চামচা এদিকে আয়।স্নেহাকে সাথে নিয়ে গল্প কর যাহ।❞
❝আম্মু Don’t call me রিদানের চামচা।Just call me দিরা রহমান শাফা 😏❞
❝তুই যাবি এখান থেকে!!!❞
মায়ের এমন চিৎকার শুনে ভিতরের একটি রুম থেকে এক পুরুষালী কন্ঠে বলে উঠে :
❝রাফা তুই আমার রুমে আয়। একটু পরে তুই মাইর খাবি❞
(পুরুষটি দিরাকে তার দুই নাম মিলিয়ে রাফা ডাকে)
দিরা স্নেহাকে নিয়ে চলে যায় সেই রুমে। রুমে বিছানায় একটা যুবক শুয়ে আছে । এমন ভাবেই শুয়ে আছে যে যার কারনে যুবকটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। দিরা স্নেহাকে নিয়ে সেই রুমের বারান্দায় গিয়ে বসে।স্নেহা বারান্দা টি দেখে বুঝে যে সে যাকে তার বারান্দা থেকে দেখে ছিলো এটা তারই রুম।স্নেহা মনে মনে বলে:
❝হুম রুম যেহেতু পেয়েছি তাহলে ব্যাক্তির মুখটাও দেখেই নিবো..☺️❞
চলবে......?
