THE BLACK BILLIONAIRE
পর্ব ১: সাম্রাজ্যের শুরু
ঢাকা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলে। কেউ চাকরির পেছনে, কেউ জীবিকার জন্য, আবার কেউ এমন এক স্বপ্নের পেছনে, যার মূল্য কোটি টাকা।
আরিয়ান রহমান ছিল তেমনই একজন।
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আরিয়ানের কাছে বড় কোনো সম্পদ ছিল না। ছিল সামান্য পুঁজি, ব্যবসা সম্পর্কে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং একটা জেদ—একদিন সে নিজের কোম্পানি গড়বে। এমন কোম্পানি, যার নাম শুনলে দেশের বড় ব্যবসায়ীরাও তাকে চিনবে।
মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে সে অফিসের স্টেশনারি ও বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেছিল। প্রথম দিকে লাভ খুব সামান্য হতো। কখনো ক্রেতারা সময়মতো টাকা দিত না, কখনো পণ্যের দাম বেড়ে যেত। তবু আরিয়ান প্রতিদিন আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখে রাখত।
দুই বছরের মধ্যে তার ব্যবসা একটু বড় হলো। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তার কাছ থেকে পণ্য কিনতে শুরু করল। সে বুঝতে শিখল, ব্যবসায় শুধু বেশি বিক্রি করলেই ধনী হওয়া যায় না। নগদ টাকা, পাওনা, খরচ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুর হিসাব রাখতে হয়।
একদিন সকালে তার ছোট অফিসে একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নামলেন রাশেদ করিম। দেশের পরিচিত ব্যবসায়ীদের একজন। তার মালিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠান, বিশাল অফিস এবং বহু কর্মচারী।
রাশেদ অফিসে ঢুকে চারপাশ দেখে বললেন, “তোমার ব্যবসা ছোট, কিন্তু তোমার হিসাব রাখার পদ্ধতি ভালো। কখনো বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার কথা ভেবেছ?”
আরিয়ান কিছুটা অবাক হলো।
“অবশ্যই ভেবেছি, স্যার। কিন্তু বড় অর্ডার নেওয়ার মতো পুঁজি এখনো নেই।”
রাশেদ চেয়ারে বসে একটি ফাইল খুললেন।
“আমার কোম্পানির কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য সরবরাহকারী দরকার। তুমি কাজটা পেতে পারো। তবে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে হবে।”
আরিয়ানের চোখে নতুন স্বপ্ন জ্বলে উঠল। এই চুক্তি পেলে তার ব্যবসার আকার কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
কিন্তু রাশেদ ফাইলটি এগিয়ে দেওয়ার সময় একটি শর্ত যোগ করলেন।
“কিছু আর্থিক দায়িত্বও তোমাকে নিতে হবে। সবকিছু চুক্তিতে লেখা আছে। ভালো করে পড়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে।”
আরিয়ান ফাইলটি হাতে নিল। প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা স্বাভাবিক মনে হলেও শেষের দিকে কিছু শর্ত তার কাছে পরিষ্কার হলো না।
সে বলল, “স্যার, চুক্তিটা আমার হিসাবরক্ষক ও আইনজীবীকে দেখিয়ে নিতে চাই।”
রাশেদের মুখের হাসি মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
“ব্যবসায় বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ, আরিয়ান। তবে তুমি চাইলে দেখে নিতে পারো।”
কথাটি স্বাভাবিক শোনালেও রাশেদের চোখে যেন অন্য কিছু লুকিয়ে ছিল।
আরিয়ান তখনো জানত না, এই চুক্তিই একদিন তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার কারণ হবে।
সেদিন রাতে অফিসে একা বসে সে ফাইলটি আবার খুলল। শেষ পৃষ্ঠার নিচে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পেল, যার সঙ্গে তার কোনো পরিচয় ছিল না।
নামটি ছিল—ব্ল্যাকস্টোন হোল্ডিংস।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ঢাকার একটি অভিজাত বাণিজ্যিক ভবন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, কাগজপত্রে এর আর্থিক দায়িত্ব সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ ছিল, যা পুরোপুরি বুঝতে আরিয়ানের আরও সময় দরকার।
সে ফাইল বন্ধ করে নিজের খাতায় লিখল—
“বড় সুযোগ মানেই বড় লাভ নয়। আগে বুঝতে হবে, আমি আসলে কীসের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছি।”
তারপর সে ফোন হাতে নিয়ে হিসাবরক্ষককে কল করল।
পরদিন সকালেই চুক্তির প্রতিটি পৃষ্ঠা পরীক্ষা করা হবে।
আর অন্যদিকে, নিজের বিলাসবহুল অফিসে বসে রাশেদ করিম কাউকে ফোন করে বললেন—
“ছেলেটা চুক্তিটা পড়ছে। দেখি, কত দূর পর্যন্ত বুঝতে পারে।”
ফোনের ওপাশ থেকে একটি কণ্ঠ উত্তর দিল,
“আর যদি সব বুঝে ফেলে?”
রাশেদ জানালার বাইরে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন,
“তাহলে পরিকল্পনা বদলাতে হবে।”
চলবে…
পরবর্তী পর্ব: বিশ্বাসের চুক্তি
