গল্প : আমার একমুঠো সুখ
লিখিকা : মারুফ
পর্ব : ২
রাতের আঁধার পেরিয়ে দিনের আলো ফুটলো। সুজ্জি মামা সেই ভোরেই মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে গোটা ধরণীতে নিজের তেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বেশ গরম আজ, এসি চলছে। বিছানায় ঘুমিয়ে আছে সুব্রতা। এই নিয়ে বেশ ক’বার এলার্ম বেজেছে। বারবার বন্ধ করে বালিশে মুখ গুজে ঘুমিয়েছে সুব্রতা। সকাল ৭টা বেজে ৫২ মিনিট, ফের এলার্ম বাজছে। এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলো সুব্রতার। এক চোখ মেলে দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। হাত বাড়িয়ে এলার্ম ঘড়িটা বন্ধ করে উঠে বসলো সে। এবার না উঠলে ভার্সিটি যেতে দেরি হয়ে যাবে। হাই তুলতে তুলতে নেমে দাঁড়ালো বিছানা থেকে। বালিশের পাশ থেকে অ্যালবামটা নিয়ে বুকশেলফে রেখে এল। একেবারে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে ডাইনিং-এ এল। ফারহানা চৌধুরী, আলিনা, সাদাব সবাই আছে। ওর বাবা আরীজ চৌধুরী বাড়িতে নেই। জরুরি কাজে কোথায় যেন গিয়েছেন।
চেয়ার টেনে বসতেই সাদাবের গমগমে কণ্ঠস্বর কানে এল— ‘তোক নাকি কোন ছেলে বিরক্ত করে সুব্রতা? আজ ভার্সিটিতে যাবো তোর সাথে। ওই ছেলের চোখ দুটো উপরে দিয়ে আসবো।’
কণ্ঠে রাগ স্পষ্ট। সাদাব রেগে আছে, যার ফলে চোখজোড়াও লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
সুব্রতা বলে উঠলো— ‘তার প্রয়োজন নেই ভাইয়া। এখানেই আছি তো আমি ক’দিন। এক্সাম শেষেই তো দেশে চলে যাবো। শুধু শুধু ঝামেলা করার দরকার নেই।’
সাদাব কিছু বলবে কিন্তু তার আগেই ফারহানা চৌধুরীর চোখে ইশারায় থেমে গেল সে। সুব্রতা দ্রুত খাওয়া শেষ করে আলিনাকে বললো— ‘ভাবী চা দাও তো। চা না খেলে একটা ক্লাসেও ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারবো না।’
আলিনা কেটলি থেকে চা ঢেলে এগিয়ে দিল। সুব্রতা আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই সাদাব ফের বলে উঠলো— ‘আজ সন্ধ্যায় আয়াদের সঙ্গে দেখা করতে যাবো আমরা। রেডি হয়ে থাকিস।’
সুব্রতা ছোট ছোট চোখে চাইল সাদাবের দিকে। অবাক স্বরে বলে উঠলো— ‘উনি দেখা করবেন? উনি নিজেও তো এতদিন চায়নি। আর আমিও চাই না এখনই এসব নিয়ে ভাবতে। এক্সাম শেষ হলে দেশে ফিরে ওনার সঙ্গে দেখা করবো ভাইয়া।’
সাদাব প্রশ্ন ছুড়লো— ‘তুই আদৌ আয়াজকে বিয়ে করতে রাজি তো মন থেকে? নাকি পরিবারের কথায়?’
জীবনের সবচেয়ে বড় সেই সিদ্ধান্তটা সুব্রতা নিজে ভেবে-চিন্তেই নিয়েছে ভাইয়া। সুব্রতা অন্য মেয়েদের মতো নয়। সে যথেষ্ট বোঝে, তাই এ নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। কথাটা বলেই সুব্রতা বেরিয়ে গেল বাসা থেকে।
আর তো কয়েকটা দিন। তারপর থেকে আর ওই ছেলের মুখদর্শন আর করতে হবে না। আর না ওই ছেলের ওর সামনে এসে ভালোবাসার কথা বলতে পারবে। বেশ শিক্ষা হবে ছেলেটার। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই সুব্রতা এগিয়ে চললো ভার্সিটির দিকে।
অফিসে নিজের কেবিনে বসে কাজ করছে আয়াজ। কিবোর্ডে টাইপিং করতে করতে হঠাৎ আঙুল নেমে গেল। আয়াজ চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিল। ভালো লাগছে না কিছুই। বাবা সকাল থেকে আরও বেশ ক’বার কল দিয়েছে। আয়াজ ধরেনি। ওর বিয়ে নিয়ে বেশ সিরিয়াস মানহাস চৌধুরী। মনে হচ্ছে এবার ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়ে ছাড়বে বাবা-মা।
[এখন একটি অ্যাড চলবে। আপনারা চাইলে স্কিপ করতে পারেন। আজকে আমি আপনাদেরকে সবচেয়ে বিশ্বস্ত বুকমেকার 1XBET সম্পর্কে বলতে চাচ্ছি, যেটি পিএসজি এবং সিরিয়ার অফিশিয়াল পার্টনার। ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গিয়েছে, এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুযোগ আপনার প্রিয় দলকে সমর্থন করেন। এই অ্যাপে আপনি ক্রিকেট ফুটবল টেনিস লাইভ ম্যাচ দেখতে এবং তাদের স্কোর ভবিষ্যৎবাণী করেই সহজেই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। সেই সাথে বিএমডব্লিউ গাড়ি আইফোন ল্যাপটপ এবং আরো অনেক নগদ পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাপটিতে আপনি ক্র্যাশ ক্রিস্টাল আন্ডার এন্ড ওভার টোয়েন্টি ওয়ান ইত্যাদি গেম খেলে সহজেই আয় করতে পারবেন। সাইনআপ করার সময় আমার প্রচার কোড 1XMARU ব্যবহার করে আপনার প্রথম জমাতে 24 হাজার টাকা পর্যন্ত পান। আপনি বিকাশ নগদ রকেট উপায় ব্যাংক ক্রিপ্টো পেপল এবং অন্যান্য সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই আপনার জেতা টাকা তুলতে পারবেন। এখানে আপনি 24 ঘন্টা সাত দিন গ্রাহক সহায়তা পাবেন তাই গুগলে 1X সার্চ করে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন আর রেজিস্ট্রেশনের সময় অবশ্যই আমার প্রচার কোড 1XMARU ব্যবহার করে প্রথমবার ডিপোজিটে 24 হাজার টাকা পর্যন্ত পান।]
আয়াজ চোখ বুঝে নিল। চোখের সামনে ভেসে উঠলো প্রিয় রমণীর মুখখানা। মেয়েটাকে ভুলে অন্য কাউকে বিয়ে করা আয়াজের পক্ষে সম্ভব নয়। দু’বছরে মেয়েটা ওর মন-মস্তিষ্ক সবটা দখল করে নিয়েছে। আয়াজের ভীষণ ইচ্ছা করছে একটাবার সুব্রতাকে দেখতে। চোখ মেলে ঘড়িতে সময় দেখে উঠে দাঁড়ালো আয়াজ। বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। গাড়ি নিয়ে রওনা হলো সুব্রতার ভার্সিটির দিকে।
ভার্সিটির রাস্তার অপর পাশের রাস্তায় গাড়ি পার্ক করে একটা গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। সুব্রতা একটু পরেই বেরোবে। ওর ভার্সিটির সময় জানে আয়াজ। এ দু’বছর ধরেই এখানেই ওকে দেখতে আসে। তাছাড়া এক-দু’বার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্যান্য জায়গা দেখা হয়ে গেছে। তবে আয়াজ কখনোই সুব্রতাকে ফলো করেনি কিংবা ওকে বিরক্ত করেনি।
আয়াজ দাঁড়িয়ে চেয়ে আছে ভার্সিটির গেটের দিকে। প্রায় ১০ মিনিট পর সুব্রতা বেরিয়ে এল। আয়াজকে দূর থেকেই দেখেই সুব্রতার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে এগিয়ে আসে। সুব্রতাকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ভুরু কুচকে যায় আয়াজের। যে-মেয়ে সবসময় ওকে দেখলেই বিরক্ত হয়ে চলে যায় দ্রুত, সে-মেয়ে ওর কাছে আসছে? এটা যেন বিশ্বাস হচ্ছে না আয়াজের।
আয়াজ দেখেই যাচ্ছে সুব্রতাকে। সাদা রঙের থ্রি-পিস পরিহিত মেয়েটা ধীরে-সুস্থে রাস্তা পেরিয়ে এদিকটায় এল। ওর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বা হাতের অনামিকা আঙুলটা ওর সামনে ধরে বললো— ‘দেখুন তো তানভীর, এটা কি?’
আয়াজ তাকালো। হীরার একটা আংটি জ্বলমল করছে সুব্রতার আঙুলে। কিছু বললো না। সুব্রতা ফের বলে উঠলো— ‘এটা কিসের আংটি জানেন? আমার এনগেজমেন্টের। আমার বিয়ে কিছুদিন পর। সুতরাং আমার পিছু ঘুরে আপনাদের লাভ নেই।’
আয়াজ দু’সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললো— ‘এসব বলে লাভ নেই, ভালোবাসি আপনাকে আমি। সারাজীবন আপনাকেই ভালোবাসবো। আর আপনি আমারই হবেন।’
সুব্রতা উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। ‘শুধু শুধু এসব ভেবে নিজের লাইফটা একটা মেয়ের পেছনে নষ্ট করছেন। আমি কখনোই আপনার হব না। কারণ আমি আমার কাজিনকে ভালোবাসি। তার সাথে আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। কিছুদিন পর আমাদের বিয়ে। আপনি চাইলেও কিছু করতে পারবেন না। তাই আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাদ দিন তানভীর।’
আয়াজ চুপ করে রইলো। সুব্রতা ওর কাজিনকে ভালোবাসে? এনগেজমেন্টও হয়ে গেছে? কিন্তু কখন? গতকাল?
আয়াজকে ভাবতে দেখে সুব্রতা ফের বলে উঠলো— ‘কি ভাবছেন? কখন এনগেজমেন্ট হয়েছে? গতকাল সন্ধ্যায়। আমাদের দুই পরিবারের সবাই হ্যাপি। সবচেয়ে বেশি হ্যাপি আমি। কারণ যাকে ভালোবাসি, তাকে নিজের করে পাবো।’
আয়াজের চেহারায় আঁধার নেমে এল। বুকটায় যেন অদৃশ্য ফাটল ধরেছে। ভালোবাসার মানুষটার কণ্ঠে অন্য কারোর নাম শুনতেই প্রচ- কষ্ট হচ্ছে। আয়াজের ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মনে মনে ভীষণ হাসি পেল সুব্রতার।
সে আর কিছু না বলেই ঠোঁটের কোণে গাজালানো হাসিটা ঝুলিয়ে আয়াজের সামনে থেকে চলে এল। আয়াজ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুব্রতার দিকে। মনের ভেতর বিষণ্ণতার ঝড় উঠেছে। তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। এক পা দু’পা করে পিছিয়ে গেল আয়াজ। গাড়িতে উঠেই ফুল স্পিডে স্টার্ট দিল। নিজের ফ্ল্যাটে এসে গায়ে শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেললো বিছানায়। ফর্সা চেহারা লাল হয়ে আছে। চোখ টলমল করছে। অসহ্য লাগছে সবকিছু। ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে বুকের ভেতরটায়। ভালোবাসার মানুষটার বিয়ে হয়ে যাবে অন্য কারোর সাথে! এতগুলো দিন ধরে যাকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন বুনেছিল, সে-মানুষটা অন্য একজনের হয়ে যাবে? এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আয়াজ।
ফোন বেজে উঠতেই পকেট থেকে বের করলো আননোন নাম্বার। রিসিভ করলো আয়াজ। ওপাস থেকে ভেসে এল একজনের কণ্ঠস্বর— ‘হ্যালো! সাদাব চৌধুরী বলছি। তোমার কাজিন?’
আয়াজ নড়েচড়ে বসলো। আরীজ চৌধুরীরা বিদেশে আসার পর থেকে মানহাস চৌধুরী দের সঙ্গে কথা হলেও আয়াজের সঙ্গে সাদাবের কথা হয়নি। দূরত্বের কারণে ওদের কাজিনদের মধ্যে তেমন কথপোকথন হয় না বললেই চলে। তাছাড়া আয়াজ অন্যরকম। সবসময় নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এসবেই ব্যস্ত থাকত। তবে সাদাবের নাম শুনে মনে পড়লো। গলা স্বাভাবিক করে বললো— ‘জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন ভাইয়া?’
‘ভালো। তুমি তো আমাদের সঙ্গে দেখাও করতে চাচ্ছো না আয়াজ। অথচ কিছুদিন পর আমার বোনের সাথে তোমার বিয়ে। আসলে আমি ভীষণ ব্যস্ত ভাইয়া। আজ যদি ফ্রি থাকো তবে সন্ধ্যায় দেখা করি।’
‘সরি ভাইয়া, আজ তো পারব না। অফিসের কাজে ব্যস্ত।’
‘আচ্ছা, ফ্রি হয়ে জানিও আমায়।’
আয়াজ হ্যা বলে ফোন কেটে ফোনটা ছুড়ে মারলো বিছানায়।
অসহ্য লাগছে সবকিছু। যাকে চিনি না জানি না, তার সাথেই ওর বিয়ে দিতে চাইছে পরিবারের সবাই। অথচ যাকে ভালোবাসে সে-মানুষটা তাকে বুঝলোই না! উল্টো তার বিয়ে হয়ে যাবে অন্য একজনের সাথে! আয়াজের ভীষণ বিরক্ত লাগছে। একদিকে ওর কাজিনের সাথে বিয়ের কথা ভেবে রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে, অন্যদিকে সুব্রতাকে না পাওয়ার যন্ত্রণায় ভেতরটা ছটফট করছে। আয়াজের ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। সুব্রতার বলা প্রত্যেকটা কথা কানে বাজছে। যন্ত্রণা হচ্ছে ভেতরটায়। মাথা চেপে ধরে আয়াজ ওশরুমের দিকে পা বাড়ালো।
শাওয়ার অন করে বসে পড়লো। পানির ধারাটা ভিজিয়ে দিতে লাগল যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা একলা প্রেমিককে। সুব্রতা বাড়ি ফিরে এসেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করলো। আয়াজকে কথাগুলো বলতে পেরে মনটা আজ বেশ ফুরফুরে। তখন বিকেল, রুমে পড়ার টেবিলে বসে কিছু লিখছিল সুব্রতা। দরজায় করা নাড়ার আওয়াজে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল। আলিনা এসেছে। হাতের ছোট ট্রেতে করে দু’জনের জন্য চা নিয়ে। সুব্রতা হাসি-হাসি মুখ করে ধন্যবাদ জানিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিল। আলিনা বিছানায় বসতে বসতে জিজ্ঞেস করলো— ‘তোমায় আজ বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে। কোনো ভালো খবর আছে কি সুব্রতা?’
সুব্রতা হাসতে হাসতে বললো— ‘আজকে ওই ছেলেকে একদম উচিত শিক্ষা দিয়ে এসেছি ভাবি। আশা করি এবার আমার পিছু ছেড়ে দিবে।’
‘কি করেছ?’
সুব্রতা হাতের আংটিটা দেখিয়ে বললো— ‘জন্মদিনে ভাইয়ার দেওয়া এই আংটিটা দেখিয়ে বলেছি, আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। আমার কাজিনকে ভালোবাসি আমি আর তাকেই বিয়ে করব। জানো ভাবি, তখন ওই ছেলের চেহারাটা জাস্ট দেখার মতো ছিল। বেচারা নিশ্চয়ই আমার শোকে এখন অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।’
সুব্রতার কথাগুলো শুনেই আলিনা হেসে উঠলো। ‘বাপরে! তুমি তো দেখছি সেই লেভেলের চাল খাটিয়েছ। যাকে এখনো অব্দি দেখোইনি, তাকে ডিরেক্ট ভালোবাসো বলে এসেছ? ইউ আর গ্রেট সুব্রতা!’ বলেই হাত মেলালো দু’জন।
আলিনা আর সুব্রতা খুব ক্লোজ। বয়সের পার্থক্যও বেশি নাই। সুব্রতা অল্পভাষী, খুব কম কথা বলে। অপরিচিতদের সাথে প্রয়োজন ছাড়া একটা বাক্যও ব্যয় করে না। তবে পরিচিত কাছের মানুষদের সাথে সে খুবই ক্লোজ। স্বভাবে কিছুটা রাগিও। ওর রাগ সম্পর্কে বাড়ির সবারই ধারণা আছে। তাই তো আয়াজের সাথে বিয়ে ঠিক করার পর এ ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহ প্রকাশ না করার ফলে সবাই ভেবেছিল সুব্রতা এ বিয়ে নিয়ে রাজি নয়। আয়াজের মুখোমুখি হলে যদি রাগ দেখে বিয়ে ভেঙে দেয়, তবে তো অসম্মান হবে ওনাদের। এ কথা ভেবে ফারহানা চৌধুরী ভেবেছিলেন বাংলাদেশ যাওয়ার আগে ভালোভাবে সুব্রতাকে জিজ্ঞেস করে তবেই নিয়ে যাবেন। কিন্তু কাল সুব্রতা নিজেই বলে দিয়েছে আয়াজকে বিয়ে করতে ওর কোনো আপত্তি নেই। এটা শোনার পর সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।
চলবে...!
